ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষাদূত মুকুল মাস্টারের অন্তিম প্রহর ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের ১৭ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ৭৮ দেশের সঙ্গে বৈঠক, হজ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনা সৌদির বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছে সরকার গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের মামলা এমপি নজরুলের জামিন হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বললেন বিচারক মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

যেকারণে আজকের দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে বেদনাদায়ক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৫
  • ৫৫১ বার

আজ শনিবার ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম বিশ্বের কাছে দিনটি শোক ও বেদনার। আরবিতে ‘আশারা’ মানে ১০। এ কারণে দিনটি আশুরা নামে পরিচিত। ৬১ হিজরির এই দিনে ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র এবং হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতেমা (রা.)-এর পুত্র ইমাম হোসাইন (রা.)। পঞ্চম খলিফা হজরত মুয়াবিয়া (রা.) হজরত মুগির (রা.)-এর পরামর্শে নিজ পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। ইসলামী শরিয়ায় বংশানুক্রমিক শাসন বা রাজতন্ত্র হারাম। তাই ইয়াজিদের কাছে বাইয়াত নিতে অস্বীকৃতি জানান ইমাম হোসাইন (রা.)। এর প্রতিবাদে তিনি মদিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। মক্কা থেকে তিনি কুফার উদ্দেশে হিজরত করেন। পথিমধ্যে কারবালায় থামে তার কাফেলা। ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার সঙ্গীদের আটক করে মদিনায় ফিরিয়ে নিতে উমর ইবনে সাদ আবি ওক্কাসের নেতৃত্বে চার হাজার সৈন্য কারবালায় প্রবেশ করে। সিমার ইবনে জিলজুশান মুরাদিও কারবালায় সৈন্য সমাবেশ ঘটায়। আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ইয়াজিদ বাহিনী ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শিবির অবরোধ করে। পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। শিবিরের নারী-শিশুসহ সবাই তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়েন। কিন্তু ইমাম হোসাইন (রা.) আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান। অবরোধ অব্যাহত থাকলে ১০ মহররম ইয়াজিদের বাহিনীর অবরোধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ইমাম হোসাইন (রা.)। অসম যুদ্ধে ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার ৭২ সঙ্গী শাহাদাতবরণ করেন। সিমার ইবনে জিলজুশান কণ্ঠদেশে ছুরি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। মুসলমানদের কাছে ১০ মহররম একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারবালার বেদনাদায়ক ইতিহাস ছাড়াও দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, এ দিনেই আল্লাহতায়ালা আকাশ ও মাটি সৃষ্টি করেন। কেয়ামত হবে এ দিনেই। ১০ মুহররম পৃথিবীতে হজরত আদম (আ.) আগমন করেন। নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর শত্রু ফেরাউনকে নীল নদে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। নূহ (আ.)-এর নৌকা ঝড় থেকে রক্ষা পায়। দাউদ (আ.)-এর তাওবা কবুল হয়। আইয়ুব (আ.) দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত ও সুস্থতা লাভ করেন। ঈসা (আ.)-কে ঊর্ধ্বাকাশে আল্লাহর নির্দেশে এ দিনেই উঠিয়ে নেওয়া হয়। কারবালার শোকের দিনের অনেক আগেই মহানবী (সা.) জীবদ্দশায় আশুরার দিন রোজা রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) হাদিসে বর্ণনা করেন, ‘আমি রাসূলকে ১০ মহররম রোজা পালন করতে দেখেছি। আর বলতে শুনেছি, রমজানের রোজা ছাড়া অন্য যে কোনো সময়ের রোজার চেয়ে উত্তম মহররমের রোজা। আশুরার দিন সুন্নি মুসলমানরা রোজা রাখেন। তবে শিয়া সম্প্রদায় মার্সিয়া ও মাতমের মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপন করে। বের করা হয় তাজিয়া মিছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাদূত মুকুল মাস্টারের অন্তিম প্রহর

যেকারণে আজকের দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে বেদনাদায়ক

আপডেট টাইম : ১১:১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৫

আজ শনিবার ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম বিশ্বের কাছে দিনটি শোক ও বেদনার। আরবিতে ‘আশারা’ মানে ১০। এ কারণে দিনটি আশুরা নামে পরিচিত। ৬১ হিজরির এই দিনে ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র এবং হজরত আলী (রা.) ও হজরত ফাতেমা (রা.)-এর পুত্র ইমাম হোসাইন (রা.)। পঞ্চম খলিফা হজরত মুয়াবিয়া (রা.) হজরত মুগির (রা.)-এর পরামর্শে নিজ পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। ইসলামী শরিয়ায় বংশানুক্রমিক শাসন বা রাজতন্ত্র হারাম। তাই ইয়াজিদের কাছে বাইয়াত নিতে অস্বীকৃতি জানান ইমাম হোসাইন (রা.)। এর প্রতিবাদে তিনি মদিনা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। মক্কা থেকে তিনি কুফার উদ্দেশে হিজরত করেন। পথিমধ্যে কারবালায় থামে তার কাফেলা। ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার সঙ্গীদের আটক করে মদিনায় ফিরিয়ে নিতে উমর ইবনে সাদ আবি ওক্কাসের নেতৃত্বে চার হাজার সৈন্য কারবালায় প্রবেশ করে। সিমার ইবনে জিলজুশান মুরাদিও কারবালায় সৈন্য সমাবেশ ঘটায়। আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ইয়াজিদ বাহিনী ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শিবির অবরোধ করে। পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। শিবিরের নারী-শিশুসহ সবাই তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়েন। কিন্তু ইমাম হোসাইন (রা.) আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান। অবরোধ অব্যাহত থাকলে ১০ মহররম ইয়াজিদের বাহিনীর অবরোধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ইমাম হোসাইন (রা.)। অসম যুদ্ধে ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার ৭২ সঙ্গী শাহাদাতবরণ করেন। সিমার ইবনে জিলজুশান কণ্ঠদেশে ছুরি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। মুসলমানদের কাছে ১০ মহররম একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারবালার বেদনাদায়ক ইতিহাস ছাড়াও দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, এ দিনেই আল্লাহতায়ালা আকাশ ও মাটি সৃষ্টি করেন। কেয়ামত হবে এ দিনেই। ১০ মুহররম পৃথিবীতে হজরত আদম (আ.) আগমন করেন। নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর শত্রু ফেরাউনকে নীল নদে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। নূহ (আ.)-এর নৌকা ঝড় থেকে রক্ষা পায়। দাউদ (আ.)-এর তাওবা কবুল হয়। আইয়ুব (আ.) দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত ও সুস্থতা লাভ করেন। ঈসা (আ.)-কে ঊর্ধ্বাকাশে আল্লাহর নির্দেশে এ দিনেই উঠিয়ে নেওয়া হয়। কারবালার শোকের দিনের অনেক আগেই মহানবী (সা.) জীবদ্দশায় আশুরার দিন রোজা রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) হাদিসে বর্ণনা করেন, ‘আমি রাসূলকে ১০ মহররম রোজা পালন করতে দেখেছি। আর বলতে শুনেছি, রমজানের রোজা ছাড়া অন্য যে কোনো সময়ের রোজার চেয়ে উত্তম মহররমের রোজা। আশুরার দিন সুন্নি মুসলমানরা রোজা রাখেন। তবে শিয়া সম্প্রদায় মার্সিয়া ও মাতমের মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপন করে। বের করা হয় তাজিয়া মিছিল।