ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উন্নীতকরণের কাজ চলমান পুলিশে বড় নিয়োগ, কোন জেলায় পদসংখ্যা কত জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ আসামির ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন ইহুদিদের জীবনে কিয়ামতের প্রলয়! তেল আবিব-জেরুজালেম জ্বালিয়ে দেওয়ার শপথ হিজবুল্লাহর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ মাসে দুই লাখ কোটি টাকা অতিক্রম শ্রমিক নিয়োগে ‘জিরো কস্ট’ নীতি, মালয়েশিয়ার বাজারে ফিরছে বাংলাদেশ কুড়িগ্রামে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শেষ দুই ম্যাচের সূচি ঘোষণা

পশু-পাখি কথা বলতে পারে না কেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০১৫
  • ৭৫৮ বার

টিয়ে-ময়না বা কাকাতুয়ার কদর অন্য পাখিদের চেয়ে বেশি। কেন বলো তো? কারণ তারা কথা বলতে পারে। কিন্তু টিয়ে-ময়না কথা বলতে পারলে অন্য পশু-পাখিরা পারে না কেন? আর ওই পাখিগুলোই বা নিজে নিজে কথা বলতে পারে না কেন? শিখিয়ে দিলে শুধু ভেঙে ভেঙে দু-চারটে শব্দ বলে কেন?

এ প্রশ্নগুলো তোমার মাথায় আসতেই পারে। যদি উত্তরগুলো কখনো না জানা হয়ে থাকে, তবে এখন জেনে নাও।

প্রথমত, পশু-পাখিরা কথা বলতে পারে না- এ কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। পশু-পাখিরা নিজেদের মধ্যে ঠিকই ভাববিনিময় করতে পারে। তাদেরও নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এই যে আমরা একেক প্রাণীর একেক রকম ডাক শুনি, এই ডাকই ওদের যোগাযোগের মাধ্যম। মুশকিল হচ্ছে, আমরা ওদের ভাষা জানি না। তাই বুঝতে পারি না ওরা কী বলছে।

একজন চায়নিজ মানুষ তোমার সঙ্গে চীনা ভাষায় কথা বললে তুমি সেটা বুঝবে না। কিন্তু আরেকজন চায়নিজ মানুষকে একই কথা বললে সে কিন্তু সেটা ঠিকই বুঝবে। ব্যাপারটা এমন।

তবে পশু-পাখি আসলে পরিপূর্ণভাবে কথা বলতে পারে না। যদি পারত, তবে আমাদের ভাষাগুলো ওরা ঠিকই শিখে ফেলত, কিংবা আমরা ওদের ভাষা শিখতে পারতাম। এবার বলো তো, শব্দই যদি করতে পারে, তবে ওরা কথা বলতে পারে না কেন?

মানুষ আর পশু-পাখির শারীরিক গঠনে অনেক পার্থক্য। এ কারণেই মানুষ কথা বলতে পারে, অন্য কোনো প্রাণী পারে না। ‘ব্রোকা’স এরিয়া’ নামক মস্তিষ্কের একটা অংশের উপরে অনেকটাই নির্ভরশীল আমাদের কথা বলার ব্যাপারটা। এই অংশটা মানুষের যেমন, অন্য কোনো প্রাণীর তেমন নয়।

এছাড়া পশু-পাখির কণ্ঠনালী, দাঁত, চোয়াল- কোনোটাই কথা বলার জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। মানুষের ক্ষেত্রে বাগযন্ত্র এমনভাবে গঠিত যে আমরা অনায়াসে কথা বলতে পারি। কিন্তু পশু-পাখিরা সে সুবিধা পায় না।

এবার ভাবো, ময়না-টিয়ে দু’য়েকটা শব্দ বলতে পারে কেন?
আসলে অনেক বেশি শব্দ ধারণ করার ক্ষমতা ওদের মস্তিষ্কের নেই। বারবার শুনে শুনে অল্প কিছু শব্দ ওরা মস্তিষ্কে ধারণ করতে পারে এবং সেগুলো মুখস্ত উচ্চারণ করতে পারে। কিন্তু সেই শব্দগুলোর অর্থ কিন্তু ওরা বোঝে না।

তবে কথা বলতে না পারলেও পশু-পাখিরা যোগাযোগ করতে পারে ঠিকই। নিজেদের মধ্যে তারা নিজেদের ভাষায় যোগাযোগ করে, আর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইঙ্গিতে। চেষ্টা করলে দেখবে, তুমিও পশু-পাখির ইঙ্গিত-ইশারা বুঝতে পারবে, ওদের মনের ভাব বুঝতে পারবে। পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে এমনটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর ওদের মনের ভাব যদি বুঝতেই পারো, তাহলে ওরা কথা না বলতে পারলেও বা ক্ষতি কী?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উন্নীতকরণের কাজ চলমান

পশু-পাখি কথা বলতে পারে না কেন

আপডেট টাইম : ০৪:১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০১৫

টিয়ে-ময়না বা কাকাতুয়ার কদর অন্য পাখিদের চেয়ে বেশি। কেন বলো তো? কারণ তারা কথা বলতে পারে। কিন্তু টিয়ে-ময়না কথা বলতে পারলে অন্য পশু-পাখিরা পারে না কেন? আর ওই পাখিগুলোই বা নিজে নিজে কথা বলতে পারে না কেন? শিখিয়ে দিলে শুধু ভেঙে ভেঙে দু-চারটে শব্দ বলে কেন?

এ প্রশ্নগুলো তোমার মাথায় আসতেই পারে। যদি উত্তরগুলো কখনো না জানা হয়ে থাকে, তবে এখন জেনে নাও।

প্রথমত, পশু-পাখিরা কথা বলতে পারে না- এ কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। পশু-পাখিরা নিজেদের মধ্যে ঠিকই ভাববিনিময় করতে পারে। তাদেরও নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এই যে আমরা একেক প্রাণীর একেক রকম ডাক শুনি, এই ডাকই ওদের যোগাযোগের মাধ্যম। মুশকিল হচ্ছে, আমরা ওদের ভাষা জানি না। তাই বুঝতে পারি না ওরা কী বলছে।

একজন চায়নিজ মানুষ তোমার সঙ্গে চীনা ভাষায় কথা বললে তুমি সেটা বুঝবে না। কিন্তু আরেকজন চায়নিজ মানুষকে একই কথা বললে সে কিন্তু সেটা ঠিকই বুঝবে। ব্যাপারটা এমন।

তবে পশু-পাখি আসলে পরিপূর্ণভাবে কথা বলতে পারে না। যদি পারত, তবে আমাদের ভাষাগুলো ওরা ঠিকই শিখে ফেলত, কিংবা আমরা ওদের ভাষা শিখতে পারতাম। এবার বলো তো, শব্দই যদি করতে পারে, তবে ওরা কথা বলতে পারে না কেন?

মানুষ আর পশু-পাখির শারীরিক গঠনে অনেক পার্থক্য। এ কারণেই মানুষ কথা বলতে পারে, অন্য কোনো প্রাণী পারে না। ‘ব্রোকা’স এরিয়া’ নামক মস্তিষ্কের একটা অংশের উপরে অনেকটাই নির্ভরশীল আমাদের কথা বলার ব্যাপারটা। এই অংশটা মানুষের যেমন, অন্য কোনো প্রাণীর তেমন নয়।

এছাড়া পশু-পাখির কণ্ঠনালী, দাঁত, চোয়াল- কোনোটাই কথা বলার জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। মানুষের ক্ষেত্রে বাগযন্ত্র এমনভাবে গঠিত যে আমরা অনায়াসে কথা বলতে পারি। কিন্তু পশু-পাখিরা সে সুবিধা পায় না।

এবার ভাবো, ময়না-টিয়ে দু’য়েকটা শব্দ বলতে পারে কেন?
আসলে অনেক বেশি শব্দ ধারণ করার ক্ষমতা ওদের মস্তিষ্কের নেই। বারবার শুনে শুনে অল্প কিছু শব্দ ওরা মস্তিষ্কে ধারণ করতে পারে এবং সেগুলো মুখস্ত উচ্চারণ করতে পারে। কিন্তু সেই শব্দগুলোর অর্থ কিন্তু ওরা বোঝে না।

তবে কথা বলতে না পারলেও পশু-পাখিরা যোগাযোগ করতে পারে ঠিকই। নিজেদের মধ্যে তারা নিজেদের ভাষায় যোগাযোগ করে, আর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইঙ্গিতে। চেষ্টা করলে দেখবে, তুমিও পশু-পাখির ইঙ্গিত-ইশারা বুঝতে পারবে, ওদের মনের ভাব বুঝতে পারবে। পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে এমনটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর ওদের মনের ভাব যদি বুঝতেই পারো, তাহলে ওরা কথা না বলতে পারলেও বা ক্ষতি কী?