ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

৩ বছর অবহেলিত আবু নাসের স্টেডিয়াম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৫
  • ৬৫৫ বার

খুলনা-যশোর মহাসড়কের বৈকালী ও মুজগুন্নী এলাকার ঠিক মধ্য সীমানায় অবস্থিত খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। শেষ হয়েছে ১৯৯৭ সালে। আওয়ামী লীগ সরকার এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করেছে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। মাঝে ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার নাম বদলে ফেলে রেখেছিল বিভাগীয় বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়াম।

স্টেডিয়ামটি ২০০৪ সালে উদ্বোধন করা হয়েছে। তখন এটির দর্শক ধারণক্ষমতা ছিল ১২ হাজার। একই বছর আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের কিছু খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়াম; এখন দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর একই বছর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এই মাঠে ২টি ওয়ানডে খেলেছিল কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাংলাদেশের প্রথম টোয়েন্টি২০ ম্যাচটিও হয়েছিল এখানেই। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে।

খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম ২০০৯ সালে আবারও পুরানো নাম শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ফিরে এসেছে। এই নামেই দেশের সপ্তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর খুলনার মাটিতে প্রথম টেস্ট ম্যাচ গড়ায়। এর পর এই মাঠে আরও দুটি টেস্ট এবং দুটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খুলনার মাটিতে অনুষ্ঠিত তিন ধরনের ক্রিকেটেরই স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সবগুলো টোয়েন্টি২০ এবং ওয়ানডে ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর এ মাঠে দেখা গেছে বেশকিছু বিশ্বরেকর্ডও। আর তাই তো খুলনার এ স্টেডিয়ামকে লাকি ভেন্যুও বলা হয়।

২০১২ সালে প্রথম টেস্টের পর ৩ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ((www.nsc.gov.bd) ওঠেনি শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের নাম। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ক্রীড়া পরিষদের ওয়েবসাইটে উল্লিখিত আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের তালিকায়ও রাখা হয়নি শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের নাম।

অন্যদিকে ওয়েবসাইটে অবকাঠামো অন্তর্গত খেলাভিত্তিক স্টেডিয়ামের মধ্যে ক্রিকেট ভেন্যুগুলোর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়াম, খুলনা (বিভাগীয় স্টেডিয়াম) নাম রয়েছে ৩ নম্বরে। ওয়েবসাইটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫।

সরকারিভাবে নাম বদলের সিদ্ধান্তের ৬ বছর পার হলেও ক্রীড়া পরিষদের ওয়েবসাইটে শোভা পাচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়াম, খুলনা (বিভাগীয় স্টেডিয়াম) নামটি এবং সেই সঙ্গে কোথাও দেখা মিলছে না শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম নামটি। অথচ টেস্ট ভেন্যুর মর্যাদা না পেয়েও ক্রীড়া পরিষদের ওয়েবসাইটে ঠাঁই পেয়েছে গোপালগঞ্জের শেখ কামাল স্টেডিয়াম ও সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামটি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরাও কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। ‘সবাই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর চেষ্টা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

৩ বছর অবহেলিত আবু নাসের স্টেডিয়াম

আপডেট টাইম : ১১:১৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৫

খুলনা-যশোর মহাসড়কের বৈকালী ও মুজগুন্নী এলাকার ঠিক মধ্য সীমানায় অবস্থিত খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। শেষ হয়েছে ১৯৯৭ সালে। আওয়ামী লীগ সরকার এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করেছে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। মাঝে ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার নাম বদলে ফেলে রেখেছিল বিভাগীয় বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়াম।

স্টেডিয়ামটি ২০০৪ সালে উদ্বোধন করা হয়েছে। তখন এটির দর্শক ধারণক্ষমতা ছিল ১২ হাজার। একই বছর আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের কিছু খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়াম; এখন দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর একই বছর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এই মাঠে ২টি ওয়ানডে খেলেছিল কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাংলাদেশের প্রথম টোয়েন্টি২০ ম্যাচটিও হয়েছিল এখানেই। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে।

খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম ২০০৯ সালে আবারও পুরানো নাম শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ফিরে এসেছে। এই নামেই দেশের সপ্তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর খুলনার মাটিতে প্রথম টেস্ট ম্যাচ গড়ায়। এর পর এই মাঠে আরও দুটি টেস্ট এবং দুটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খুলনার মাটিতে অনুষ্ঠিত তিন ধরনের ক্রিকেটেরই স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সবগুলো টোয়েন্টি২০ এবং ওয়ানডে ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর এ মাঠে দেখা গেছে বেশকিছু বিশ্বরেকর্ডও। আর তাই তো খুলনার এ স্টেডিয়ামকে লাকি ভেন্যুও বলা হয়।

২০১২ সালে প্রথম টেস্টের পর ৩ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ((www.nsc.gov.bd) ওঠেনি শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের নাম। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ক্রীড়া পরিষদের ওয়েবসাইটে উল্লিখিত আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের তালিকায়ও রাখা হয়নি শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের নাম।

অন্যদিকে ওয়েবসাইটে অবকাঠামো অন্তর্গত খেলাভিত্তিক স্টেডিয়ামের মধ্যে ক্রিকেট ভেন্যুগুলোর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়াম, খুলনা (বিভাগীয় স্টেডিয়াম) নাম রয়েছে ৩ নম্বরে। ওয়েবসাইটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫।

সরকারিভাবে নাম বদলের সিদ্ধান্তের ৬ বছর পার হলেও ক্রীড়া পরিষদের ওয়েবসাইটে শোভা পাচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়াম, খুলনা (বিভাগীয় স্টেডিয়াম) নামটি এবং সেই সঙ্গে কোথাও দেখা মিলছে না শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম নামটি। অথচ টেস্ট ভেন্যুর মর্যাদা না পেয়েও ক্রীড়া পরিষদের ওয়েবসাইটে ঠাঁই পেয়েছে গোপালগঞ্জের শেখ কামাল স্টেডিয়াম ও সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামটি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরাও কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। ‘সবাই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর চেষ্টা করেছেন।