ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শূন্যস্থান পূরণের কাউন্সিল , আগামী নেতৃত্বে থাকছে না চমক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মার্চ ২০১৬
  • ৩৩৪ বার

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল শনিবার। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলের আগামী নেতৃত্বে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন বা চমক থাকছে না। মৃত্যুজনিত কারণে তৈরি হওয়া শূন্যস্থানগুলিই মূলত পূরণ করবে দলটি। এছাড়া গত সাত বছর ধরে চলা দলের চরম দুঃসময়ে বিতর্কিত কিছু নেতাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বাদ দেয়া হতে পারে কাউন্সিলে। পাশাপাশি বিগত আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন এবং তারেকপন্থীদের এবার পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হচ্ছে এটা প্রায় নিশ্চিত। তাই কাউন্সিলে বড় ধরনের কোন চমক নেই বললেই চলে। বর্তমানে বিভাগের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দলে সাংগঠনিক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে এক ব্যক্তির এক পদ, বিষয়ভিত্তিক কমিটি, স্থায়ী কমিটির সদস্য হবে ২১ বা ২৩, যুগ্ম মহাসচিব ৯ এবং ৮ বিভাগে পৃথক সাংগঠনিক সম্পাদক পদ সৃষ্টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে অংশ নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, লে. জে. মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকের শুরুতে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় খালেদা জিয়ার হাতে কাউন্সিলের লোগো সংবলিত প্লেট তুলে দেন। অন্যান্য সদস্যদেরও ষষ্ঠ কাউন্সিলের উপহার হিসেবে লোগোসহ প্লেট বাক্স দেয়া হয়।

বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্য থেকে নেতারা দায়িত্ব পালন করায় স্থায়ী কমিটির বিদায়ী সদস্যদের বেগম খালেদা জিয়া ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, কাউন্সিলের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্থায়ী কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের সংশোধনীর বিষয়ে কাউন্সিলের সময় জানানো হবে।

102619_161বিএনপির একটি সূত্র জানায়, আসন্ন সম্মেলনে পূর্নগঠনের আদলে স্থায়ী কমিটি, সাংগঠনিক সম্পাদক, কিছু সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটিতে কিছু রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাউন্সিলের মাধ্যমে একই নেতার একাধিক পদে থাকার বিধানটি সংশোধনী করা হতে পারে। তেমনি হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা আর দলটির অন্যকোন সংগঠনের পদে থাকতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, শনিবার (১৯ মার্চ) বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে দলের সর্বস্তরের নেতাদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে। দলে নিজ নিজ অবস্থান পাকাপোক্ত করতে সব নেতাই এখন বিভিন্ন মাধ্যমে লবিং করছেন। তবে যারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বা তাঁর কাছের লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কাউন্সিলের পর নতুন কমিটিতে বিএনপির বর্তমান ৩৮৬ সদস্যের নির্বাহী কমিটি থেকে ১০০ জনের বেশি নেতা বাদ পড়তে পারেন। কমিটিতে যাদের রাখা হবে তাদের মধ্য থেকে অনেকেরই পদ-পদবি রদবদল হবে। আর নতুন কমিটিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিশ্বস্ত শতাধিক তরুণ নেতাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখা হবে। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ জনকে নেয়া হচ্ছে সাবেক ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা তরুণ নেতাকে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে ৩টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। আর স্থায়ী কমিটির আরও ক’জন সদস্য অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। তাই স্থায়ী কমিটির বেশ ক’টি পদে নতুন মুখ আসবে। স্থায়ী কমিটিতে নতুন জায়গা পেতে পারেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিমা রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী , চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও যুগ্ম সহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ রয়েছে ১৭টি। এর মধ্যে বর্তমান কমিটিতে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এ পদে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, অধ্যাপক এম এ মান্নান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবেদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, সহ আইন বিসয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ।

এবার যুগ্ম মহাসচিব পদ পেতে পারেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুববিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার খন্দকার, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মজিবুর রহমান সরোয়ার, অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম।

কমিটিতে স্থান পেতে পারেন নেতাদের স্ত্রী-পুত্র-আত্মীয়রাও। তাদের মধ্যে রয়েছেন তাহসীনা রুশদি লুনা, আফরোজা আব্বাস, তাবিথ এম আউয়াল, ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপ করে এ ধারণা পাওয়া গেছে।

কাউন্সিল প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, ছয় বছর পর দলের কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। তাই দলে উৎসাহ উদ্দীপনা বেশি। নতুন নেতৃত্বের দরজা উন্মোচিত হবে। ত্যাগী, দৃঢ় সংকল্প ও ভালো চরিত্রের ব্যক্তিরাই এবার নেতৃত্বে স্থান পাবেন।

তিনি বলেন, ‘নিস্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীদের পুরোপুরি বাদ দেয়া না হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন না তারা। দলের প্রতি আনুগত্য রয়েছে এবং বিগত আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদেরই নতুন কমিটিতে দেখা যাবে। যাতে তারা দায়িত্ব পেয়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি, তাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব হবে এবারের কাউন্সিলে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ পূর্বপশ্চিমকে বলেন, ‘বাস্তবতার কারণে কমিটির আকার কেমন হবে তা বলা মুশকিল। কেউ এটা বলতেও পারবে না। আওয়ামী লীগের মতো দল যেখানে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে সেখানে কেবলমাত্র কমিটি গঠন কেন, সব ক্ষেত্রেই বিএনপির চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রসঙ্গত: সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হয় পঞ্চম কাউন্সিল। পরের বছর জানুয়ারিতে গঠন করা হয় ৩৮৬ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় নির্বাহী কমিটি। তিন বছর মেয়াদি কমিটির সময় আড়াই বছর আগেই শেষ হয়েছে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম কাউন্সিল হয়। দ্বিতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আর এর আট বছর পর ১৯৮৯ সালের ৮ ও ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দলটির তৃতীয় কাউন্সিল। ১৯৯৩ সালের ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি চতুর্থ কাউন্সিল করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শূন্যস্থান পূরণের কাউন্সিল , আগামী নেতৃত্বে থাকছে না চমক

আপডেট টাইম : ০২:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মার্চ ২০১৬

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল শনিবার। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলের আগামী নেতৃত্বে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন বা চমক থাকছে না। মৃত্যুজনিত কারণে তৈরি হওয়া শূন্যস্থানগুলিই মূলত পূরণ করবে দলটি। এছাড়া গত সাত বছর ধরে চলা দলের চরম দুঃসময়ে বিতর্কিত কিছু নেতাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বাদ দেয়া হতে পারে কাউন্সিলে। পাশাপাশি বিগত আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন এবং তারেকপন্থীদের এবার পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হচ্ছে এটা প্রায় নিশ্চিত। তাই কাউন্সিলে বড় ধরনের কোন চমক নেই বললেই চলে। বর্তমানে বিভাগের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে দলে সাংগঠনিক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে এক ব্যক্তির এক পদ, বিষয়ভিত্তিক কমিটি, স্থায়ী কমিটির সদস্য হবে ২১ বা ২৩, যুগ্ম মহাসচিব ৯ এবং ৮ বিভাগে পৃথক সাংগঠনিক সম্পাদক পদ সৃষ্টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে অংশ নেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, লে. জে. মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকের শুরুতে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় খালেদা জিয়ার হাতে কাউন্সিলের লোগো সংবলিত প্লেট তুলে দেন। অন্যান্য সদস্যদেরও ষষ্ঠ কাউন্সিলের উপহার হিসেবে লোগোসহ প্লেট বাক্স দেয়া হয়।

বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্য থেকে নেতারা দায়িত্ব পালন করায় স্থায়ী কমিটির বিদায়ী সদস্যদের বেগম খালেদা জিয়া ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, কাউন্সিলের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্থায়ী কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের সংশোধনীর বিষয়ে কাউন্সিলের সময় জানানো হবে।

102619_161বিএনপির একটি সূত্র জানায়, আসন্ন সম্মেলনে পূর্নগঠনের আদলে স্থায়ী কমিটি, সাংগঠনিক সম্পাদক, কিছু সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটিতে কিছু রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাউন্সিলের মাধ্যমে একই নেতার একাধিক পদে থাকার বিধানটি সংশোধনী করা হতে পারে। তেমনি হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা আর দলটির অন্যকোন সংগঠনের পদে থাকতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, শনিবার (১৯ মার্চ) বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে দলের সর্বস্তরের নেতাদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে। দলে নিজ নিজ অবস্থান পাকাপোক্ত করতে সব নেতাই এখন বিভিন্ন মাধ্যমে লবিং করছেন। তবে যারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বা তাঁর কাছের লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কাউন্সিলের পর নতুন কমিটিতে বিএনপির বর্তমান ৩৮৬ সদস্যের নির্বাহী কমিটি থেকে ১০০ জনের বেশি নেতা বাদ পড়তে পারেন। কমিটিতে যাদের রাখা হবে তাদের মধ্য থেকে অনেকেরই পদ-পদবি রদবদল হবে। আর নতুন কমিটিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিশ্বস্ত শতাধিক তরুণ নেতাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখা হবে। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ জনকে নেয়া হচ্ছে সাবেক ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা তরুণ নেতাকে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে ৩টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। আর স্থায়ী কমিটির আরও ক’জন সদস্য অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। তাই স্থায়ী কমিটির বেশ ক’টি পদে নতুন মুখ আসবে। স্থায়ী কমিটিতে নতুন জায়গা পেতে পারেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিমা রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী , চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও যুগ্ম সহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ রয়েছে ১৭টি। এর মধ্যে বর্তমান কমিটিতে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এ পদে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, অধ্যাপক এম এ মান্নান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবেদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, সহ আইন বিসয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ।

এবার যুগ্ম মহাসচিব পদ পেতে পারেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুববিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার খন্দকার, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মজিবুর রহমান সরোয়ার, অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম।

কমিটিতে স্থান পেতে পারেন নেতাদের স্ত্রী-পুত্র-আত্মীয়রাও। তাদের মধ্যে রয়েছেন তাহসীনা রুশদি লুনা, আফরোজা আব্বাস, তাবিথ এম আউয়াল, ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

এ ছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপ করে এ ধারণা পাওয়া গেছে।

কাউন্সিল প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, ছয় বছর পর দলের কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। তাই দলে উৎসাহ উদ্দীপনা বেশি। নতুন নেতৃত্বের দরজা উন্মোচিত হবে। ত্যাগী, দৃঢ় সংকল্প ও ভালো চরিত্রের ব্যক্তিরাই এবার নেতৃত্বে স্থান পাবেন।

তিনি বলেন, ‘নিস্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীদের পুরোপুরি বাদ দেয়া না হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন না তারা। দলের প্রতি আনুগত্য রয়েছে এবং বিগত আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদেরই নতুন কমিটিতে দেখা যাবে। যাতে তারা দায়িত্ব পেয়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান পূর্বপশ্চিমকে বলেন, কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি, তাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব হবে এবারের কাউন্সিলে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ পূর্বপশ্চিমকে বলেন, ‘বাস্তবতার কারণে কমিটির আকার কেমন হবে তা বলা মুশকিল। কেউ এটা বলতেও পারবে না। আওয়ামী লীগের মতো দল যেখানে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে সেখানে কেবলমাত্র কমিটি গঠন কেন, সব ক্ষেত্রেই বিএনপির চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রসঙ্গত: সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হয় পঞ্চম কাউন্সিল। পরের বছর জানুয়ারিতে গঠন করা হয় ৩৮৬ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় নির্বাহী কমিটি। তিন বছর মেয়াদি কমিটির সময় আড়াই বছর আগেই শেষ হয়েছে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম কাউন্সিল হয়। দ্বিতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আর এর আট বছর পর ১৯৮৯ সালের ৮ ও ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দলটির তৃতীয় কাউন্সিল। ১৯৯৩ সালের ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি চতুর্থ কাউন্সিল করে।