ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় থানায় অভিযোগ, পরিবারের দাবি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যা বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ার কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল আগামী অক্টোবরে শিশুদের জন্য পাঁচটি বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ কম খরচে আগাম শিম চাষ, এক কৃষকেরই ২ লাখ টাকা বিক্রির আশা ভালোবাসার মূল্যে কখনোই মানসিক শান্তি হারানো ঠিক নয় ভারতের আন্দোলনে সম্প্রীতির শিক্ষা স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে টিসিবি দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চার বিশেষজ্ঞের চোখে এবারের বাজেট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০১৯
  • ৩১৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল৷ বাজেট বক্তৃতা পড়তে পড়তে তিনি অসুস্থ বোধ করলে বাকি অংশ পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ বাজেটের কোন অংশটি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে? বার্তা সংস্থা ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে এই প্রশ্ন ছিল চার বিশেষজ্ঞের কাছে৷

অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে ঘোষিত বাজেটের চেয়ে কীভাবে বাস্তবায়ন হয় সেই দিকেই আমার মনোযোগ বেশি৷ গত বছরের বাজেটে কী ছিল, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কেন অর্জিত হয়নি সেটা যদি বুঝতে পারি তাহলে এবারের বাজেট হয়ত আরও ভালো বুঝতে পারব৷ আর কর কীভাবে পরিবর্তন হলো সেটা তো বোঝা গেল না৷ একটা জিনিস আমার ভালো লেগেছে, করের হার না বাড়িয়ে কীভাবে আওতা বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করা হয়েছে৷ এটা নীতিগতভাবে ভালো দিক।’

অধ্যাপক কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘আমার ভালো লেগেছে তারুণ্যের ব্যবহার৷ আওয়ামী লীগের ২০১৮ সালের ইশতেহারে এটাকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি৷’

‘আমাদের এখানে পাঁচ কোটি ২৮ লাখের মতো তরুণ প্রজন্ম আছে, এদেরকে ব্যবহার করার ওপর খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ বারবার বলা হয়েছে, এটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে৷ আরেকটা জিনিস ভালো লেগেছে, ইশতেহারেও ছিল, আমার গ্রাম আমার শহর, মানে গ্রামগুলোকে শহরের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা৷ এটাও একটা উল্লেখযোগ্য দিক৷ এবারও অন্য বছরের মতো শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেটাও ভালো দিক৷ কিন্তু বাস্তবায়ন করতে করতে সময় লেগে যায়, খুবই ধীরে শুরু হয় বাস্তবায়ন৷ এবার আগে থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা করব৷’

‘আরেকটা জিনিস ব্যাংকিং খাতে যে বিশৃঙ্খলা আছে, সেটা দূর করার জন্য কিছু প্রস্তাবনা আছে, সেই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে৷ দ্রুত কমিশন গঠন করে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো চিহ্নিত হরে সমাধান করতে হবে৷ কিছু সমস্যা তো আগে থেকেই চিহ্নিত আছে, সেগুলো সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে৷ আর বাজেটে প্রতি বছরই রাজস্ব আদায় ঘাটতি থাকে৷ এবার আগে থেকে চেষ্টা করলে সেটা হয়ত পূরণ করা সম্ভব৷’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘বাজেট আসলে গতানুগতিক হয়েছে৷ এর মধ্যে এমন কোনো বিশেষ বিষয় নেই৷ তবে ভ্যাট বাস্তবায়ন করতে পেরেছে এটাই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক৷ যদিও ভ্যাটের নিয়ম অনুযায়ী একটি হার হওয়া উচিত ছিল সেটা হয়নি৷ তবুও অনেক ঝামেলার পর এটি বাস্তবায়ন হয়েছে৷’

‘আরেকটি জিনিস হলো তরুণ-যুবকদের জন্য একটা মূলধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ যদিও এটা খুবই কম তারপরও যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেটি বড় দিক৷ এই দুটি জিনিস আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে৷’

গবেষণা সংস্থা সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এবারের বাজেটে সরকার ধারাবাহিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে৷ সেটার ব্যাপারে নিরাপত্তাবলয় বাড়ছে৷ কোন কোন ক্ষেত্রে ভাতাও বেড়েছে এবং অন্যান্য যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আছে তাদের জন্যও বরাদ্দ বেড়েছে৷ বিশেষ করে এর আগে নারী বাজেটের সাথে এখন শিশু বাজেট যুক্ত হচ্ছে৷ প্রবীণদের ব্যাপারেও কথা আছে, এই মানবিকতার দিকটি আমার কাছে পছন্দ হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় থানায় অভিযোগ, পরিবারের দাবি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যা

চার বিশেষজ্ঞের চোখে এবারের বাজেট

আপডেট টাইম : ০১:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল৷ বাজেট বক্তৃতা পড়তে পড়তে তিনি অসুস্থ বোধ করলে বাকি অংশ পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ বাজেটের কোন অংশটি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে? বার্তা সংস্থা ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে এই প্রশ্ন ছিল চার বিশেষজ্ঞের কাছে৷

অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে ঘোষিত বাজেটের চেয়ে কীভাবে বাস্তবায়ন হয় সেই দিকেই আমার মনোযোগ বেশি৷ গত বছরের বাজেটে কী ছিল, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কেন অর্জিত হয়নি সেটা যদি বুঝতে পারি তাহলে এবারের বাজেট হয়ত আরও ভালো বুঝতে পারব৷ আর কর কীভাবে পরিবর্তন হলো সেটা তো বোঝা গেল না৷ একটা জিনিস আমার ভালো লেগেছে, করের হার না বাড়িয়ে কীভাবে আওতা বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করা হয়েছে৷ এটা নীতিগতভাবে ভালো দিক।’

অধ্যাপক কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘আমার ভালো লেগেছে তারুণ্যের ব্যবহার৷ আওয়ামী লীগের ২০১৮ সালের ইশতেহারে এটাকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি৷’

‘আমাদের এখানে পাঁচ কোটি ২৮ লাখের মতো তরুণ প্রজন্ম আছে, এদেরকে ব্যবহার করার ওপর খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ বারবার বলা হয়েছে, এটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে৷ আরেকটা জিনিস ভালো লেগেছে, ইশতেহারেও ছিল, আমার গ্রাম আমার শহর, মানে গ্রামগুলোকে শহরের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা৷ এটাও একটা উল্লেখযোগ্য দিক৷ এবারও অন্য বছরের মতো শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেটাও ভালো দিক৷ কিন্তু বাস্তবায়ন করতে করতে সময় লেগে যায়, খুবই ধীরে শুরু হয় বাস্তবায়ন৷ এবার আগে থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা করব৷’

‘আরেকটা জিনিস ব্যাংকিং খাতে যে বিশৃঙ্খলা আছে, সেটা দূর করার জন্য কিছু প্রস্তাবনা আছে, সেই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে৷ দ্রুত কমিশন গঠন করে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো চিহ্নিত হরে সমাধান করতে হবে৷ কিছু সমস্যা তো আগে থেকেই চিহ্নিত আছে, সেগুলো সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে৷ আর বাজেটে প্রতি বছরই রাজস্ব আদায় ঘাটতি থাকে৷ এবার আগে থেকে চেষ্টা করলে সেটা হয়ত পূরণ করা সম্ভব৷’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘বাজেট আসলে গতানুগতিক হয়েছে৷ এর মধ্যে এমন কোনো বিশেষ বিষয় নেই৷ তবে ভ্যাট বাস্তবায়ন করতে পেরেছে এটাই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক৷ যদিও ভ্যাটের নিয়ম অনুযায়ী একটি হার হওয়া উচিত ছিল সেটা হয়নি৷ তবুও অনেক ঝামেলার পর এটি বাস্তবায়ন হয়েছে৷’

‘আরেকটি জিনিস হলো তরুণ-যুবকদের জন্য একটা মূলধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ যদিও এটা খুবই কম তারপরও যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেটি বড় দিক৷ এই দুটি জিনিস আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে৷’

গবেষণা সংস্থা সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এবারের বাজেটে সরকার ধারাবাহিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে৷ সেটার ব্যাপারে নিরাপত্তাবলয় বাড়ছে৷ কোন কোন ক্ষেত্রে ভাতাও বেড়েছে এবং অন্যান্য যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আছে তাদের জন্যও বরাদ্দ বেড়েছে৷ বিশেষ করে এর আগে নারী বাজেটের সাথে এখন শিশু বাজেট যুক্ত হচ্ছে৷ প্রবীণদের ব্যাপারেও কথা আছে, এই মানবিকতার দিকটি আমার কাছে পছন্দ হয়েছে।