হাওর বার্তা ডেস্কঃ পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে থাকে, তার প্রধান কারণ এ বাহিনীর সদস্যদের আচরণ; সেই সঙ্গে এ বাহিনীর কিছু সদস্যের অপরাধ ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া।
বিভিন্ন সময়ে পুলিশ সপ্তাহে প্রকাশিত তুলনামূলক অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে লক্ষ করা গেছে, দেশে নানারকম অপরাধের হার কমেছে। তারপরও সমাজে পুলিশের ভাবমূর্তি বেড়েছে, তা বলা যাবে না। কাজেই দেশে অপরাধ কমার পাশাপাশি সমাজে পুলিশের ভাবমূর্তিও যাতে বৃদ্ধি পায়, সেদিকে কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দিতে হবে।
জানা গেছে, উন্নত বিশ্বের পুলিশের আদলে সাজানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশে সংযোজন হচ্ছে হ্যান্ডস ফ্রি পুলিশিং। আজ ১৬ ডিসেম্বর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। বাহিনীতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতেই এ উদ্যোগ।
এ দেশে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা যুগ যুগ ধরে দায়িত্ব পালন করছেন কাঁধে রাইফেল নিয়ে। এখন থেকে রাইফেলের বদলে তাদের দেয়া হবে ক্ষুদ্রাস্ত্র। প্রথম ধাপে ১০ হাজার সদস্যকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। যেসব সদস্য এ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হবেন তাদের একটি বিশেষ বেল্ট প্রদান করা হবে। অপারেশনের সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কোমরে থাকা বিশেষ বেল্টে বেঁধে রাখতে পারবেন। ফলে পুলিশ সদস্যদের হাত থাকবে খালি।
হাতে বা কাঁধে রাইফেল থাকলে তা বহন করা যেমন কষ্টকর, তেমনি বিভিন্ন অভিযানে তা নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করে। টেকটিক্যাল বেল্ট পরে অভিযানে গেলে কোনো ধরনের অসুবিধা থাকবে না। জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে টেকটিক্যাল বেল্টে নতুন নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে। পরিবর্তন আনা হবে ওয়্যারলেস সেটেও।
টেকটিক্যাল বেল্টে যে সেটটি যুক্ত করা হবে, সেটি হাতে নিয়ে কথা বলতে হবে না। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের পুলিশ সদস্যদের মাঝে এই বেল্ট বিতরণের কথা রয়েছে। কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা দরকার। কারণ, এতে পুলিশের কাজে গতি আসবে।
তবে টেকটিক্যাল বেল্ট ব্যবহারে পুলিশ সদস্যদের কাজে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা দেখতে দেশবাসী উন্মুখ থাকবে। বিপদগ্রস্ত মানুষ পুলিশের কাছে আরও বেশি সহযোগিতা আশা করবে-এটাই স্বাভাবিক।
সম্প্রতি এক সভায় পুলিশের আইজিপি বলেছেন, পুলিশকে হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত ও জনগণের প্রতি মানবিক। দেশবাসীও মানবিক পুলিশ দেখতে চায়। আমরাও আশা করব, পুলিশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য মানবিকতার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে।
Reporter Name 

























