ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৃষ্টিরহস্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন মাইল ফলক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯
  • ৩৬৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সৃষ্টিরহস্যের তত্ত্ব ও জ্যোতির্বিদ্যার দুটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারের জন্য এবছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো। পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজন বিজ্ঞানী হলেন—কানাডিয়ান-আমেরিকান কসমোলজিস্ট (সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানী) জেমস পিব্লস এবং দুই সুইস জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাইকেল মেয়া ও ডিডিয়ে কোলজ ।

মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণের পরে যে কসমিক মাইক্রোওয়েভ বিকিরিত হয়েছিল গাণিতিকভাবে তাতে পদার্থের পরিমাণ নিরূপণ করে ৮৪ বছর বয়সী তারকা সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানী (কসমোলজিস্ট) জেমস পিব্লস জিতে নেন নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ।

পিবলস তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির পর বিকিরণের খুব সামান্যই (মাত্র ৫%) সাধারণ পদার্থ দিয়ে গ্রহ, উপগ্রহ ও তারা গঠিত। বাকি ৯৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি নামক দুইটি রহস্যজনক পদার্থের মিশ্রণ। মহাবিস্ফোরণের বিকিরণের ২৭% ডার্ক ম্যাটার অতি শক্তিশালী মহাকর্ষীয় বলের প্রভাব ছাড়া সাধারণ পদার্থের সংস্পর্শে আসে না। অন্যদিকে বাকি ৬৮% ‘ডার্ক এনার্জি’ শক্তির একটি বিশেষ রূপে মহাবিশ্বের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটায়।

নোবেল কমিটি মেম্বার পদার্থবিজ্ঞানী উল্ফ ডেনিলসন এক কাফ কফি, ক্রিম ও চিনির উদাহরণ দিয়ে অভিনব উপস্থাপনায় কসমিক মাইক্রোওয়েভ বিকিরণের উপাদানসমূহ সম্বন্ধে ধারণা দিয়েছেন। উপস্থাপনায় তিনি কফির লিকারটিকে ডার্ক এনার্জি, খানিকটা ক্রিম ঢেলে তাকে ডার্ক ম্যাটার ও কয়েক দানা চিনিকে সাধারণ পদার্থ (অরডিনারি ম্যাটার) হিসাবে উদাহরণ দেন। জেমস পিব্লসের আবিষ্কারটিকে তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদ্ধারে নতুন দিগন্ত হিসাবে অবিহিত করেছেন।

প্রথম এক্সোপ্লানেট আবিষ্কার করে দুই সুইস বিজ্ঞানী মাইকেল মেয়া ও ডিডিয়ে কোলজ জিতে নিয়েছেন নোবেল পুরষ্কারের বাকি সম্মানী। এক্সোপ্লানেট হলো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ যা সূর্যের মতো নক্ষত্রের চারিদিকে ঘোরে। ১৯৯৫ সালে তাদের আবিষ্কৃত এ গ্রহটি ভরের দিক দিয়ে প্রায় আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের সমান। এই নব আবিষ্কৃত এক্সোপ্লানেটির নাম দেওয়া হয় ‘৫১ পেগাসি বি’। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোটি কোটি এক্সোপ্লানেট থাকলেও এতদিন মানুষের তৈরি টেকনোলজিতে এগুলোকে দেখা সম্ভব হয়নি। কারণ নক্ষত্রের প্রখর আলোর ভিড়ে এই ভিন গ্রহগুলো দৃষ্টিগোচর হতো না।

এক্সোপ্লানেট ৫১ পেগাসি বি নিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, গ্রহটি বিশাল আকৃতির হলেও এটি তার সূর্যের বেশ নিকটে অবস্থান করছে। আমাদের সৌরজগতে সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধের চেয়েও নিকটতম অবস্থানে কিভাবে এত বড় গ্রহ গঠিত হয়েছে তা বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এক্সোপ্লানেট ‘৫১ পেগাসি বি’ শুরুতে তার নিজস্ব নক্ষত্র থেকে হয়তো দূরে ছিল যা সময়ের পরিক্রমায় কাছে সরে এসেছে।

পদার্থবিজ্ঞানে এবারের নোবেলজয়ী উদ্ভাবনদুটি সৃষ্টিরহস্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সৃষ্টিরহস্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন মাইল ফলক

আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সৃষ্টিরহস্যের তত্ত্ব ও জ্যোতির্বিদ্যার দুটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারের জন্য এবছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হলো। পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজন বিজ্ঞানী হলেন—কানাডিয়ান-আমেরিকান কসমোলজিস্ট (সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানী) জেমস পিব্লস এবং দুই সুইস জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাইকেল মেয়া ও ডিডিয়ে কোলজ ।

মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে ‘বিগ ব্যাং’ বা মহাবিস্ফোরণের পরে যে কসমিক মাইক্রোওয়েভ বিকিরিত হয়েছিল গাণিতিকভাবে তাতে পদার্থের পরিমাণ নিরূপণ করে ৮৪ বছর বয়সী তারকা সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানী (কসমোলজিস্ট) জেমস পিব্লস জিতে নেন নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক অর্থ।

পিবলস তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির পর বিকিরণের খুব সামান্যই (মাত্র ৫%) সাধারণ পদার্থ দিয়ে গ্রহ, উপগ্রহ ও তারা গঠিত। বাকি ৯৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি নামক দুইটি রহস্যজনক পদার্থের মিশ্রণ। মহাবিস্ফোরণের বিকিরণের ২৭% ডার্ক ম্যাটার অতি শক্তিশালী মহাকর্ষীয় বলের প্রভাব ছাড়া সাধারণ পদার্থের সংস্পর্শে আসে না। অন্যদিকে বাকি ৬৮% ‘ডার্ক এনার্জি’ শক্তির একটি বিশেষ রূপে মহাবিশ্বের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটায়।

নোবেল কমিটি মেম্বার পদার্থবিজ্ঞানী উল্ফ ডেনিলসন এক কাফ কফি, ক্রিম ও চিনির উদাহরণ দিয়ে অভিনব উপস্থাপনায় কসমিক মাইক্রোওয়েভ বিকিরণের উপাদানসমূহ সম্বন্ধে ধারণা দিয়েছেন। উপস্থাপনায় তিনি কফির লিকারটিকে ডার্ক এনার্জি, খানিকটা ক্রিম ঢেলে তাকে ডার্ক ম্যাটার ও কয়েক দানা চিনিকে সাধারণ পদার্থ (অরডিনারি ম্যাটার) হিসাবে উদাহরণ দেন। জেমস পিব্লসের আবিষ্কারটিকে তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদ্ধারে নতুন দিগন্ত হিসাবে অবিহিত করেছেন।

প্রথম এক্সোপ্লানেট আবিষ্কার করে দুই সুইস বিজ্ঞানী মাইকেল মেয়া ও ডিডিয়ে কোলজ জিতে নিয়েছেন নোবেল পুরষ্কারের বাকি সম্মানী। এক্সোপ্লানেট হলো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ যা সূর্যের মতো নক্ষত্রের চারিদিকে ঘোরে। ১৯৯৫ সালে তাদের আবিষ্কৃত এ গ্রহটি ভরের দিক দিয়ে প্রায় আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের সমান। এই নব আবিষ্কৃত এক্সোপ্লানেটির নাম দেওয়া হয় ‘৫১ পেগাসি বি’। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোটি কোটি এক্সোপ্লানেট থাকলেও এতদিন মানুষের তৈরি টেকনোলজিতে এগুলোকে দেখা সম্ভব হয়নি। কারণ নক্ষত্রের প্রখর আলোর ভিড়ে এই ভিন গ্রহগুলো দৃষ্টিগোচর হতো না।

এক্সোপ্লানেট ৫১ পেগাসি বি নিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, গ্রহটি বিশাল আকৃতির হলেও এটি তার সূর্যের বেশ নিকটে অবস্থান করছে। আমাদের সৌরজগতে সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধের চেয়েও নিকটতম অবস্থানে কিভাবে এত বড় গ্রহ গঠিত হয়েছে তা বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এক্সোপ্লানেট ‘৫১ পেগাসি বি’ শুরুতে তার নিজস্ব নক্ষত্র থেকে হয়তো দূরে ছিল যা সময়ের পরিক্রমায় কাছে সরে এসেছে।

পদার্থবিজ্ঞানে এবারের নোবেলজয়ী উদ্ভাবনদুটি সৃষ্টিরহস্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।