ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তাজুল ইসলাম মিঠামইন উপজেলা সেরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নির্বাচিত রাতুলের জাদুকরী গোলে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ নাজনীন হাসান খান নির্মাণ করলেন ‘ভালোবাসার মায়া’ ৪ দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে স্বাগত জানালেন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা রেলওয়ের মহাপরিচালক রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০ নতুন কোচ, চালু হবে নতুন ট্রেন ইভি ‘পিংক’ বাসের জন্য নারী চালকদের ভারী যানবাহন চালনার প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি জয়ের পর ফুল নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর বাসায় মির্জা ফয়সল, খাওয়ালেন মিষ্টি নাবলুসে হজরত ইউসুফের (আ.) সমাধিতে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান দীপের বক্তব্যে ‘গরমিল’, তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য

৭১ এর পর কেউ ভারত চলে যায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৩৫১ বার

১৯৭১ সালের পরে কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যায়নি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বলেছেন, এ কারণেই আসামের নাগরিক পঞ্জি থেকে ১৯ রাখ মানুষের বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়।

রবিবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি আসামের নাগরিক পঞ্জি নিয়ে নানা প্রশ্নে মুখে পড়েন।
আগের দিন এই নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করা হয়। এদের মধ্যে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের মধ্যে ১৭ লাখেরও বেশি বাংলা ভাষাভাষী। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে যারা ভারতে গেছেন, তারাই সে দেশের নাগরিক- এমন দাবি করে বলা হচ্ছে, এরা পরে গেছেন দেশটিতে। তাই এতদিন নাগরিকত্ব থাকলেও এখন তা থাকবে না। অবশ্য এদের ভবিষ্যত কী হবে, সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশে যে, ভারত যাদেরকে নাগরিক বলে স্বীকার করবে না, তাদেরকে তারা বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় কি না। যদিও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, সেটা হলো আমরা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মন্তব্য করছি না এবং করতে চাই না। ভারত যদি আমাদেরকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে তখন আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাব।’

‘সুস্পষ্টভাবে আমরা বলতে চাই একাত্তরের পরে আমাদের বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি, যারা গিয়েছেন তারা আগেই গিয়েছেন। ওদেশ থেকে যেমন এখানে এসেছে এখান থেকে ওখানে গিয়েছেন। কাজেই এইখানে আমাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

আগের রাতে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে হামলা স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ওপর ছিল না বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘গতকাল ঢাকায় মন্ত্রীর গাড়িতে হামলা হয়নি, এটা একটি হঠাৎ করে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যেটা নিয়ে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ বাহিনী তদন্ত করছে। তারপর আমরা জানাতে পারব কে করেছে, কেন করেছে।’

মন্ত্রী সেখানে যান ৫৬ তম কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হয়ে। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কারাগার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক উৎকর্ষ ও কর্ম দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের আন্তরিকতায় রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

গরিব ও অসহায় বন্দিদের জন্য কারাগারে বিনা খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এনজিওর মাধ্যমেও কারাগারে আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বন্দিদের শ্রমের উৎপাদিত পণ্যের আয়ের অর্ধেক তাদেরকে প্রদান করার কাজ শুরু করা হয়েছে।’

কারাগারে জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে কোনো ধরনের সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে বিষয়ে সর্তক থাকারও পরামর্শ দেন মন্ত্রী। বলেন, ‘শৃঙ্খলা ও মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করবেন।’
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শিতার জন্য তিনজন প্রশিক্ষণার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে সর্বমোট ৩১৯ জন কারারক্ষী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তাজুল ইসলাম মিঠামইন উপজেলা সেরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নির্বাচিত

৭১ এর পর কেউ ভারত চলে যায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৪:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

১৯৭১ সালের পরে কেউ বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যায়নি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বলেছেন, এ কারণেই আসামের নাগরিক পঞ্জি থেকে ১৯ রাখ মানুষের বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়।

রবিবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি আসামের নাগরিক পঞ্জি নিয়ে নানা প্রশ্নে মুখে পড়েন।
আগের দিন এই নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করা হয়। এদের মধ্যে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের মধ্যে ১৭ লাখেরও বেশি বাংলা ভাষাভাষী। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে যারা ভারতে গেছেন, তারাই সে দেশের নাগরিক- এমন দাবি করে বলা হচ্ছে, এরা পরে গেছেন দেশটিতে। তাই এতদিন নাগরিকত্ব থাকলেও এখন তা থাকবে না। অবশ্য এদের ভবিষ্যত কী হবে, সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশে যে, ভারত যাদেরকে নাগরিক বলে স্বীকার করবে না, তাদেরকে তারা বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় কি না। যদিও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, সেটা হলো আমরা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মন্তব্য করছি না এবং করতে চাই না। ভারত যদি আমাদেরকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে তখন আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাব।’

‘সুস্পষ্টভাবে আমরা বলতে চাই একাত্তরের পরে আমাদের বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যায়নি, যারা গিয়েছেন তারা আগেই গিয়েছেন। ওদেশ থেকে যেমন এখানে এসেছে এখান থেকে ওখানে গিয়েছেন। কাজেই এইখানে আমাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

আগের রাতে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে হামলা স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ওপর ছিল না বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘গতকাল ঢাকায় মন্ত্রীর গাড়িতে হামলা হয়নি, এটা একটি হঠাৎ করে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যেটা নিয়ে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ বাহিনী তদন্ত করছে। তারপর আমরা জানাতে পারব কে করেছে, কেন করেছে।’

মন্ত্রী সেখানে যান ৫৬ তম কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হয়ে। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কারাগার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিক উৎকর্ষ ও কর্ম দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের আন্তরিকতায় রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

গরিব ও অসহায় বন্দিদের জন্য কারাগারে বিনা খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এনজিওর মাধ্যমেও কারাগারে আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বন্দিদের শ্রমের উৎপাদিত পণ্যের আয়ের অর্ধেক তাদেরকে প্রদান করার কাজ শুরু করা হয়েছে।’

কারাগারে জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে কোনো ধরনের সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে বিষয়ে সর্তক থাকারও পরামর্শ দেন মন্ত্রী। বলেন, ‘শৃঙ্খলা ও মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করবেন।’
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শিতার জন্য তিনজন প্রশিক্ষণার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে সর্বমোট ৩১৯ জন কারারক্ষী প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।