ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

“বর্ষায় হাওরের শান্ত জলে শান্তশিষ্টের দাঁড়িয়ে থাকে হিজলগাছ”

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৯
  • ৩৮১ বার

জাকির হোসাইনঃ বর্ষায় হাওরের শান্ত জলে শান্তশিষ্টের মতোই দাঁড়িয়ে থাকে হিজলগাছ। কখনো একাকী আবার কখনো সারিবদ্ধ থাকে। হেমন্তে হাওরের পানি শুকিয়ে চারদিক যখন বোরো জমিতে পরিণত হয়, তখনো একইভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে হিজল দলবল । এটি ভাটির হাওর অঞ্চলের চিরপরিচিত নৈসর্গিক দৃশ্য। এমন কোনো হাওর, বিল, নেই যেখানে হিজলগাছ নেই। দেশের হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলার ৪০টি উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে ‘হিজলগাছের প্রাচীর’ রয়েছে। এ অঞ্চলের আগের কালের হিন্দু বাসিন্দারা বংশপরম্পরায় হিজলগাছ রোপণ করা শিখেছিল আদিপুরুষ কাছ থেকে। গাছটির আদি নিবাস ভারতবর্ষ, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। ‘হিজল’ শব্দটি বাংলা। এর সংস্কৃিত নাম ‘নিচুল’। এ ছাড়া ‘জলন্ত’, ‘নদীক্রান্ত’ এসব নামেও হিজলগাছ পরিচিত। নিসর্গবিদ এক কৃষিবিদ তাঁর বাংলাদেশের ফুল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘হিজল মাঝারি ধরনের ডালপালা ছড়ানো দীর্ঘজীবী গাছ। সাধারণত জলজ কাদা, পানিতে এই গাছ জন্মে। বীজ থেকে গাছ হয়। বাংলাদেশের সর্বত্র খাল, বিল, নদী, ডোবা, হাওর ইত্যাদি জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়। হিজল ফুল দেখতে খুবই সুন্দর। হালকা গোলাপি রঙের ১০-১২ সেমি লম্বা পুষ্পদণ্ডের মাঝে অসংখ্য ফুল ঝুলন্ত অবস্থায় ফোটে। গভীর রাতে ফুল ফোটে, সকালে ঝরে যায়। ফুলে একধরনের মিষ্টি মাদকতাময় গন্ধ আছে।’

হিজলগাছের প্রাণশক্তি প্রবল। বন্যার পানি কিংবা তীব্র খরাতেও টিকে থাকে। এমনকি পানির নিচে কয়েক মাস নিমজ্জিত থাকলেও হিজলগাছ বেঁচে থাকে। হাওর অঞ্চলে এ গাছের ডাল মাছের অভয়রাণ্য তৈরিতে ব্যবহূত হয়। কবি জীবনানন্দ দাশ হিজলগাছের সৌন্দর্য নিয়ে একাধিক কবিতা রচনা করেছেন। তিনি বাংলার রূপের সঙ্গে হিজলগাছের ছায়াকে তুলনা করে লিখেছিলেন, ‘এমনই হিজল—বট—তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ’। উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস তাঁর গানে উল্লেখ করেছেন হিজলের কথা—‘হাওরের পানি নাই রে হেথায়, নাই রে তাজা মাছ,বিলের বুকে ডালা মেলা, নাই রে হিজল গাছ’।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ

“বর্ষায় হাওরের শান্ত জলে শান্তশিষ্টের দাঁড়িয়ে থাকে হিজলগাছ”

আপডেট টাইম : ১২:৪১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৯

জাকির হোসাইনঃ বর্ষায় হাওরের শান্ত জলে শান্তশিষ্টের মতোই দাঁড়িয়ে থাকে হিজলগাছ। কখনো একাকী আবার কখনো সারিবদ্ধ থাকে। হেমন্তে হাওরের পানি শুকিয়ে চারদিক যখন বোরো জমিতে পরিণত হয়, তখনো একইভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে হিজল দলবল । এটি ভাটির হাওর অঞ্চলের চিরপরিচিত নৈসর্গিক দৃশ্য। এমন কোনো হাওর, বিল, নেই যেখানে হিজলগাছ নেই। দেশের হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলার ৪০টি উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে ‘হিজলগাছের প্রাচীর’ রয়েছে। এ অঞ্চলের আগের কালের হিন্দু বাসিন্দারা বংশপরম্পরায় হিজলগাছ রোপণ করা শিখেছিল আদিপুরুষ কাছ থেকে। গাছটির আদি নিবাস ভারতবর্ষ, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। ‘হিজল’ শব্দটি বাংলা। এর সংস্কৃিত নাম ‘নিচুল’। এ ছাড়া ‘জলন্ত’, ‘নদীক্রান্ত’ এসব নামেও হিজলগাছ পরিচিত। নিসর্গবিদ এক কৃষিবিদ তাঁর বাংলাদেশের ফুল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘হিজল মাঝারি ধরনের ডালপালা ছড়ানো দীর্ঘজীবী গাছ। সাধারণত জলজ কাদা, পানিতে এই গাছ জন্মে। বীজ থেকে গাছ হয়। বাংলাদেশের সর্বত্র খাল, বিল, নদী, ডোবা, হাওর ইত্যাদি জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়। হিজল ফুল দেখতে খুবই সুন্দর। হালকা গোলাপি রঙের ১০-১২ সেমি লম্বা পুষ্পদণ্ডের মাঝে অসংখ্য ফুল ঝুলন্ত অবস্থায় ফোটে। গভীর রাতে ফুল ফোটে, সকালে ঝরে যায়। ফুলে একধরনের মিষ্টি মাদকতাময় গন্ধ আছে।’

হিজলগাছের প্রাণশক্তি প্রবল। বন্যার পানি কিংবা তীব্র খরাতেও টিকে থাকে। এমনকি পানির নিচে কয়েক মাস নিমজ্জিত থাকলেও হিজলগাছ বেঁচে থাকে। হাওর অঞ্চলে এ গাছের ডাল মাছের অভয়রাণ্য তৈরিতে ব্যবহূত হয়। কবি জীবনানন্দ দাশ হিজলগাছের সৌন্দর্য নিয়ে একাধিক কবিতা রচনা করেছেন। তিনি বাংলার রূপের সঙ্গে হিজলগাছের ছায়াকে তুলনা করে লিখেছিলেন, ‘এমনই হিজল—বট—তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ’। উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস তাঁর গানে উল্লেখ করেছেন হিজলের কথা—‘হাওরের পানি নাই রে হেথায়, নাই রে তাজা মাছ,বিলের বুকে ডালা মেলা, নাই রে হিজল গাছ’।