ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বদলে যাবে পল্লী অবকাঠামো ব্যবস্থা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৫
  • ২৮৬ বার

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এই মন্ত্রণালয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তার লক্ষ্য হচ্ছে, এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি জোর দেওয়া। যার মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের চেহারাই পাল্টে যাবে। বলেছেন, পল্লীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি বাড়ি একটি খামার হচ্ছে একটি চালিকাশক্তি। কিন্তু এ প্রকল্পে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ নেই। এটিকে মানুষের কাছে নিয়ে এর ব্যাপকতা বোঝাতে হবে। এ ছাড়া তিনি বলেছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের পদ্ধতি বের করার চেষ্টা করছেন তারা। আর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের যেসব প্রতিনিধিকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত বা সাময়িক অপসারণ করা হয়েছে, তাদের কাউকেই অন্যায়ভাবে কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে অপসারণ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মামলায় অনেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা হয়েছে আদালতে। গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে বসে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার নিজামুল হক বিপুল।

প্রশ্ন : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কেমন উপভোগ করছেন?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : সব কয়টা মন্ত্রণালয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী কল্যাণ যে মন্ত্রণালয়ে ছিলাম, সেটাও জাতীয় অর্থনীতিতে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখত এবং সেখানে প্রায় এক কোটি মানুষ ওই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাদের ওয়েলফেয়ার, তাদের বিদেশ গমন সব বিষয় ওই মন্ত্রণালয়ের আওতায়। ওই মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি, কর্মযজ্ঞ, সবই তার নিজস্বতায় চলে। গুরুত্বের দিক দিয়ে বিবেচনা করলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। জাতীয় অর্থনীতিতে তারা প্রায় ১১ থেকে ১৩ শতাংশ কন্ট্রিবিউশন করে বর্তমানে। যদি তাদের কিছু ইনসেনটিভ দেওয়া হয় তাহলে কিন্তু তাদের কন্ট্রিবিউশন হবে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। কারণ এখন আমাদের রেমিটেন্স ১৬/১৭ বিলিয়ন ডলার। আর প্রতি বছর পাঁচ থেকে ছয় লাখ লোক বিদেশে যাচ্ছে। সেখানে বিরাট কর্মকাণ্ড। সুতরাং এর কর্মপরিধি এক রকম। আর এখানকার কর্মপরিধি আরেক রকম। এটা হচ্ছে আমার পুরনো জায়গা। এলজিইডি ডিপার্টমেন্টটা আমারই তৈরি করা। শুধু তৈরি করা নয়, এলজিইডির জম্নলগ্ন থেকেই আমি এর সঙ্গে জড়িত।

আমি বাংলাদেশে প্রথম ডিগ্রি হোল্ডার ইঞ্জিনিয়ার। আমি সরাসরি লোকাল গভর্নমেন্টে চাকরি পেয়েছি। ডিগ্রি হোল্ডার হিসেবে খুলনা জেলা বোর্ডে আমি এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্কস) প্রোগ্রামে ছিলাম। তারপর আমি এলজিইডি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করে তার প্রধান হয়ে জাতিসংঘে চলে যাই। জাতিসংঘ আমাকে নিয়েছে এলজিইডির মডেলটা আফ্রিকায় ইমপ্লিমেন্ট (বাস্তবায়ন) করার জন্য। কারণ আমরা লেবার ইনটেনসিভ কাজ করতাম। মানুষ এবং মেশিনকে মিক্সড করে এমপ্লয়মেন্ট ক্রিয়েশনের ওপর জোর দিয়ে কাজ করতাম বলেই এই মডেলটা যাতে আফ্রিকা মহাদেশে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি সে কারণে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আমি ১৬-১৭ বছর কাজ করে এসেছি। সেখান থেকে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হই এবং ঘুরতে ঘুরতে আবার এখন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলাম। এই মন্ত্রণালয়ে আমি ১৪-১৫ বছর চাকরি করেছি। নতুন করে এলেও এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড আমার কাছে নতুন কিছু নয়। এই মন্ত্রণালয়ের সব বিষয়ের সঙ্গে আমি পরিচিত। আমি যদিও ইঞ্জিনিয়ার ছিলাম, যেহেতু মন্ত্রণালয়ে কাজ করতাম সে কারণে সব বিষয়ে যেমন- কো-অপারেটিভ থেকে আরম্ভ করে পাবলিক হেলথসহ সব কাজের সঙ্গে কোনো না কোনো ভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। কাজেই আমি এই মন্ত্রণালয়ে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।

প্রশ্ন : পল্লীর উন্নয়নে আপনার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন এই মন্ত্রণালয়ে। আবার এখন এই মন্ত্রণালয়েরই মন্ত্রী হলেন আপনি। আপনার দৃষ্টিতে যদি এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছু বলেন…।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : এই মন্ত্রণালয়ের নামই হচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এর পরিধি কিন্তু ১৬ কোটি মানুষ। এই কারণে আমরা যদি স্থানীয় সরকারের কথা বলি তাহলে গ্রামের যে চৌকিদার তার বেতনও কিন্তু আমরা দেই। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সম্মানী আমরা দেই। প্রত্যেক মেম্বার আমাদের সঙ্গে জড়িত। আরেকটু উপরে আসলে উপজেলা। উপজেলার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এই মন্ত্রণালয়ের। একটু শহরের দিকে নজর দিন, প্রত্যেকটা পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এই মন্ত্রণালয়ের অধীন। একটা দেশের সরকার বলতে যেটা বোঝায় সেটা হচ্ছে এই মন্ত্রণালয়। কাজেই এসব সংগঠনের এমন কোনো কাজ নেই যার সঙ্গে এই মন্ত্রণালয় জড়িত নয়। এমনকি জম্ননিবন্ধন এই মন্ত্রণালয় করছে। মানুষ মারা গেলে এই মন্ত্রণালয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে সে কবরে যাচ্ছে। এ কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে- এই মন্ত্রণালয় জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে পল্লী উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের অস্তিত্ব নেই। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের কথা যদি বলেন, তারা নিয়ন্ত্রণ করছে ২১ হাজার কিলোমিটার। আর এই মন্ত্রণালয় এলজিইডির মাধ্যমে সারা দেশে তিন লাখ ১০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে এক লাখ পাঁচ হাজার কিলোমিটারই পাকা বা পিচঢালা রাস্তা। তাহলে কী দেখা যাচ্ছে- কোথায় ২১ হাজার কিলোমিটার, আর এলজিইডির পাকা রাস্তাই যদি ধরি তাহলে এক লাখ পাঁচ হাজার কিলোমিটার।

অবকাঠামোর ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ের অবদান নিঃসন্দেহে সর্ববৃহৎ। সুতরাং এই যে রাস্তাঘাট, এই যে অবকাঠামো সৃষ্টি হচ্ছে, এগুলো কিন্তু আমরা গায়ের জোরে কিংবা জমি দখল করে করছি না। মানুষের চাহিদা, তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে তারাই সাইট নির্বাচন করে এবং জমিও দান করে। সেক্ষেত্রে এই উন্নয়নের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে। এর ইকোনমিক মূল্যও অপরিসীম। এতে করে পল্লী উন্নয়ন ব্যাপকভাবে এবং অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুষমও ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এখন বলতে গেলে শহর এবং পল্লীর তফাৎ খুব একটা বেশি নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রত্যেকটা ঘরে বিদ্যুৎ চলে যাবে। তার মানে কী শহর এবং পল্লীর মধ্যে তফাৎটা একেবারেই সীমিত হয়ে আসবে। তাতে করে অলরাউন্ড ডেভেলপমেন্ট হবে এবং আমরা একটা উন্নত দেশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাব।

প্রশ্ন : থোক বরাদ্দ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদে থোক বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ আছে। থোক বরাদ্দের সুষম বণ্টনও হয় না। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য জানতে চাচ্ছি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : থোক বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা যেটা রাখি সেটা জনসংখ্যা ও এলাকার ভিত্তিতে প্রত্যেকটা ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলায় সমতার ভিত্তিতে বণ্টন করি। তবে কিছু টাকা রাখা হয় জরুরি কাজে আপদকালীন সময়ের জন্য। অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রয়োজনে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করতে হয় আর তখন আমাদের মন্ত্রণালয়ের হাতে যদি টাকা না থাকে তাহলে এসব কাজ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের একটা আপদকালীন তহবিল থাকে। এই ফান্ড থেকে যখন সচিব বরাদ্দ দেয় তখন যারা পায় না বা জানে না, তারা মনে করে যে যারা টাকা নিয়েছে তারা টাউটারি করে টাকাটা নিয়ে গেল। কিন্তু একটা টাকাও প্রকল্প ছাড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। হয় রাস্তা, না হয় মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা বা হেলথ সেন্টারের নামে এই টাকা দেওয়া হয়। এখন কথা হচ্ছে, এই টাকা

বরাদ্দের পর যে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের বিপরীতে টাকা নিল তাদের দায়দায়িত্ব সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা। এর দায়দায়িত্ব পুরোটাই তাদের। আমরা মন্ত্রণালয় যেটা করি, সেটা হচ্ছে- আমরা দেখার চেষ্টা করি যে, বিশেষ ফান্ড যারা নিল সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা।

প্রশ্ন : একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। দারিদ্র্য দূরীকরণে এ প্রকল্প একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু নানা কারণে এ প্রকল্প মূল উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : এ প্রকল্প এখন পর্যন্ত আদর্শচ্যুত হয়নি। এটি একটি সঞ্চয়মুখী প্রকল্প। একজন সদস্য যদি নিজে ২০০ টাকা সঞ্চয় না দেয় তাহলে সে সরকারের কাছ থেকে ২০০ টাকা পাবে না। এ সঞ্চয় দিয়েই এ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে একটা বিরাট অঙ্কের সঞ্চয় তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা ব্যাপক বেড়ে গেছে। যাদের কোনো সহায়সম্বল ছিল না, যাদের অর্থনৈতিক কোনো গতি ছিল না, তারা এ প্রকল্পের মাধ্যমে এখন স্বাবলম্বী। তারা কো-অপারেটিভ বেসিসে কাজ করে।

এ প্রকল্প নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা বিচারের বিষয়। তবে ঢালাওভাবে বলা যাবে না যে, সব জিনিসই অপচায় হয়েছে। এত বড় কর্মযজ্ঞে দু-চারটা গ্রুপ যদি বিচ্যুত না হতো তাহলে বলা যেত এটা অস্বাভাবিক। দু-চারটা গ্রুপ যেহেতু বিচ্যুত হয়েছে, তাই বলা যায় এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। কেউ টিকে থাকতে পারছে, কেউ পারেনি। কিংবা কেউ স্বেচ্ছায় চলে গেছে। এ থেকে কোনোভাবেই বলা যাবে না যে এ প্রকল্প আদর্শচ্যুত হয়েছে। কাজেই এটা নিয়ে এভাবে বিচার করা যাবে না।

যেটা বিচার করতে হবে সেটা হচ্ছে- এর উদ্দেশ্যটা কতখানি সফল হয়েছে। দুই হাজার-আড়াই হাজার কোটি টাকার একটা অ্যাসেট তৈরি হয়ে থাকলে সেটা বিশাল ব্যাপার। আমার কাছে যেটা আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে, এটার বড় দুর্বলতা এই প্রকল্পে মানুষের যথেষ্ট সম্পৃক্ততা নেই। যেখানে যে এলাকায় এ প্রকল্প করা হচ্ছে সেখানে ওই ৪০-৫০ জন জানে। এর বাইরে আর কেউ এ প্রকল্প সম্পর্কে জানে না। ব্যাপকভাবে এটি আলোচিত হয়নি। আমার প্রথম টার্গেট হবে এটিকে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে মানুষকে সম্পৃক্ত করা।

প্রশ্ন : জেলা পরিষদের নির্বাচন কি আদৌ হবে?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়া উচিত। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে কীভাবে জেলা পরিষদের নির্বাচন করব, আমরা সে পদ্ধতিটা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। চিন্তা করে দেখেন একটা জেলায় সাত-আটটি সংসদীয় আসন আছে। এ সাত-আটটি আসনের ভোটাররা ভোট দেবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার জন্য। এখন ওই স্ট্রাকচারের একটা লোককে সারা জেলায় প্রতিটি গ্রামে নির্বাচন করাব, নাকি প্রতিটি আলাদা সেক্টরে ভাগ করে মেম্বার নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে- এ বিতর্কের সুষ্ঠু একটা সমাধানে আমরা এখনো আসতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করছি অন্যান্য কাজের ফাঁকে এ বিষয়টা একটা সমাধানের।

তবে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকার কারণে জেলা পরিষদের কোনো কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোনো নজির নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি একটা সুষ্ঠু পদ্ধতি খোঁজার। সেটি পেলেই আমরা নির্বাচন করব।

প্রশ্ন : স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কাজে টেন্ডার নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এটি বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : দেখেন, যারা এসব টেন্ডারবাজি করে তারা কিন্তু কোনো সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব করে না। টেন্ডারের তারিখ দেওয়া হয়, শিডিউল কারা কিনবে কারা কিনবে না এসব বিষয়ে কোনো এক জায়গায় বসে ঠিকাদাররা নিজেদের মধ্যে নেগোশিয়েট করে। তখন কেউ যদি বিদ্রোহ করে টেন্ডারে অংশ নিতে চায় তখনই টেন্ডারবাজির ঘটনা ঘটে। যারা দুর্বৃত্ত এগুলো তারাই করে। এটা করলেই আপনি ঢালাওভাবে বলে দিলেন ছাত্রলীগ-যুবলীগ করছে। ওখানে যে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, বিএনপি আছে সেটা বলতে লজ্জাটা কোথায়? একটা গোলমাল হলেই বলে দেওয়া হয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ। তাদের কপালে কোথায় লেখা আছে ওরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ করে। আমি জানি সেখানে ছাত্রদল-যুবদলের কর্মীরাও ছিল। এক কথায় দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই। দয়া করে এটাকে পলিটিক্যাল পরিচিতি দেবন না। যখনই পলিটিক্যাল পরিচিতি দেবেন তখনই জনগণ বুঝবে এটা পলিটিক্যালি করা হচ্ছে। কাজেই দয়া করে এগুলো করবেন না। আপনারা জনসচেতনতা বাড়ান।

প্রশ্ন : সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে খণ্ডাবেন?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : রাজনৈতিক বিদ্বেষ নিয়ে কাউকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হয়নি। এ অভিযোগ একেবারেই সঠিক নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাউকে অপসারণ বা বরখাস্ত করা হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমেই অপসারণ বা বরখাস্ত করা হয়। এখানে দলবাজি করার সুযোগ নেই। যে নির্বাচিত প্রতিনিধি যার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ আছে, আদালতে চার্জশিট হয়, ওয়ারেন্ট ইস্যু হয় তখন তাকে ক্ষমতায় রাখার মতো আইনি কোনো সুযোগ আমাদের থাকে না। চার্জশিট হলেই আমরা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এর মধ্যে অন্য কোনো ইস্যু নেই।

প্রশ্ন : এ মন্ত্রণালয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : পরিকল্পনা বলতে এখানে এ মন্ত্রণালয়ের কাজ কিন্তু একেবারে সুনির্দিষ্ট করা। আমরা কী কী করতে পারব, কী কী করতে পারব না তা একেবারেই সেট করা। তবে আমি এখনো পরিপূর্ণভাবে পুরো মন্ত্রণালয় সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি। সব ব্রিফিং এখনো আমার কাছে নেই। যার ফলে এখন পর্যন্ত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করিনি। তবে জেনারেলি বলতে গেলে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে অবশ্যই জোর দিতে হবে। এরপর গ্রামীণ অর্থনীতিকে সফল করতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিতে হবে। যার অন্যতম একটি চালিকাশক্তি হচ্ছে একটি বাড়ি, একটি খামার। এই যে, আপনি আগে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা বললেন সেগুলো ওভারকাম করেই আমাদের এগোতে হবে। মনে রাখতে হবে, এটা একটা ব্যাপক উদ্যোগ। আমার মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে এটার ওপর যথার্থ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া অন্যান্য কো-অপারেটিভকে সচল করা, জনগণকে সম্পৃক্ত করা। জনগণের সহযোগিতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখার কাজকেও আমি গুরুত্ব দিচ্ছি।

প্রশ্ন : পৌরসভায় শুধু মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। কাউন্সিলর পদে কেন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা যাচ্ছে না?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : আমরা প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছি। এখন আমরা ট্রায়াল দিচ্ছি। এটার রিঅ্যাকশনটা দেখি। তারপর পরবর্তী ধাপে আমরা কাউন্সিলর পদেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনে আইন করব।

প্রশ্ন : ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মর্যাদার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : এটা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এটা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

বদলে যাবে পল্লী অবকাঠামো ব্যবস্থা

আপডেট টাইম : ০৯:৫২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৫

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এই মন্ত্রণালয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তার লক্ষ্য হচ্ছে, এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি জোর দেওয়া। যার মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের চেহারাই পাল্টে যাবে। বলেছেন, পল্লীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি বাড়ি একটি খামার হচ্ছে একটি চালিকাশক্তি। কিন্তু এ প্রকল্পে ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ নেই। এটিকে মানুষের কাছে নিয়ে এর ব্যাপকতা বোঝাতে হবে। এ ছাড়া তিনি বলেছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের পদ্ধতি বের করার চেষ্টা করছেন তারা। আর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের যেসব প্রতিনিধিকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত বা সাময়িক অপসারণ করা হয়েছে, তাদের কাউকেই অন্যায়ভাবে কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে অপসারণ করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মামলায় অনেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা হয়েছে আদালতে। গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে বসে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার নিজামুল হক বিপুল।

প্রশ্ন : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কেমন উপভোগ করছেন?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : সব কয়টা মন্ত্রণালয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী কল্যাণ যে মন্ত্রণালয়ে ছিলাম, সেটাও জাতীয় অর্থনীতিতে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখত এবং সেখানে প্রায় এক কোটি মানুষ ওই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাদের ওয়েলফেয়ার, তাদের বিদেশ গমন সব বিষয় ওই মন্ত্রণালয়ের আওতায়। ওই মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি, কর্মযজ্ঞ, সবই তার নিজস্বতায় চলে। গুরুত্বের দিক দিয়ে বিবেচনা করলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। জাতীয় অর্থনীতিতে তারা প্রায় ১১ থেকে ১৩ শতাংশ কন্ট্রিবিউশন করে বর্তমানে। যদি তাদের কিছু ইনসেনটিভ দেওয়া হয় তাহলে কিন্তু তাদের কন্ট্রিবিউশন হবে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। কারণ এখন আমাদের রেমিটেন্স ১৬/১৭ বিলিয়ন ডলার। আর প্রতি বছর পাঁচ থেকে ছয় লাখ লোক বিদেশে যাচ্ছে। সেখানে বিরাট কর্মকাণ্ড। সুতরাং এর কর্মপরিধি এক রকম। আর এখানকার কর্মপরিধি আরেক রকম। এটা হচ্ছে আমার পুরনো জায়গা। এলজিইডি ডিপার্টমেন্টটা আমারই তৈরি করা। শুধু তৈরি করা নয়, এলজিইডির জম্নলগ্ন থেকেই আমি এর সঙ্গে জড়িত।

আমি বাংলাদেশে প্রথম ডিগ্রি হোল্ডার ইঞ্জিনিয়ার। আমি সরাসরি লোকাল গভর্নমেন্টে চাকরি পেয়েছি। ডিগ্রি হোল্ডার হিসেবে খুলনা জেলা বোর্ডে আমি এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্কস) প্রোগ্রামে ছিলাম। তারপর আমি এলজিইডি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করে তার প্রধান হয়ে জাতিসংঘে চলে যাই। জাতিসংঘ আমাকে নিয়েছে এলজিইডির মডেলটা আফ্রিকায় ইমপ্লিমেন্ট (বাস্তবায়ন) করার জন্য। কারণ আমরা লেবার ইনটেনসিভ কাজ করতাম। মানুষ এবং মেশিনকে মিক্সড করে এমপ্লয়মেন্ট ক্রিয়েশনের ওপর জোর দিয়ে কাজ করতাম বলেই এই মডেলটা যাতে আফ্রিকা মহাদেশে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি সে কারণে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আমি ১৬-১৭ বছর কাজ করে এসেছি। সেখান থেকে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হই এবং ঘুরতে ঘুরতে আবার এখন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলাম। এই মন্ত্রণালয়ে আমি ১৪-১৫ বছর চাকরি করেছি। নতুন করে এলেও এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড আমার কাছে নতুন কিছু নয়। এই মন্ত্রণালয়ের সব বিষয়ের সঙ্গে আমি পরিচিত। আমি যদিও ইঞ্জিনিয়ার ছিলাম, যেহেতু মন্ত্রণালয়ে কাজ করতাম সে কারণে সব বিষয়ে যেমন- কো-অপারেটিভ থেকে আরম্ভ করে পাবলিক হেলথসহ সব কাজের সঙ্গে কোনো না কোনো ভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। কাজেই আমি এই মন্ত্রণালয়ে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।

প্রশ্ন : পল্লীর উন্নয়নে আপনার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন এই মন্ত্রণালয়ে। আবার এখন এই মন্ত্রণালয়েরই মন্ত্রী হলেন আপনি। আপনার দৃষ্টিতে যদি এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছু বলেন…।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : এই মন্ত্রণালয়ের নামই হচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এর পরিধি কিন্তু ১৬ কোটি মানুষ। এই কারণে আমরা যদি স্থানীয় সরকারের কথা বলি তাহলে গ্রামের যে চৌকিদার তার বেতনও কিন্তু আমরা দেই। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সম্মানী আমরা দেই। প্রত্যেক মেম্বার আমাদের সঙ্গে জড়িত। আরেকটু উপরে আসলে উপজেলা। উপজেলার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এই মন্ত্রণালয়ের। একটু শহরের দিকে নজর দিন, প্রত্যেকটা পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এই মন্ত্রণালয়ের অধীন। একটা দেশের সরকার বলতে যেটা বোঝায় সেটা হচ্ছে এই মন্ত্রণালয়। কাজেই এসব সংগঠনের এমন কোনো কাজ নেই যার সঙ্গে এই মন্ত্রণালয় জড়িত নয়। এমনকি জম্ননিবন্ধন এই মন্ত্রণালয় করছে। মানুষ মারা গেলে এই মন্ত্রণালয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে সে কবরে যাচ্ছে। এ কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে- এই মন্ত্রণালয় জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে পল্লী উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের অস্তিত্ব নেই। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের কথা যদি বলেন, তারা নিয়ন্ত্রণ করছে ২১ হাজার কিলোমিটার। আর এই মন্ত্রণালয় এলজিইডির মাধ্যমে সারা দেশে তিন লাখ ১০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে এক লাখ পাঁচ হাজার কিলোমিটারই পাকা বা পিচঢালা রাস্তা। তাহলে কী দেখা যাচ্ছে- কোথায় ২১ হাজার কিলোমিটার, আর এলজিইডির পাকা রাস্তাই যদি ধরি তাহলে এক লাখ পাঁচ হাজার কিলোমিটার।

অবকাঠামোর ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ের অবদান নিঃসন্দেহে সর্ববৃহৎ। সুতরাং এই যে রাস্তাঘাট, এই যে অবকাঠামো সৃষ্টি হচ্ছে, এগুলো কিন্তু আমরা গায়ের জোরে কিংবা জমি দখল করে করছি না। মানুষের চাহিদা, তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে তারাই সাইট নির্বাচন করে এবং জমিও দান করে। সেক্ষেত্রে এই উন্নয়নের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে। এর ইকোনমিক মূল্যও অপরিসীম। এতে করে পল্লী উন্নয়ন ব্যাপকভাবে এবং অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুষমও ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এখন বলতে গেলে শহর এবং পল্লীর তফাৎ খুব একটা বেশি নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রত্যেকটা ঘরে বিদ্যুৎ চলে যাবে। তার মানে কী শহর এবং পল্লীর মধ্যে তফাৎটা একেবারেই সীমিত হয়ে আসবে। তাতে করে অলরাউন্ড ডেভেলপমেন্ট হবে এবং আমরা একটা উন্নত দেশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাব।

প্রশ্ন : থোক বরাদ্দ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদে থোক বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ আছে। থোক বরাদ্দের সুষম বণ্টনও হয় না। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য জানতে চাচ্ছি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : থোক বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা যেটা রাখি সেটা জনসংখ্যা ও এলাকার ভিত্তিতে প্রত্যেকটা ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলায় সমতার ভিত্তিতে বণ্টন করি। তবে কিছু টাকা রাখা হয় জরুরি কাজে আপদকালীন সময়ের জন্য। অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রয়োজনে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করতে হয় আর তখন আমাদের মন্ত্রণালয়ের হাতে যদি টাকা না থাকে তাহলে এসব কাজ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের একটা আপদকালীন তহবিল থাকে। এই ফান্ড থেকে যখন সচিব বরাদ্দ দেয় তখন যারা পায় না বা জানে না, তারা মনে করে যে যারা টাকা নিয়েছে তারা টাউটারি করে টাকাটা নিয়ে গেল। কিন্তু একটা টাকাও প্রকল্প ছাড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। হয় রাস্তা, না হয় মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা বা হেলথ সেন্টারের নামে এই টাকা দেওয়া হয়। এখন কথা হচ্ছে, এই টাকা

বরাদ্দের পর যে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের বিপরীতে টাকা নিল তাদের দায়দায়িত্ব সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা। এর দায়দায়িত্ব পুরোটাই তাদের। আমরা মন্ত্রণালয় যেটা করি, সেটা হচ্ছে- আমরা দেখার চেষ্টা করি যে, বিশেষ ফান্ড যারা নিল সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা।

প্রশ্ন : একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। দারিদ্র্য দূরীকরণে এ প্রকল্প একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু নানা কারণে এ প্রকল্প মূল উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : এ প্রকল্প এখন পর্যন্ত আদর্শচ্যুত হয়নি। এটি একটি সঞ্চয়মুখী প্রকল্প। একজন সদস্য যদি নিজে ২০০ টাকা সঞ্চয় না দেয় তাহলে সে সরকারের কাছ থেকে ২০০ টাকা পাবে না। এ সঞ্চয় দিয়েই এ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে একটা বিরাট অঙ্কের সঞ্চয় তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা ব্যাপক বেড়ে গেছে। যাদের কোনো সহায়সম্বল ছিল না, যাদের অর্থনৈতিক কোনো গতি ছিল না, তারা এ প্রকল্পের মাধ্যমে এখন স্বাবলম্বী। তারা কো-অপারেটিভ বেসিসে কাজ করে।

এ প্রকল্প নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা বিচারের বিষয়। তবে ঢালাওভাবে বলা যাবে না যে, সব জিনিসই অপচায় হয়েছে। এত বড় কর্মযজ্ঞে দু-চারটা গ্রুপ যদি বিচ্যুত না হতো তাহলে বলা যেত এটা অস্বাভাবিক। দু-চারটা গ্রুপ যেহেতু বিচ্যুত হয়েছে, তাই বলা যায় এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। কেউ টিকে থাকতে পারছে, কেউ পারেনি। কিংবা কেউ স্বেচ্ছায় চলে গেছে। এ থেকে কোনোভাবেই বলা যাবে না যে এ প্রকল্প আদর্শচ্যুত হয়েছে। কাজেই এটা নিয়ে এভাবে বিচার করা যাবে না।

যেটা বিচার করতে হবে সেটা হচ্ছে- এর উদ্দেশ্যটা কতখানি সফল হয়েছে। দুই হাজার-আড়াই হাজার কোটি টাকার একটা অ্যাসেট তৈরি হয়ে থাকলে সেটা বিশাল ব্যাপার। আমার কাছে যেটা আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে, এটার বড় দুর্বলতা এই প্রকল্পে মানুষের যথেষ্ট সম্পৃক্ততা নেই। যেখানে যে এলাকায় এ প্রকল্প করা হচ্ছে সেখানে ওই ৪০-৫০ জন জানে। এর বাইরে আর কেউ এ প্রকল্প সম্পর্কে জানে না। ব্যাপকভাবে এটি আলোচিত হয়নি। আমার প্রথম টার্গেট হবে এটিকে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে মানুষকে সম্পৃক্ত করা।

প্রশ্ন : জেলা পরিষদের নির্বাচন কি আদৌ হবে?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়া উচিত। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে কীভাবে জেলা পরিষদের নির্বাচন করব, আমরা সে পদ্ধতিটা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। চিন্তা করে দেখেন একটা জেলায় সাত-আটটি সংসদীয় আসন আছে। এ সাত-আটটি আসনের ভোটাররা ভোট দেবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার জন্য। এখন ওই স্ট্রাকচারের একটা লোককে সারা জেলায় প্রতিটি গ্রামে নির্বাচন করাব, নাকি প্রতিটি আলাদা সেক্টরে ভাগ করে মেম্বার নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে- এ বিতর্কের সুষ্ঠু একটা সমাধানে আমরা এখনো আসতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করছি অন্যান্য কাজের ফাঁকে এ বিষয়টা একটা সমাধানের।

তবে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকার কারণে জেলা পরিষদের কোনো কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোনো নজির নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি একটা সুষ্ঠু পদ্ধতি খোঁজার। সেটি পেলেই আমরা নির্বাচন করব।

প্রশ্ন : স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কাজে টেন্ডার নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এটি বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : দেখেন, যারা এসব টেন্ডারবাজি করে তারা কিন্তু কোনো সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব করে না। টেন্ডারের তারিখ দেওয়া হয়, শিডিউল কারা কিনবে কারা কিনবে না এসব বিষয়ে কোনো এক জায়গায় বসে ঠিকাদাররা নিজেদের মধ্যে নেগোশিয়েট করে। তখন কেউ যদি বিদ্রোহ করে টেন্ডারে অংশ নিতে চায় তখনই টেন্ডারবাজির ঘটনা ঘটে। যারা দুর্বৃত্ত এগুলো তারাই করে। এটা করলেই আপনি ঢালাওভাবে বলে দিলেন ছাত্রলীগ-যুবলীগ করছে। ওখানে যে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, বিএনপি আছে সেটা বলতে লজ্জাটা কোথায়? একটা গোলমাল হলেই বলে দেওয়া হয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ। তাদের কপালে কোথায় লেখা আছে ওরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ করে। আমি জানি সেখানে ছাত্রদল-যুবদলের কর্মীরাও ছিল। এক কথায় দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই। দয়া করে এটাকে পলিটিক্যাল পরিচিতি দেবন না। যখনই পলিটিক্যাল পরিচিতি দেবেন তখনই জনগণ বুঝবে এটা পলিটিক্যালি করা হচ্ছে। কাজেই দয়া করে এগুলো করবেন না। আপনারা জনসচেতনতা বাড়ান।

প্রশ্ন : সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে খণ্ডাবেন?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : রাজনৈতিক বিদ্বেষ নিয়ে কাউকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হয়নি। এ অভিযোগ একেবারেই সঠিক নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাউকে অপসারণ বা বরখাস্ত করা হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমেই অপসারণ বা বরখাস্ত করা হয়। এখানে দলবাজি করার সুযোগ নেই। যে নির্বাচিত প্রতিনিধি যার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ আছে, আদালতে চার্জশিট হয়, ওয়ারেন্ট ইস্যু হয় তখন তাকে ক্ষমতায় রাখার মতো আইনি কোনো সুযোগ আমাদের থাকে না। চার্জশিট হলেই আমরা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে আইনগতভাবে বাধ্য। এর মধ্যে অন্য কোনো ইস্যু নেই।

প্রশ্ন : এ মন্ত্রণালয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : পরিকল্পনা বলতে এখানে এ মন্ত্রণালয়ের কাজ কিন্তু একেবারে সুনির্দিষ্ট করা। আমরা কী কী করতে পারব, কী কী করতে পারব না তা একেবারেই সেট করা। তবে আমি এখনো পরিপূর্ণভাবে পুরো মন্ত্রণালয় সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি। সব ব্রিফিং এখনো আমার কাছে নেই। যার ফলে এখন পর্যন্ত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করিনি। তবে জেনারেলি বলতে গেলে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে অবশ্যই জোর দিতে হবে। এরপর গ্রামীণ অর্থনীতিকে সফল করতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিতে হবে। যার অন্যতম একটি চালিকাশক্তি হচ্ছে একটি বাড়ি, একটি খামার। এই যে, আপনি আগে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা বললেন সেগুলো ওভারকাম করেই আমাদের এগোতে হবে। মনে রাখতে হবে, এটা একটা ব্যাপক উদ্যোগ। আমার মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে এটার ওপর যথার্থ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া অন্যান্য কো-অপারেটিভকে সচল করা, জনগণকে সম্পৃক্ত করা। জনগণের সহযোগিতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখার কাজকেও আমি গুরুত্ব দিচ্ছি।

প্রশ্ন : পৌরসভায় শুধু মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। কাউন্সিলর পদে কেন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা যাচ্ছে না?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : আমরা প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছি। এখন আমরা ট্রায়াল দিচ্ছি। এটার রিঅ্যাকশনটা দেখি। তারপর পরবর্তী ধাপে আমরা কাউন্সিলর পদেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনে আইন করব।

প্রশ্ন : ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মর্যাদার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা?

খন্দকার মোশাররফ হোসেন : এটা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এটা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।