,

19

আল্লাহ এবার মুখ তুলে চাইছে

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শীতের আগাম সবজির চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হইছে। বাজারে দামও ভালো। আল্লাহ এবার মুখ তুলে চাইছে।’

আগাম সবজি চাষের বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর রায়পুরার লোচনপুর গ্রামের কৃষক মনির হোসেন কথাগুলো বলেন।

বেলাব উপজেলার বারৈচা এলাকার কৃষক মোস্তফা বলেন, ‘আমি এক বিঘা জমিতে শিমের চাষ করেছি। পাইকারি ব‌্যবাসয়ীরা এসে জমি থেকে প্রতি কেজি শিম ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত আমি প্রায় ১০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছি। শিম মাত্র ধরা শুরু করেছে। আরও অনেক টাকার বিক্রি করা যাবে।’

সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত নরসিংদী। এ জেলার রায়পুরা, শিবপুর, মনোহরদী, পলাশ ও বেলাব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ করা হয়। এখানকার অধিকাংশ কৃষকরা সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল। অনেকেই সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, রাজধানীসহ সারা দেশের ৪০ শতাংশ সবজির চাহিদা মিটিয়ে থাকেন শিবপুর, জঙ্গলী শিবপুর, নারায়ণপুর, সৃষ্টিগড় কোন্দারপাড়া, বেলাবো, মনোহরদী ও রায়পুরা এলাকার সবজি চাষিরা।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ১১৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ‌্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৬০ হেক্টর জমিতে শীতের আগাম সবজি চাষ করা হয়েছে।

ভরা মৌসুমে এ জেলা থেকে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি সবজি ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে যায়। সারা দেশের বড় বড় বাজারের পাইকাররা সরাসরি মাঠে এসে কৃষকদের সবজি কিনে নেন। সরাসরি মাঠ থেকে সবজি বিক্রি হওয়ায় চাষিদের ঝামেলাও কম হয়। এছাড়া, সপ্তাহের তিন দিন সোমবার, বুধবার ও শুক্রবার সবজির হাট বসে। বেলাব উপজেলার বারৈচা ও নারায়ণপুর, রায়পুরা উপজেলার জঙ্গি শিবপুর, মরজাল, শিবপুর, পালপাড়া ও সৃষ্টিগড় কোন্দারপাড়া পাইকারি বাজারে সবজি বিক্রি হয়।

শিবপুর উপজেলার বান্দারদিয়া গ্রামের কৃষক বকুল মিয়া বলেন, ‘ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করে খুব একটা লাভ করতে পারিনি। এ বছর আমি দুই বিঘা জমিতে আগাম শিম চাষ করেছি। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত আমি দুই বিঘা জমি থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছি।’

 বেলাব উপজেলার বারৈচা কৃষক বাদল মিয়া বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে শিম লাগিয়েছি। ফুলে ফুলে শিমের মাচা ভরে গেছে। শিম আসতে শুর করেছে। এ পর্যন্ত ৩ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছি। এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।’

কুন্দারপাড়ার সবজি চাষি মিজানুর রহমান জানান, শিম ও ফুলকপি মূলত শীতকালীন সবজি। বেশি দামের আশায় এ গুলো আগাম আবাদ করা হয়। এবার ফলন হয়েছে ভালো। অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে তিনি প্রতি কেজি শিম ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং ফুলকপি প্রতিটা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমে গেছে।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুভন চন্দ্র ধর জানান, চলতি মৌসুমে ১১৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ‌্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার সর্বত্র শীতের আগাম সবজির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর