,

image-486905-1636835867

দেড় মাসব্যাপী কর্মসূচি চূড়ান্ত জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সারা দেশে বিএনপি ২০ দিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করছে। এবার কেরোসিন, ডিজেল, এলপি গ্যাস ও যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে মাঠে নামছে। দেড় মাসব্যাপী কর্মসূচি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন পৃথকভাবে পালন করবে। এজন্য আগামী কাল থেকে শুরু করে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত লিফলেট বিতরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় কোটি লিফলেট বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানোর টার্গেট রয়েছে। বিএনপির এক যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে জনসম্পৃক্ত এ কর্মসূচিকে ‘প্রাথমিক ধাপ’ হিসাবে দেখছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। যা সফলভাবে পালন করতে জেলা নেতাদের কাঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালনে এবার জেলা কমিটির সক্রিয় ভূমিকা দেখতে চায় হাইকমান্ড। এজন্য তাদের ঢাকায় না থেকে নিজ জেলার মূল দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে জনগণের হাতে হাতে লিফলেট পৌঁছানোর বিষয়ে কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে। কর্মসূচি সফলভাবে পালন করা না হলে জেলা কমিটির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াও হতে পারে। একইভাবে তা সফল করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ ীয় কমিটিকে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা করে বিএনপি। এতে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়- কেরোসিন, ডিজেল, এলপি গ্যাস ও যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দেশের সব ইউনিয়ন, পৌর, থানা, উপজেলা ও মহানগরে লিফলেট বিতরণের।

সারা দেশে সোমবার থেকে পাঁচ দিন এ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এ ছাড়া ২৪ নভেম্বর থেকে তিন দিন যুবদল, ২৬ নভেম্বর থেকে তিন দিন কৃষক দল, ২৯ নভেম্বর থেকে তিন দিন স্বেচ্ছাসেবক দল, ৩ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন ছাত্রদল, ৫ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন মুক্তিযোদ্ধা দল, ৮ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন ওলামা দল, ১১ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন মৎস্যজীবী দল, ১৭ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন জাসাস, ২০ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন তাঁতী দল, ২৩ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন মহিলা দল ও ২৬ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন শ্রমিক দল সারা দেশে লিফলেট বিতরণ করবে। এছাড়া একই ইস্যুতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচি কবে পালন করা হবে তা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের লোকজনের পকেট ভারী, ব্যবসা বৃদ্ধি, বাড়তি মুনাফার জন্য কেরোসিন, ডিজেল, এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এসবের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। মানুষ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আগে থেকে হিমশিম অবস্থায় ছিল। সাধারণ মানুষের ওপর এ নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, জনগণের দল। তাই সরকারের এসব গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচি চলছে। আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, সম্প্রতি বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে স্থায়ী কমিটিতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়।

এর মধ্যে অন্যতম হলো-বর্তমান সরকারকে সরাতে আন্দোলনই একমাত্র পথ। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের এক দফা দাবিতে সেই আন্দোলন হবে। তবে কী ধরনের কর্মসূচির ভিত্তিতে আন্দোলন সফল হবে, কখন ঘোষণা করা হবে-তা নিয়ে কাজ চলছে। চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে মাঠে নামারও সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে কিছু কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি। এখন জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে সারা দেশে লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে প্রাথমিক ধাপ বলা যায়। ইউনিয়ন, থানা, পৌর, উপজেলা পর্যায়ে জনগণের হাতে হাতে এ লিফলেট দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় কোটি লিফলেট বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানোর টার্গেট রয়েছে। এতে খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের কথাও উল্লেখ থাকবে। এ ছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও বর্তমান সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্যের পার্থক্যের তালিকা দেওয়া হবে। থাকবে দুই আমলের জ্বালানি তেল ও গ্যাসেরও দাম। যাতে করে জনগণ বুঝতে পারে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসবের দাম কত অসহনীয় পর্যায়ে আছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম  বলেন, জনগণের আজকে নাভিশ্বাস উঠে গেছে। গ্রামগঞ্জে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষক। একই দ্রব্য আবার শহরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সর্বত্র একটা অব্যবস্থাপনা চলছে। সাধারণ মধ্যবিত্তের অবস্থা আরও করুণ। সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। তিনি আরও বলেন, দলের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ করা হবে। নতুন নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে। দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ডিজেল-কেরোসিন তেলসহ জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রচারণা করা হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, দেশে বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে না। কারণ জনগণের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা থাকে। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এজন্য জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আজকে সব জায়গায় নৈরাজ্য চলছে। ভয়াবহ দুঃশাসনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামসহ হঠাৎ করে তেলের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের জনগণের কথা ভাবেন বলেই সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। সামনে দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ করা হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর