ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে প্রায় ৩৫০ বছর আগের ১টি কড়াই গাছ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০১৯
  • ৩৭৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ফেনী শহরের দাউদপুল ব্রিজ এলাকার ফেনী-সোনাগাজী সিএনজি স্ট্যান্ডের পাশে প্রায় চারশ বছরের একটি কড়ই গাছ রয়েছে। গাছটি এ জনপদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই এই গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এসে ভিড় করে। ফলে পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

অবশ্য অনেকের মতে, গাছটি ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর আগের। এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণের সঙ্গে। গাছটির পার্শ্ববর্তী তুলাবাড়িয়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী কাজী এহসান জানান, জন্মের পর থেকে গাছটিকে এভাবেই দেখে আসছি। এ গাছ নিয়ে দাদা-নানারা অনেক কেচ্ছা-কাহিনী শোনাতেন আমাদের। তবে গাছটির ইতিহাস কেউই সঠিকভাবে জানেন না।

গাছটির নিছে ৪৭ বছর ধরে ব্যবসা করছেন অভিলাষ কর্মকার। গাছ সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যবসার শুরু থেকেই গাছটি দেখে আসছি। একটা সময় এ এলাকায় দোকানপাট তেমন ছিল না। ভয়ে কোনো মানুষ আসতে সাহস পেত না। ফেনী নদী থেকে প্রবাহিত একটি ডোবার অবস্থান ছিল এখানে। কালক্রমে তা হারিয়ে গেছে। এখন অনেক দোকানপাট হলেও গাছটি আগের মতোই রয়ে গেছে।

কথিত আছে, ফেনী মহকুমার প্রথম প্রশাসক (সাব-ডিভিশনাল অফিসার বা এসডিও) ছিলেন উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের অমিয় কবি ও দার্শনিক নবীন চন্দ্র সেন। এখানে বসে তিনি কবিতা লিখতেন। একাকী বসে থেকে তিনি হারিয়ে যেতেন ভাবনার রাজ্যে। স্থানীয়দের মতে, বাংলার প্রথম রাজা শের শাহ এই গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। ইংরেজ শাসনামলে গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড তৈরির সময় ইংরেজরা এখানে বিশ্রাম নিতেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে প্রায় ৩৫০ বছর আগের ১টি কড়াই গাছ

আপডেট টাইম : ০১:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ফেনী শহরের দাউদপুল ব্রিজ এলাকার ফেনী-সোনাগাজী সিএনজি স্ট্যান্ডের পাশে প্রায় চারশ বছরের একটি কড়ই গাছ রয়েছে। গাছটি এ জনপদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই এই গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এসে ভিড় করে। ফলে পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

অবশ্য অনেকের মতে, গাছটি ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর আগের। এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণের সঙ্গে। গাছটির পার্শ্ববর্তী তুলাবাড়িয়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী কাজী এহসান জানান, জন্মের পর থেকে গাছটিকে এভাবেই দেখে আসছি। এ গাছ নিয়ে দাদা-নানারা অনেক কেচ্ছা-কাহিনী শোনাতেন আমাদের। তবে গাছটির ইতিহাস কেউই সঠিকভাবে জানেন না।

গাছটির নিছে ৪৭ বছর ধরে ব্যবসা করছেন অভিলাষ কর্মকার। গাছ সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যবসার শুরু থেকেই গাছটি দেখে আসছি। একটা সময় এ এলাকায় দোকানপাট তেমন ছিল না। ভয়ে কোনো মানুষ আসতে সাহস পেত না। ফেনী নদী থেকে প্রবাহিত একটি ডোবার অবস্থান ছিল এখানে। কালক্রমে তা হারিয়ে গেছে। এখন অনেক দোকানপাট হলেও গাছটি আগের মতোই রয়ে গেছে।

কথিত আছে, ফেনী মহকুমার প্রথম প্রশাসক (সাব-ডিভিশনাল অফিসার বা এসডিও) ছিলেন উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যের অমিয় কবি ও দার্শনিক নবীন চন্দ্র সেন। এখানে বসে তিনি কবিতা লিখতেন। একাকী বসে থেকে তিনি হারিয়ে যেতেন ভাবনার রাজ্যে। স্থানীয়দের মতে, বাংলার প্রথম রাজা শের শাহ এই গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। ইংরেজ শাসনামলে গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড তৈরির সময় ইংরেজরা এখানে বিশ্রাম নিতেন।