ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মায়ের ইচ্ছা পূরণেই আজ ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০১৯
  • ৪৩৩ বার
হাওর বার্তা ডেস্কঃ সুযোগ এসেছিল অনেক। শিক্ষা প্রশাসনের ডাকসাইটে কর্মকর্তা হওয়ার হাতছানি। সহকর্মীরাও চেয়েছেন নানান পদে যান তিনি। কিন্তু কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেননি। মন পরে ছিল একজনের চাওয়াতেই। আর তা হলো মায়ের ইচ্ছের কথা। এ যেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ইচ্ছা পূরণের কাব্যকথা। যে মানুষটি মাকে এমন উচ্চাসনে বসিয়েছেন তিনি শিক্ষাবিদ নেহাল আহমেদ। হ্যাঁ, বলছিলাম ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ-এর কথা। রত্নগর্ভা মা আছিয়া আলমের ইচ্ছা, সন্তান বড় হয়ে শিক্ষকতা করবে। ব্যাস, মায়ের এই ইচ্ছাকে ভেতরে লালন করে এত দূর এসেছেন অধ্যাপক নেহাল।
গত শনিবার সাংবাদিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে নেপথ্যের সে কথাই বলেছেন তিনি। শিক্ষা প্রশাসনের বড় পদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ করেননি ইংরেজির এই ডাকসাইটে অধ্যাপক। তাঁর রত্নগর্ভা মা বর্তমানে কিশোগঞ্জের মিঠামইনের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। স্কুলজীবন থেকেই খেলাঘরসহ সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত এই গুণী মা চেয়েছেনে তাঁর ছেলে শিক্ষকতা করবে। শিক্ষা প্রশাসনের অফিসে চাকরি করার চাইতে দেশসেরা ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ হতে পারা অনেক বেশি সম্মানের-গৌরবের মনের করেন তাঁর মা।
ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ হতে আগ্রহী শিক্ষা ক্যাডারের অনেক অধ্যাপকই। অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের অনেকেই এবং সাংবাদিক বন্ধুরাও চেয়েছিলেন আমি যেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বড় পদে যাই।

বিভিন্ন মহল থেকে যখনই এ আলোচনা উঠেছে আমি বরাবরই আমার মা ও মামাবিভিন্ন মহল থেকে যখনই এ আলোচনা উঠেছে আমি বরাবরই আমার মা ও মামাদের ইচছার কথা মনে রেখেছি। দৃঢ় থেকেছি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ শিক্ষা প্রশাসনের অনেক পদে যেতেই অনেক সহকর্মী ও বন্ধুরা উৎসাহ দিলেও তিনি কখনো তা চাননি।

৫ মে নেহাল আহমদকে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে কয়েকমাস ধরে তিনি এই কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাগ্নে। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসেই নেহাল আহমদকে ঢাকার বাইরে বদলি করে। মিসপোস্টিং দিয়ে, নিয়মিত বেতন তুলতে না দিয়ে, একাধিক তদন্ত করিয়ে নেহাল আহমেদকে নানা ভোগান্তিতে ফেলেছেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক। ২০০২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজে চাকরি করতে হয়েছে তাঁকে। পদোন্নতি পাওয়ার পর ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ফের ঢাকায় বদলি হয়ে আসার সুযোগ পান জনপ্রিয় ও নাট্যব্যক্তিত্ব নেহাল আহমেদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের ইচ্ছা পূরণেই আজ ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ

আপডেট টাইম : ১২:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০১৯
হাওর বার্তা ডেস্কঃ সুযোগ এসেছিল অনেক। শিক্ষা প্রশাসনের ডাকসাইটে কর্মকর্তা হওয়ার হাতছানি। সহকর্মীরাও চেয়েছেন নানান পদে যান তিনি। কিন্তু কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেননি। মন পরে ছিল একজনের চাওয়াতেই। আর তা হলো মায়ের ইচ্ছের কথা। এ যেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ইচ্ছা পূরণের কাব্যকথা। যে মানুষটি মাকে এমন উচ্চাসনে বসিয়েছেন তিনি শিক্ষাবিদ নেহাল আহমেদ। হ্যাঁ, বলছিলাম ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ-এর কথা। রত্নগর্ভা মা আছিয়া আলমের ইচ্ছা, সন্তান বড় হয়ে শিক্ষকতা করবে। ব্যাস, মায়ের এই ইচ্ছাকে ভেতরে লালন করে এত দূর এসেছেন অধ্যাপক নেহাল।
গত শনিবার সাংবাদিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে নেপথ্যের সে কথাই বলেছেন তিনি। শিক্ষা প্রশাসনের বড় পদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ করেননি ইংরেজির এই ডাকসাইটে অধ্যাপক। তাঁর রত্নগর্ভা মা বর্তমানে কিশোগঞ্জের মিঠামইনের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। স্কুলজীবন থেকেই খেলাঘরসহ সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত এই গুণী মা চেয়েছেনে তাঁর ছেলে শিক্ষকতা করবে। শিক্ষা প্রশাসনের অফিসে চাকরি করার চাইতে দেশসেরা ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ হতে পারা অনেক বেশি সম্মানের-গৌরবের মনের করেন তাঁর মা।
ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ হতে আগ্রহী শিক্ষা ক্যাডারের অনেক অধ্যাপকই। অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের অনেকেই এবং সাংবাদিক বন্ধুরাও চেয়েছিলেন আমি যেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বড় পদে যাই।

বিভিন্ন মহল থেকে যখনই এ আলোচনা উঠেছে আমি বরাবরই আমার মা ও মামাবিভিন্ন মহল থেকে যখনই এ আলোচনা উঠেছে আমি বরাবরই আমার মা ও মামাদের ইচছার কথা মনে রেখেছি। দৃঢ় থেকেছি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ শিক্ষা প্রশাসনের অনেক পদে যেতেই অনেক সহকর্মী ও বন্ধুরা উৎসাহ দিলেও তিনি কখনো তা চাননি।

৫ মে নেহাল আহমদকে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে কয়েকমাস ধরে তিনি এই কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাগ্নে। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসেই নেহাল আহমদকে ঢাকার বাইরে বদলি করে। মিসপোস্টিং দিয়ে, নিয়মিত বেতন তুলতে না দিয়ে, একাধিক তদন্ত করিয়ে নেহাল আহমেদকে নানা ভোগান্তিতে ফেলেছেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক। ২০০২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজে চাকরি করতে হয়েছে তাঁকে। পদোন্নতি পাওয়ার পর ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে ফের ঢাকায় বদলি হয়ে আসার সুযোগ পান জনপ্রিয় ও নাট্যব্যক্তিত্ব নেহাল আহমেদ।