ঢাকা ০২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিপাতে ফসল পচে কৃষকদের সর্বনাশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০
  • ২৬৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভোলার লালমোহন উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাতে কৃষকদের সর্বনাশ হয়েছে। আর এক মাস পরে ধান কাটার কথা থাকলেও আমন ধান জলাবদ্ধতার কারণে পচে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাকসবজি ও পানের বরজ।

এ বছর তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের লাভের তুলনায় ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে দাবি করেন কৃষকরা।

জানা যায়, ভারী বর্ষণের কারণে উপজেলার কৃষকরা দেরিতে তাদের জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছেন।

চারা রোপন করার পর গত ২১, ২২ ও ২৩ অক্টোবরের টানা বৃষ্টিপাতে আমনের জমিতে জলাবদ্ধ হয়ে চারায় পচন শুরু হয়েছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

খালগুলো দখল ও স্লুইস বিকল থাকায় জমির পানি নামছে না বলেও কৃষকরা অভিযোগ করেন।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ সাতদরুন বিল। এ বিলটি বেতুয়ার খালসংলগ্ন হওয়ায় এখানকার জমির বৃষ্টির পানি বেতুয়ার খালের মাধ্যমে অপসারিত হওয়ার কথা; তবে এ খালটিতে অবৈধ বিহন্দি জাল, বেরজাল ও খুর্ছিজাল বসিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।

বসানো জালের কারণে ওই খালের জোয়ার ভাঁটা বন্ধের পথে। অপসারণ হতে পারে না বেতুয়ার দুই কূলের চাষকৃত জমির পানি। এ বেতুয়ার খালের রমাগঞ্জ, ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী রায়চাঁদ বাজার থেকে উত্তরদিকে আজাহার রোড ও চতলা বাজার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক অবৈধ জাল দিয়ে দখল করে আছে।

দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে কিছু অসাধু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি এ খালে মাছ শিকার করছে। এতে  বেতুয়ার জোয়ার ভাঁটায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হওয়ার কারণকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।

রমাগঞ্জের বৃহৎ সাত দরুনসহ একাধিক বিলের শতশত একর চাষকৃত আমনের চারা জলাবদ্ধ হয়ে পঁচে যাচ্ছে বলে কৃষকরা জানান। এতে ভেস্তে  যেতে বসেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।

আষাঢ় মাস হলো কৃষকের আমন ধানের বীজ বপনের পুরো সময়। কিন্তু দীর্ঘদিন ভারীবর্ষণের কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

মৎস্য চাষীদের লাখ লাখ টাকার চাষকৃত মাছের ক্ষতি হয়। তার কারণে কৃষকরা দেরিতে আমন ধান রোপণ করেন। এসব ধান আর এক মাস পরই কাটার কথা। এসময় টানা বৃষ্টিপাতে ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

ওই এলাকার একাধিক কৃষক জানান, এ উপজেলায় বিভিন্ন খালের মাথায় ৮-১০টি স্লুইসগেট বিকল হয়ে আছে। এ কারণে খালের জোয়ার-ভাঁটা প্রায় বন্ধের পথে। ভাটার সময় পানি নামতে না নামতে আবার খাল ভরে যায়। ফলে বিলের জলাবদ্ধতা শেষ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম শাহাবুদ্দিন বলেন, উপজেলার অনেক বিল রয়েছে, যা জলাবদ্ধ হয়ে আছে। জমির পানি নামার বা যাতায়াতের স্লুইস গেটগুলো ও বক্স কালভার্টগুলো প্রায় বন্ধ রয়েছে। সে কারণেই এ জলাবদ্ধতা। এগুলো সংস্কার করা দরকার।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে লালমোহন উপজেলার ৬০ হেক্টর জমির শাকসবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়। ৫ হেক্টর জমির পান বরজ আক্রান্ত হয়। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ হেক্টর জমিতে পানি না নামার কারণে আমনের সমস্যা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বৃষ্টিপাতে ফসল পচে কৃষকদের সর্বনাশ

আপডেট টাইম : ০২:২৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভোলার লালমোহন উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাতে কৃষকদের সর্বনাশ হয়েছে। আর এক মাস পরে ধান কাটার কথা থাকলেও আমন ধান জলাবদ্ধতার কারণে পচে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাকসবজি ও পানের বরজ।

এ বছর তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের লাভের তুলনায় ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে দাবি করেন কৃষকরা।

জানা যায়, ভারী বর্ষণের কারণে উপজেলার কৃষকরা দেরিতে তাদের জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছেন।

চারা রোপন করার পর গত ২১, ২২ ও ২৩ অক্টোবরের টানা বৃষ্টিপাতে আমনের জমিতে জলাবদ্ধ হয়ে চারায় পচন শুরু হয়েছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

খালগুলো দখল ও স্লুইস বিকল থাকায় জমির পানি নামছে না বলেও কৃষকরা অভিযোগ করেন।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ সাতদরুন বিল। এ বিলটি বেতুয়ার খালসংলগ্ন হওয়ায় এখানকার জমির বৃষ্টির পানি বেতুয়ার খালের মাধ্যমে অপসারিত হওয়ার কথা; তবে এ খালটিতে অবৈধ বিহন্দি জাল, বেরজাল ও খুর্ছিজাল বসিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।

বসানো জালের কারণে ওই খালের জোয়ার ভাঁটা বন্ধের পথে। অপসারণ হতে পারে না বেতুয়ার দুই কূলের চাষকৃত জমির পানি। এ বেতুয়ার খালের রমাগঞ্জ, ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী রায়চাঁদ বাজার থেকে উত্তরদিকে আজাহার রোড ও চতলা বাজার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক অবৈধ জাল দিয়ে দখল করে আছে।

দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে কিছু অসাধু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি এ খালে মাছ শিকার করছে। এতে  বেতুয়ার জোয়ার ভাঁটায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হওয়ার কারণকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।

রমাগঞ্জের বৃহৎ সাত দরুনসহ একাধিক বিলের শতশত একর চাষকৃত আমনের চারা জলাবদ্ধ হয়ে পঁচে যাচ্ছে বলে কৃষকরা জানান। এতে ভেস্তে  যেতে বসেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।

আষাঢ় মাস হলো কৃষকের আমন ধানের বীজ বপনের পুরো সময়। কিন্তু দীর্ঘদিন ভারীবর্ষণের কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

মৎস্য চাষীদের লাখ লাখ টাকার চাষকৃত মাছের ক্ষতি হয়। তার কারণে কৃষকরা দেরিতে আমন ধান রোপণ করেন। এসব ধান আর এক মাস পরই কাটার কথা। এসময় টানা বৃষ্টিপাতে ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

ওই এলাকার একাধিক কৃষক জানান, এ উপজেলায় বিভিন্ন খালের মাথায় ৮-১০টি স্লুইসগেট বিকল হয়ে আছে। এ কারণে খালের জোয়ার-ভাঁটা প্রায় বন্ধের পথে। ভাটার সময় পানি নামতে না নামতে আবার খাল ভরে যায়। ফলে বিলের জলাবদ্ধতা শেষ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম শাহাবুদ্দিন বলেন, উপজেলার অনেক বিল রয়েছে, যা জলাবদ্ধ হয়ে আছে। জমির পানি নামার বা যাতায়াতের স্লুইস গেটগুলো ও বক্স কালভার্টগুলো প্রায় বন্ধ রয়েছে। সে কারণেই এ জলাবদ্ধতা। এগুলো সংস্কার করা দরকার।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে লালমোহন উপজেলার ৬০ হেক্টর জমির শাকসবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়। ৫ হেক্টর জমির পান বরজ আক্রান্ত হয়। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ হেক্টর জমিতে পানি না নামার কারণে আমনের সমস্যা হয়েছে।