ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
হাওরে অতিবৃষ্টিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল: পানিতে তলিয়ে কৃষকের স্বপ্ন, চোখে শুধু হতাশা মামলাজট কমাতে লিগ্যাল এইড আরও কার্যকর করতে হবে: আইনমন্ত্রী এমপিও শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নতুন নিয়ম জারি সবার আগে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল ইংল্যান্ড ‘সাঈদী-নিজামীকে যারা জঙ্গি বানিয়েছিল তাদের বিচার হওয়া উচিত’ রাজধানীতে গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন সর্তকতা জারির পরদিনই শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঢুকে গেলেন যুবক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ২০২৫ সালে নেট মুনাফা অর্জন ৯৬৫ কোটি টাকা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ: বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান

কারা এই বড় ভাই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৫
  • ৩৮৭ বার

রাজধানীর গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যায় নেপথ্যে থাকা বড় ভাইকে নিয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র। কে এই বড় ভাই? তবে শুধু তাভেলা সিজার নন, জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যায়ও এক বড় ভাই নেপথ্য কারিগরের ভূমিকায় ছিলেন। সন্দেহভাজন তাদের দুজনই বিএনপির নেতা। এ দুই বড় ভাইকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। অবস্থান শনাক্ত করার জন্য তাদের স্বজন এবং ঘনিষ্ঠজনদের ডেকে নিয়ে একের পর এক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সহায়তা নেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তির। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বহুল আলোচিত দুই ‘বড় ভাই’ হলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার বাড্ডার এম এ কাইয়ুম এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। দুজনের একজন লন্ডন এবং আরেকজন ভারতে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদের ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তাভেলা হত্যায় গ্রেফতার চারজনের কাছ থেকে আদায় করা তথ্যের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও বড় ভাইয়ের নেপথ্য ভূমিকার কথা বলেছেন। তাকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর কথাও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যার পরপরই হাবিব-উন-নবী খান সোহেল আÍগোপনে চলে যান। তবে সর্বশেষ ভারতীয় মুঠোফোন নম্বর থেকে তার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে ভারতকেও নিরাপদ মনে না করে লন্ডনে পাড়ি জমানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন সোহেল। তিনি বৈধ পথে দেশত্যাগ করেননি বলে দাবি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের।

অন্যদিকে এম এ কাইয়ুমের ছোট ভাই এম এ মতিনকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে আটক করেছে পুলিশ- এমন দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। যদিও গতকাল পর্যন্ত মতিনকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি ডিবি পুলিশ। পুলিশের খাতায় অনেক দিন থেকেই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ বাড্ডার বিএনপি নেতা আবদুল কাইয়ুম। সূত্র বলছে, তাভেলা সিজার হত্যায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। মালয়েশিয়ায় বসেই তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন এবং মিশনে সফল হন। তার দেওয়া নির্দেশমতো ভাই মতিন পুরো কিলিং মিশনের সমন্বয় করেন। তবে শুধু তাভেলা হত্যা নয়, জাপানি নাগরিক হত্যায়ও অর্থের জোগান দেন কাইয়ুম। দিনে সাংবাদিকদের কাছে নাম না বললেও রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, বিদেশি হত্যার নেপথ্য ‘বড় ভাই’ বিএনপি নেতা কাইয়ুম। বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ এ তথ্য জানায়। দুই ডজনের বেশি মামলার আসামি এই নেতা বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে রাতারাতি আলোচনায় উঠে আসেন। সর্বশেষ কাইয়ুম লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি গত ৫ অক্টোবর সেখানে পৌঁছান। সেখানকার নম্বর থেকেই এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফোন করেন তিনি। এদিকে, একজন উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে সোহেল ঢাকা ও রংপুরে ফোন করে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেছেন। এরই এক পর্যায়ে তার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বুড়িমারী সীমান্ত দিয়েই হয়তো তিনি ভারতে ঢুকেছেন। তিনি যাতে ভারত থেকে অন্যত্র পাড়ি জমাতে না পারেন সে জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে। দুই বিএনপি নেতার বিষয়ে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু সুষ্ঠু তদন্ত হলে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে না। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তাদের স্পর্শকাতর এ বিষয় নিয়ে আগাম কোনো মন্তব্য না করার অনুরোধ জানান তিনি।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আবারও বলেছেন, তাভেলা সিজার ও হোশি কোনিও হত্যাকাণ্ড দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা আইএস বা জঙ্গিদের কাজ নয়। দেশকে অস্থির করে তুলতে এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কথিত বড় ভাইসহ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ইতালির নাগরিক তাভেলা হত্যাকাণ্ডে শুধু ‘বড় ভাই’ নয়, তার পেছনে যারা রয়েছেন তারা রাজনীতিবিদ। তারা প্রত্যেকে গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন। আর যদি কেউ বিদেশে পালিয়ে যায় তাদেরও ইন্টারপোলের সাহায্য নিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হাওরে অতিবৃষ্টিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল: পানিতে তলিয়ে কৃষকের স্বপ্ন, চোখে শুধু হতাশা

কারা এই বড় ভাই

আপডেট টাইম : ১০:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৫

রাজধানীর গুলশানে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যায় নেপথ্যে থাকা বড় ভাইকে নিয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র। কে এই বড় ভাই? তবে শুধু তাভেলা সিজার নন, জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যায়ও এক বড় ভাই নেপথ্য কারিগরের ভূমিকায় ছিলেন। সন্দেহভাজন তাদের দুজনই বিএনপির নেতা। এ দুই বড় ভাইকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। অবস্থান শনাক্ত করার জন্য তাদের স্বজন এবং ঘনিষ্ঠজনদের ডেকে নিয়ে একের পর এক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সহায়তা নেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তির। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বহুল আলোচিত দুই ‘বড় ভাই’ হলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার বাড্ডার এম এ কাইয়ুম এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। দুজনের একজন লন্ডন এবং আরেকজন ভারতে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদের ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারির প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তাভেলা হত্যায় গ্রেফতার চারজনের কাছ থেকে আদায় করা তথ্যের বরাত দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও বড় ভাইয়ের নেপথ্য ভূমিকার কথা বলেছেন। তাকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর কথাও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যার পরপরই হাবিব-উন-নবী খান সোহেল আÍগোপনে চলে যান। তবে সর্বশেষ ভারতীয় মুঠোফোন নম্বর থেকে তার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে ভারতকেও নিরাপদ মনে না করে লন্ডনে পাড়ি জমানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন সোহেল। তিনি বৈধ পথে দেশত্যাগ করেননি বলে দাবি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের।

অন্যদিকে এম এ কাইয়ুমের ছোট ভাই এম এ মতিনকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে আটক করেছে পুলিশ- এমন দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। যদিও গতকাল পর্যন্ত মতিনকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি ডিবি পুলিশ। পুলিশের খাতায় অনেক দিন থেকেই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ বাড্ডার বিএনপি নেতা আবদুল কাইয়ুম। সূত্র বলছে, তাভেলা সিজার হত্যায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। মালয়েশিয়ায় বসেই তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন এবং মিশনে সফল হন। তার দেওয়া নির্দেশমতো ভাই মতিন পুরো কিলিং মিশনের সমন্বয় করেন। তবে শুধু তাভেলা হত্যা নয়, জাপানি নাগরিক হত্যায়ও অর্থের জোগান দেন কাইয়ুম। দিনে সাংবাদিকদের কাছে নাম না বললেও রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, বিদেশি হত্যার নেপথ্য ‘বড় ভাই’ বিএনপি নেতা কাইয়ুম। বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ এ তথ্য জানায়। দুই ডজনের বেশি মামলার আসামি এই নেতা বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে রাতারাতি আলোচনায় উঠে আসেন। সর্বশেষ কাইয়ুম লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি গত ৫ অক্টোবর সেখানে পৌঁছান। সেখানকার নম্বর থেকেই এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফোন করেন তিনি। এদিকে, একজন উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে সোহেল ঢাকা ও রংপুরে ফোন করে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেছেন। এরই এক পর্যায়ে তার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বুড়িমারী সীমান্ত দিয়েই হয়তো তিনি ভারতে ঢুকেছেন। তিনি যাতে ভারত থেকে অন্যত্র পাড়ি জমাতে না পারেন সে জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে। দুই বিএনপি নেতার বিষয়ে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু সুষ্ঠু তদন্ত হলে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে না। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তাদের স্পর্শকাতর এ বিষয় নিয়ে আগাম কোনো মন্তব্য না করার অনুরোধ জানান তিনি।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আবারও বলেছেন, তাভেলা সিজার ও হোশি কোনিও হত্যাকাণ্ড দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা আইএস বা জঙ্গিদের কাজ নয়। দেশকে অস্থির করে তুলতে এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কথিত বড় ভাইসহ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ইতালির নাগরিক তাভেলা হত্যাকাণ্ডে শুধু ‘বড় ভাই’ নয়, তার পেছনে যারা রয়েছেন তারা রাজনীতিবিদ। তারা প্রত্যেকে গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন। আর যদি কেউ বিদেশে পালিয়ে যায় তাদেরও ইন্টারপোলের সাহায্য নিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।