ঢাকা ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন

আল্লাহর কী রহমত, মসজিদটি মাটির তৈরি অথচ যুগ যুগ ধরে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • ৬৮১ বার

সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে পছন্দের ঘর হচ্ছে মসজিদ। আর এই মসজিদ হচ্ছে মুসলমানদের উপাসনার অন্যতম স্থান। মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য মসজিদে গিয়ে মুসলমানরা উপাসনা করে থাকে। আর তাইতো পৃথিবীর জোড়া কত রকম সৌন্দর্য্যপূর্ণ মসজিদ রয়েছে। আধুনিক কারুকার্যে এসব মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদ দেখে শুধু মুসলমানরাই নয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বিরাও অভিভূত হন। স্থাপত্যশৈল্পিক মসজিদের খ্যাতি তাইতো বিশ্বজোড়া। এই সৌন্দর্য্য শুধু এখনকার আধুনিকতার জন্য নয়, এটি আদি যুগ হতে হয়ে আসছে। অনেক শত শত বছরের পুরোনো মসজিদ রয়েছে স্থাপত্যশৈল্পিক। এগুলো এখনও মানুষকে বিমুগ্ধ করে।

এমন অনেক মসজিদের মধ্যে আজ আমরা দেখবো পৃথিবীর বুকে মাটি দিয়ে তৈরি সবচেয়ে বড় মসজিদের করা। অত্যন্ত দারুন কিছু চমকপ্রদ তথ্যও রয়েছে এর সঙ্গে। তাহলে আসুন জেনে নিই সবচেয়ে বড় মাটির তৈরি এই মসজিদের কথা।

মাটির তৈরি পৃথিবীতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মসজিদটি অবস্থিত আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে ডিজেনি শহরে। এই বড় মাটির মসজিদটির নাম ‘গ্র্যান্ড মস্ক অব ডিজেনি’। আর এটিই হল এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে মাটির তৈরি সবচেয়ে বড় মসজিদ।

তাহলে জেনে নিন মসজিদটি প্রথম কবে নির্মাণ করা হয়েছিল সে তথ্য জানা না গেলেও ধারণা করা হয়, ১২শ’ শতাব্দি হতে ১৩শ’ শতাব্দির মাঝামাঝিতে এই মসজিদটি নির্মাণ হয়েছিল। শোনা যায় যে, সুলতান কুনবুরু (Kunburu) ধর্মান্তরিত হন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর, তার প্রাসাদটি ভেঙ্গে সেখানে এই মাটির মসজিদটি নির্মাণ করেন।

জানা যায়, ফরাসী এক পর্যটক রেনে ১৮২৮ সালে এই এলাকা সফরের আগ পর্যন্ত এই মসজিদটি সম্পর্কে লিখিত কোন তথ্যই ছিলনা। রেনে তার সফরশেষে লিখেগিয়েছেন, ডিজেনি শহরে মাটির তৈরি একটি মসজিদ রয়েছে। এর দুইপাশে দুটি দর্শনীয় কম উচ্চতার টাওয়ার রয়েছে। শোনা যায়, এরপর থেকেই মূলত এই মাটির তৈরি এই মসজিদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

মসজিদটি ২৪৫ ফুট আয়তনবিশিষ্ট, ৩ ফুট উঁচু ফ্ল্যাটফরমের উপর তৈরি করা হয়েছে। বানি নদীর তীরে এই মসজিদটি অবস্থিত। বর্ষাকালে বানি নদীর প্লাবিত পানি হতে মসজিদটিকে সুরক্ষা করে থাকে এই ফ্ল্যাটফরম। মসজিদের দেয়ালগুলো তাল গাছের কাঠ, যা স্থানীয়ভাবে টরল নামে পরিচিত। সেগুলো দিয়েই মূলত নকশা তৈরি করা হয়েছে। শুধু নকশাই নয়, তাল গাছের কাঠ মসজিদের দেওয়ালে এমনভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে যাতে করে মাটির দেওয়াল সহজে ধ্বসে না যায়। প্রতি বছর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এই মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়ে থাকে।

আপনি কখনও আফ্রিকা অঞ্চলে বেড়াতে গেলে আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে ডিজেনি শহরে গিয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক বাহক ‘গ্র্যান্ড মস্ক অব ডিজেনি’ মসজিদটি দেখে আসবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও দক্ষতায় আপসহীন হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

আল্লাহর কী রহমত, মসজিদটি মাটির তৈরি অথচ যুগ যুগ ধরে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে

আপডেট টাইম : ১০:৫৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে পছন্দের ঘর হচ্ছে মসজিদ। আর এই মসজিদ হচ্ছে মুসলমানদের উপাসনার অন্যতম স্থান। মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য মসজিদে গিয়ে মুসলমানরা উপাসনা করে থাকে। আর তাইতো পৃথিবীর জোড়া কত রকম সৌন্দর্য্যপূর্ণ মসজিদ রয়েছে। আধুনিক কারুকার্যে এসব মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদ দেখে শুধু মুসলমানরাই নয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বিরাও অভিভূত হন। স্থাপত্যশৈল্পিক মসজিদের খ্যাতি তাইতো বিশ্বজোড়া। এই সৌন্দর্য্য শুধু এখনকার আধুনিকতার জন্য নয়, এটি আদি যুগ হতে হয়ে আসছে। অনেক শত শত বছরের পুরোনো মসজিদ রয়েছে স্থাপত্যশৈল্পিক। এগুলো এখনও মানুষকে বিমুগ্ধ করে।

এমন অনেক মসজিদের মধ্যে আজ আমরা দেখবো পৃথিবীর বুকে মাটি দিয়ে তৈরি সবচেয়ে বড় মসজিদের করা। অত্যন্ত দারুন কিছু চমকপ্রদ তথ্যও রয়েছে এর সঙ্গে। তাহলে আসুন জেনে নিই সবচেয়ে বড় মাটির তৈরি এই মসজিদের কথা।

মাটির তৈরি পৃথিবীতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মসজিদটি অবস্থিত আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে ডিজেনি শহরে। এই বড় মাটির মসজিদটির নাম ‘গ্র্যান্ড মস্ক অব ডিজেনি’। আর এটিই হল এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে মাটির তৈরি সবচেয়ে বড় মসজিদ।

তাহলে জেনে নিন মসজিদটি প্রথম কবে নির্মাণ করা হয়েছিল সে তথ্য জানা না গেলেও ধারণা করা হয়, ১২শ’ শতাব্দি হতে ১৩শ’ শতাব্দির মাঝামাঝিতে এই মসজিদটি নির্মাণ হয়েছিল। শোনা যায় যে, সুলতান কুনবুরু (Kunburu) ধর্মান্তরিত হন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর, তার প্রাসাদটি ভেঙ্গে সেখানে এই মাটির মসজিদটি নির্মাণ করেন।

জানা যায়, ফরাসী এক পর্যটক রেনে ১৮২৮ সালে এই এলাকা সফরের আগ পর্যন্ত এই মসজিদটি সম্পর্কে লিখিত কোন তথ্যই ছিলনা। রেনে তার সফরশেষে লিখেগিয়েছেন, ডিজেনি শহরে মাটির তৈরি একটি মসজিদ রয়েছে। এর দুইপাশে দুটি দর্শনীয় কম উচ্চতার টাওয়ার রয়েছে। শোনা যায়, এরপর থেকেই মূলত এই মাটির তৈরি এই মসজিদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

মসজিদটি ২৪৫ ফুট আয়তনবিশিষ্ট, ৩ ফুট উঁচু ফ্ল্যাটফরমের উপর তৈরি করা হয়েছে। বানি নদীর তীরে এই মসজিদটি অবস্থিত। বর্ষাকালে বানি নদীর প্লাবিত পানি হতে মসজিদটিকে সুরক্ষা করে থাকে এই ফ্ল্যাটফরম। মসজিদের দেয়ালগুলো তাল গাছের কাঠ, যা স্থানীয়ভাবে টরল নামে পরিচিত। সেগুলো দিয়েই মূলত নকশা তৈরি করা হয়েছে। শুধু নকশাই নয়, তাল গাছের কাঠ মসজিদের দেওয়ালে এমনভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে যাতে করে মাটির দেওয়াল সহজে ধ্বসে না যায়। প্রতি বছর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এই মসজিদটির সংস্কার কাজ করা হয়ে থাকে।

আপনি কখনও আফ্রিকা অঞ্চলে বেড়াতে গেলে আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে ডিজেনি শহরে গিয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক বাহক ‘গ্র্যান্ড মস্ক অব ডিজেনি’ মসজিদটি দেখে আসবেন।