হাওর বার্তা ডেস্কঃ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় উপজেলার ৭নং ঘোগা ইউনিয়নে শতাধিক মৃত ব্যক্তির নামে অসহায় মানুষের জন্য সরকার প্রদত্ত বয়স্ক ভাতার অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থের বিনিময়ে সুবিধাভোগী নির্বাচন, ভুয়া নাম ব্যবহারের পর এবার মৃত ব্যক্তিদের নামে কার্ড করে তাদের জীবিত দেখিয়ে বছরের পর বছর বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছে একটি চক্র। এ নিয়ে ওয়ার্ডের মেম্বাররা সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন মিলে প্রভাবশালী একটি চক্র জড়িত বলেও জানা গেছে।
মুক্তাগাছা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বয়স্ক ভাতার কার্ড চালু রয়েছে ১১ হাজার ৭৭৪টি। বিধবা ভাতার কার্ড রয়েছে দুই হাজার ৬৬৫টি। আর প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে দুই হাজার ৯৬২টি। এ ছাড়া বিভিন্ন খাতে সরকার অসহায় মানুষদের জন্য বিভিন্ন কার্ড চালু রেখেছে। আর এসব কার্ডের তালিকা প্রণয়ন করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা। আর এসব কার্ডে পাওয়া গেছে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।
ঘোগা ইউনিয়নের হাতিল গ্রামের মৃত হযরত আলীর স্ত্রী হালিমন নেছা বলেন, তার স্বামী মারা গেছেন আড়াই বছর আগে। ওই সময়ই তার কাছ থেকে তার স্বামীর বয়স্ক ভাতার বই নিয়ে গেছেন ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লেবু। এরপর তিনি আর এ কার্ডের বিষয়ে কিছুই জানেন না। একই কথা বলেন মৃত মকবুল হোসেনের স্ত্রী জেলেখা বেওয়াও।
ঘোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লেবু বলেন, পরিষদের কয়েকজন ইউপি সদস্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার নাম জড়িয়ে তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছেন। প্রকৃতপক্ষে ওইসব কার্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অসীম সরকার বলেন, ঘোগা ইউনিয়ন থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকা জমা দেওয়ার পর নতুন তালিকা তৈরি করা হয়। আর ওই ইউনিয়ন থেকে মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকা জমা দেওয়া হয়নি। এ জন্য দায়ী ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা।
ইউএনও সুবর্ণা সরকার বলেন, ঘোগা ইউনিয়ন থেকে এ ধরনের অভিযোগের পর স্থানীয়ভাবে একটি ও জেলা সমাজসেবা থেকে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 





















