ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: রাজনীতি, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের দীর্ঘ পথচলা অননুমোদিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ তেলের ঘাটতি নেই, আগের চেয়ে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে : জ্বালানিমন্ত্রী ঢামেকসহ ৫ মেডিক্যাল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ রাশিয়া থেকে তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের হারানো ইমেজ উদ্ধারে সক্রিয় সরকার, অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় একটি গ্রুপ আকাশপথের নতুন রাজত্বের পথে পারস্য! ৬.৫ বিলিয়নের রাশিয়ান Kibony সিস্টেমসহ Su-35 এখন ইরানে, তবে কি অকেজো মার্কিন রাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জুন : শিক্ষামন্ত্রী সংসদে নামাজ পড়তে গিয়ে জুতা খোয়ালেন এমপি

কোচবিহার থেকে যেভাবে রংপুরের বাসিন্দা হলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৪২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯
  • ৩৩৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাবা-মা তখন কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা। কোচবিহার ছিলো মাহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপবাহাদুর শাসিত করদ মিত্ররাজ্য।

ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে মহারাজা ও ভারত সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে কোচবিহারের শাসন ব্যবস্থা একজন চিফ কমিশনারের হাতে ন্যস্ত করা হয়। চিফ কমিশনার নিযুক্ত হন ভিআই নান্নাজাপ্পা। ১৯৫০ সালে পশ্চিমঙ্গের একটি জেলায় পরিণত হয় কোচবিহার।

স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম জোতদারদের সমন্বয়ে গঠিত কোচবিহার স্টেট কাউন্সিলের সভায় প্রচণ্ড মতবিরোধ তৈরি হয় ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিষয়ে। কাউন্সিলের প্রায় সব সদস্য পাকিস্তানের সঙ্গে যোগদানের পক্ষে অবস্থান নিলেও একজন হিন্দু সদস্য বিরোধিতা করেন। মাহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপবাহাদুর ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে অবস্থান নেন।

ওই সময়ে স্টেট কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘হিতসাধনা সভা’ কোচবিহারের প্রতিটি থানায় সভা-সমিতির মাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালাতে থাকে। মুসলিম সদস্যরা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতে আরও কয়েকজনের সঙ্গে এরশাদের বাবা দিনহাটা আদালতের আইনজীবী মকবুল হোসেনকেও কোচবিহার থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মকবুল হোসেনকে কোচবিহার ছাড়ার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন চিফ কমিশনার। মকবুল হোসেন তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে রংপুর চলে আসেন। অপর বহিষ্কৃতরা পরে কোচবিহারে ফিরলেও মকবুল হোসেন থেকে যান রংপুরেই। ১৯৫০ সালে ক্রয়সূত্রে ঠিকানা হয় নিউ সেনপাড়ায় (স্কাইভিউ)। আইনজীবী মকবুল হোসেন রংপুর আদালতে আইন পেশা শুরু করেন।

অবশ্য তার কয়েক বছর আগে ১৯৪৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নের জন্য রংপুরে এসেছিলেন এরশাদ। তার তখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ পর্যায়ে। থাকতেন কারমাইকেল কলেজের জিএল হোস্টেলে। আরও আগে থেকে রংপুরে থাকতেন তার বড় বোন নাহার ও ভগ্নিপতি সিরাজুল হক। ভগ্নিপতি ছিলেন ইন্সপেক্টর অব স্কুলস।

(সূত্র: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবনী গ্রন্থ ‘আমার কর্ম আমার জীবন’)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: রাজনীতি, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের দীর্ঘ পথচলা

কোচবিহার থেকে যেভাবে রংপুরের বাসিন্দা হলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

আপডেট টাইম : ০৫:৪২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাবা-মা তখন কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা। কোচবিহার ছিলো মাহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপবাহাদুর শাসিত করদ মিত্ররাজ্য।

ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে মহারাজা ও ভারত সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে কোচবিহারের শাসন ব্যবস্থা একজন চিফ কমিশনারের হাতে ন্যস্ত করা হয়। চিফ কমিশনার নিযুক্ত হন ভিআই নান্নাজাপ্পা। ১৯৫০ সালে পশ্চিমঙ্গের একটি জেলায় পরিণত হয় কোচবিহার।

স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম জোতদারদের সমন্বয়ে গঠিত কোচবিহার স্টেট কাউন্সিলের সভায় প্রচণ্ড মতবিরোধ তৈরি হয় ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিষয়ে। কাউন্সিলের প্রায় সব সদস্য পাকিস্তানের সঙ্গে যোগদানের পক্ষে অবস্থান নিলেও একজন হিন্দু সদস্য বিরোধিতা করেন। মাহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপবাহাদুর ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে অবস্থান নেন।

ওই সময়ে স্টেট কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘হিতসাধনা সভা’ কোচবিহারের প্রতিটি থানায় সভা-সমিতির মাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালাতে থাকে। মুসলিম সদস্যরা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতে আরও কয়েকজনের সঙ্গে এরশাদের বাবা দিনহাটা আদালতের আইনজীবী মকবুল হোসেনকেও কোচবিহার থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মকবুল হোসেনকে কোচবিহার ছাড়ার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন চিফ কমিশনার। মকবুল হোসেন তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে রংপুর চলে আসেন। অপর বহিষ্কৃতরা পরে কোচবিহারে ফিরলেও মকবুল হোসেন থেকে যান রংপুরেই। ১৯৫০ সালে ক্রয়সূত্রে ঠিকানা হয় নিউ সেনপাড়ায় (স্কাইভিউ)। আইনজীবী মকবুল হোসেন রংপুর আদালতে আইন পেশা শুরু করেন।

অবশ্য তার কয়েক বছর আগে ১৯৪৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নের জন্য রংপুরে এসেছিলেন এরশাদ। তার তখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ পর্যায়ে। থাকতেন কারমাইকেল কলেজের জিএল হোস্টেলে। আরও আগে থেকে রংপুরে থাকতেন তার বড় বোন নাহার ও ভগ্নিপতি সিরাজুল হক। ভগ্নিপতি ছিলেন ইন্সপেক্টর অব স্কুলস।

(সূত্র: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবনী গ্রন্থ ‘আমার কর্ম আমার জীবন’)