ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

হাইব্রিড বইমেলাই হোক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০
  • ২৬৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ যারা সৃজনশীল ও মননশীল লেখক, এ ধরনের গ্রন্থের যারা প্রকাশক এবং যারা এসব গ্রন্থের আগ্রহী পাঠক, তাদের সবার জন্য বাংলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত একুশের গ্রন্থমেলা তীর্থস্থানের মতো আরাধ্য। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ক্রমেই বেগবান হয়ে ওঠায় ভিড় এড়ানো বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে; ফলে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেলা বাতিল করা হচ্ছে না, তবে এবার মেলা হবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। অর্থাৎ বাংলা একাডেমি কর্তৃক ঘোষিত কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকে যার যার ঘরে বসে খুঁজে খুঁজে দেখে নেবেন নতুন বই, পছন্দ হলে কিনবেন এবং অনলাইনে উপভোগ করবেন একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা। করোনার ঝুঁকি মেনে নিতে রাজি আছেন প্রকাশকরা; কিন্তু ব্যবসায়ের ঝুঁকি নিতে রাজি নন। তাই তারা জোরালো দাবি তুলেছেন- ভার্চুয়ালে নয়, প্রথাগত পদ্ধতিতেই বইমেলা হতে হবে।

বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে প্রথম থেকেই লক্ষ করেছি লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা- এসব খুব একটা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না। দ্বিতীয় ঢেউ আসতে আসতে করোনার ভয়াবহতা প্রলম্বিত যুদ্ধের মতো গা সওয়া হয়ে গেছে। এখন মানুষের মধ্যে, বিশ্বব্যাপীই, করোনাভীতি বেশ শিথিল। বইমেলা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অনেকেই নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেটের ভিড়ের কথা বলছেন। তাদের যুক্তি- সব চলতে পারলে বইমেলা চলবে না কেন? বইমেলা আয়োজন করার পক্ষে এসবের বাইরেও জোরালো যুক্তি আছে। যেহেতু মেলাটি খোলা আকাশের নিচে হয়, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে, যেখানে মেনে চলা সম্ভব হবে না সেখানে মাস্ক পরে থাকলে সংক্রমণের ভয় নেই। একথা মিথ্যা নয়, উন্নত দেশগুলোও মৃত্যুঝুঁকির সূক্ষ্ম রেখার ওপর দাঁড়িয়ে এ স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে ফেলেছে এবং ধীরে ধীরে এই ‘নতুন স্বাভাবিক’ আচরণ কার্যকর হয়ে উঠেছে।

পেছন ফিরে যদি গত ১০ বছরের বইমেলার চিত্রগুলো দেখি, তাহলে দেখব ভিড় ক্রমেই বেড়েছে। আগ্রহী গ্রন্থদর্শনার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইমেলার স্টলে স্টলে ঘোরাফেরা করাকে ইন্টেলেকচুয়াল বিনোদন মনে করেন। যারা লেখক, যারা এক সময় লিখতেন এবং যারা মনে মনে কিছুটা লেখক বা কবি (কোন বাঙালি মনে মনে কবি না?), তাদের ভালোবাসার তীর্থ একুশের বইমেলা। এ লাখ লাখ উৎসুক বাঙালি গ্রন্থ দর্শনার্থীকে সামাজিক দূরত্বের মধ্যে রেখে এক মাস মেলা পরিচালনা করার ধকল সামলাতে পারবে না বলেই একাডেমি কর্তৃপক্ষ হাত-পা তুলে আত্মসমর্পণ করে বসে আছে। কিন্তু প্রকাশক সমিতিগুলো মনে করছে একাডেমির এ সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি; তাই তারা দাবি জানিয়েছেন, প্রথাগত পদ্ধতিতেই মেলা করতে হবে।

প্রথাগত পদ্ধতিতে বইমেলা আয়োজিত হলে ব্যক্তি পাঠকের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের সঙ্গে প্রকাশকদের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়। এতে মেলা-উত্তর বিক্রয়ের দ্বার উন্মোচিত হয়। যেহেতু বইমেলানির্ভর হয়ে পড়েছে আমাদের প্রকাশনা শিল্প, তাই আশানুরূপভাবে মেলা আয়োজিত না হলে প্রকাশকরা পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বই প্রকাশে আগ্রহী হবেন না বলে অনেক লেখক মনে করেন। এতে করে তাদের প্রকাশিতব্য গ্রন্থটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। যারা অনেক বই ঘাঁটবেন, দেখবেন, কিছু বই কিনবেন, অনলাইন বইমেলা তাদের তৃষ্ণা মেটাতে পারবে না কিছুতেই। এছাড়া পাঠকদের একটি বৃহৎ অংশের অনলাইন এক্সেসও নেই। তাই সব পক্ষেরই ধারণা, অনলাইনে বইমেলা হলে মেলার উদ্দেশ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হবে।

অনলাইনে বইমেলা হওয়ারও অনেক সুবিধা আছে। যেসব প্রকাশক পরিকল্পনা অনুযায়ী মেলা উপলক্ষে সব বই প্রকাশ করবেন না, তারা মেলার পর আস্তে আস্তে সেই বইগুলো প্রকাশ করতে থাকবেন (নিজেদের তাগিদে না হলেও লেখকদের চাপে তা করবেন)। এতে করে মেলাকেন্দ্রিক প্রকাশনার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। লেখক, পাঠক, প্রকাশকদের মধ্যে যারা অনলাইনে ঢোকার ব্যাপারে অজ্ঞ, অলস কিংবা অনিচ্ছুক, তারাও অনলাইনে ঢোকার চেষ্টা করবেন এবং সফলও হবেন। ফলে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেখা যাবে তাদের অনেকেই খুব শিগগিরই অনলাইনভিত্তিক অনেক নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিতে শুরু করবেন। অনলাইনে মেলা হওয়ার ফলে দূরত্বটা সবার জন্য সমান হয়ে যাবে। তখন ঢাকা, রাজশাহী, রাশিয়া, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল যে যেখানেই থাকি না কেন, দূরত্বটা আর কোনো বিষয় থাকবে না। দূরত্বেও বৈষম্যটা কেটে যাবে। একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত সেমিনার, কবিতা পাঠের আসর- এসব অনুষ্ঠানে দূরের বাঙালিরাও একই প্রিভিলেজ নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রকৃত অর্থেই কোনো দূরই দূর নয়, আমরা সবাই পৃথিবী নামক একটি গ্রামের মানুষ হয়ে উঠতে পারব।

যেহেতু দুই পদ্ধতিতেই সুবিধা-অসুবিধা আছে, সেহেতু আমরা এ বছর একটি হাইব্রিড মেলার আয়োজন করতে পারি। প্রথাগত পদ্ধতিতেই মেলার আয়োজন হোক, সঙ্গে অনলাইন সুবিধাটিও থাকুক। অনুষ্ঠানগুলো অনলাইনে হোক, বইয়ের স্টলগুলো মেলার মাঠেই থাকুক। সেই সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণের ঘটনাবলি পুরোটা সময়ে বাংলা একাডেমির ওয়েবপেজে লাইভ প্রচার করা হোক। প্রকাশক সমিতিগুলো লোকবল দিয়ে একাডেমিকে সাহায্য করুক, প্রচুর স্কাউট সদস্য নিয়োগ করা হোক, যাতে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

আমরা তো প্রতিনিয়ত কত রকমের পরীক্ষা দিচ্ছি। এবার না হয় এভাবে একটি সুশৃঙ্খল হাইব্রিড বইমেলা আয়োজনের পরীক্ষা দিই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা করোনার ভয়াবহতাকে পরাজিত করে ২০২১ সালে দেশের গ্রন্থপ্রেমী মানুষকে একটি প্রত্যাশিত বইমেলা উপহার দিতে পারব। এবং মেলা শেষ করে আরও একবার মাথা উঁচু করে বলতে পারব, বাঙালি সব পারে, যেমন আমরা নিজেদের অর্থায়নে বিশাল বাজেটের পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেখিয়ে দিয়েছি।

কাজী জহিরুল ইসলাম : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক প্রবাসী কবি, কথাসাহিত্যিক

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

হাইব্রিড বইমেলাই হোক

আপডেট টাইম : ০২:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ যারা সৃজনশীল ও মননশীল লেখক, এ ধরনের গ্রন্থের যারা প্রকাশক এবং যারা এসব গ্রন্থের আগ্রহী পাঠক, তাদের সবার জন্য বাংলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত একুশের গ্রন্থমেলা তীর্থস্থানের মতো আরাধ্য। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ক্রমেই বেগবান হয়ে ওঠায় ভিড় এড়ানো বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে; ফলে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেলা বাতিল করা হচ্ছে না, তবে এবার মেলা হবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। অর্থাৎ বাংলা একাডেমি কর্তৃক ঘোষিত কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকে যার যার ঘরে বসে খুঁজে খুঁজে দেখে নেবেন নতুন বই, পছন্দ হলে কিনবেন এবং অনলাইনে উপভোগ করবেন একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা। করোনার ঝুঁকি মেনে নিতে রাজি আছেন প্রকাশকরা; কিন্তু ব্যবসায়ের ঝুঁকি নিতে রাজি নন। তাই তারা জোরালো দাবি তুলেছেন- ভার্চুয়ালে নয়, প্রথাগত পদ্ধতিতেই বইমেলা হতে হবে।

বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে প্রথম থেকেই লক্ষ করেছি লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা- এসব খুব একটা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না। দ্বিতীয় ঢেউ আসতে আসতে করোনার ভয়াবহতা প্রলম্বিত যুদ্ধের মতো গা সওয়া হয়ে গেছে। এখন মানুষের মধ্যে, বিশ্বব্যাপীই, করোনাভীতি বেশ শিথিল। বইমেলা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অনেকেই নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেটের ভিড়ের কথা বলছেন। তাদের যুক্তি- সব চলতে পারলে বইমেলা চলবে না কেন? বইমেলা আয়োজন করার পক্ষে এসবের বাইরেও জোরালো যুক্তি আছে। যেহেতু মেলাটি খোলা আকাশের নিচে হয়, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে, যেখানে মেনে চলা সম্ভব হবে না সেখানে মাস্ক পরে থাকলে সংক্রমণের ভয় নেই। একথা মিথ্যা নয়, উন্নত দেশগুলোও মৃত্যুঝুঁকির সূক্ষ্ম রেখার ওপর দাঁড়িয়ে এ স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে ফেলেছে এবং ধীরে ধীরে এই ‘নতুন স্বাভাবিক’ আচরণ কার্যকর হয়ে উঠেছে।

পেছন ফিরে যদি গত ১০ বছরের বইমেলার চিত্রগুলো দেখি, তাহলে দেখব ভিড় ক্রমেই বেড়েছে। আগ্রহী গ্রন্থদর্শনার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইমেলার স্টলে স্টলে ঘোরাফেরা করাকে ইন্টেলেকচুয়াল বিনোদন মনে করেন। যারা লেখক, যারা এক সময় লিখতেন এবং যারা মনে মনে কিছুটা লেখক বা কবি (কোন বাঙালি মনে মনে কবি না?), তাদের ভালোবাসার তীর্থ একুশের বইমেলা। এ লাখ লাখ উৎসুক বাঙালি গ্রন্থ দর্শনার্থীকে সামাজিক দূরত্বের মধ্যে রেখে এক মাস মেলা পরিচালনা করার ধকল সামলাতে পারবে না বলেই একাডেমি কর্তৃপক্ষ হাত-পা তুলে আত্মসমর্পণ করে বসে আছে। কিন্তু প্রকাশক সমিতিগুলো মনে করছে একাডেমির এ সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি; তাই তারা দাবি জানিয়েছেন, প্রথাগত পদ্ধতিতেই মেলা করতে হবে।

প্রথাগত পদ্ধতিতে বইমেলা আয়োজিত হলে ব্যক্তি পাঠকের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের সঙ্গে প্রকাশকদের একটি যোগসূত্র তৈরি হয়। এতে মেলা-উত্তর বিক্রয়ের দ্বার উন্মোচিত হয়। যেহেতু বইমেলানির্ভর হয়ে পড়েছে আমাদের প্রকাশনা শিল্প, তাই আশানুরূপভাবে মেলা আয়োজিত না হলে প্রকাশকরা পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বই প্রকাশে আগ্রহী হবেন না বলে অনেক লেখক মনে করেন। এতে করে তাদের প্রকাশিতব্য গ্রন্থটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। যারা অনেক বই ঘাঁটবেন, দেখবেন, কিছু বই কিনবেন, অনলাইন বইমেলা তাদের তৃষ্ণা মেটাতে পারবে না কিছুতেই। এছাড়া পাঠকদের একটি বৃহৎ অংশের অনলাইন এক্সেসও নেই। তাই সব পক্ষেরই ধারণা, অনলাইনে বইমেলা হলে মেলার উদ্দেশ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হবে।

অনলাইনে বইমেলা হওয়ারও অনেক সুবিধা আছে। যেসব প্রকাশক পরিকল্পনা অনুযায়ী মেলা উপলক্ষে সব বই প্রকাশ করবেন না, তারা মেলার পর আস্তে আস্তে সেই বইগুলো প্রকাশ করতে থাকবেন (নিজেদের তাগিদে না হলেও লেখকদের চাপে তা করবেন)। এতে করে মেলাকেন্দ্রিক প্রকাশনার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। লেখক, পাঠক, প্রকাশকদের মধ্যে যারা অনলাইনে ঢোকার ব্যাপারে অজ্ঞ, অলস কিংবা অনিচ্ছুক, তারাও অনলাইনে ঢোকার চেষ্টা করবেন এবং সফলও হবেন। ফলে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেখা যাবে তাদের অনেকেই খুব শিগগিরই অনলাইনভিত্তিক অনেক নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিতে শুরু করবেন। অনলাইনে মেলা হওয়ার ফলে দূরত্বটা সবার জন্য সমান হয়ে যাবে। তখন ঢাকা, রাজশাহী, রাশিয়া, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল যে যেখানেই থাকি না কেন, দূরত্বটা আর কোনো বিষয় থাকবে না। দূরত্বেও বৈষম্যটা কেটে যাবে। একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত সেমিনার, কবিতা পাঠের আসর- এসব অনুষ্ঠানে দূরের বাঙালিরাও একই প্রিভিলেজ নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রকৃত অর্থেই কোনো দূরই দূর নয়, আমরা সবাই পৃথিবী নামক একটি গ্রামের মানুষ হয়ে উঠতে পারব।

যেহেতু দুই পদ্ধতিতেই সুবিধা-অসুবিধা আছে, সেহেতু আমরা এ বছর একটি হাইব্রিড মেলার আয়োজন করতে পারি। প্রথাগত পদ্ধতিতেই মেলার আয়োজন হোক, সঙ্গে অনলাইন সুবিধাটিও থাকুক। অনুষ্ঠানগুলো অনলাইনে হোক, বইয়ের স্টলগুলো মেলার মাঠেই থাকুক। সেই সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণের ঘটনাবলি পুরোটা সময়ে বাংলা একাডেমির ওয়েবপেজে লাইভ প্রচার করা হোক। প্রকাশক সমিতিগুলো লোকবল দিয়ে একাডেমিকে সাহায্য করুক, প্রচুর স্কাউট সদস্য নিয়োগ করা হোক, যাতে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।

আমরা তো প্রতিনিয়ত কত রকমের পরীক্ষা দিচ্ছি। এবার না হয় এভাবে একটি সুশৃঙ্খল হাইব্রিড বইমেলা আয়োজনের পরীক্ষা দিই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা করোনার ভয়াবহতাকে পরাজিত করে ২০২১ সালে দেশের গ্রন্থপ্রেমী মানুষকে একটি প্রত্যাশিত বইমেলা উপহার দিতে পারব। এবং মেলা শেষ করে আরও একবার মাথা উঁচু করে বলতে পারব, বাঙালি সব পারে, যেমন আমরা নিজেদের অর্থায়নে বিশাল বাজেটের পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেখিয়ে দিয়েছি।

কাজী জহিরুল ইসলাম : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক প্রবাসী কবি, কথাসাহিত্যিক