ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্ধকী বস্তু থেকে উপকার গ্রহণ কি সুদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮
  • ৩৬৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রশ্ন: আমি একটি বাড়ির দুটি ফ্লোর ৩ বছর মেয়াদে বন্ধক নিয়ে বাড়ির মালিককে ৪০ লাখ টাকা দিতে চাই। বিনিময়ে দুই ফ্লোরের ভাড়া নিয়ে আমি লাভবান হব। মেয়াদ শেষে আমি সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাব। শুনেছি, এভাবে লেনদেন করা জায়েয নেই। আসলেই কি জায়েয নেই? তাহলে এখন আমাদের এ লেনদেনটি সহিহ ও জায়েয করার কোনো পদ্ধতি আছে কি?

উত্তর: প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে লেনদেন করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। কেন না ঋণ দিয়ে বিনিময়ে গ্রহিতা থেকে কোনো ধরনের উপকার গ্রহণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত। বন্ধকের অনুমোদন রয়েছে কেবল ঋণ হিসেবে প্রদত্ত অর্থ বা বস্তু ফিরে পাবার নিশ্চয়তা স্বরূপ। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহিতা থেকে ঋণের বিপরীতে দুটি ফ্লোর বন্ধক নিয়ে তা থেকে উপকৃত হওয়া কোনোক্রমেই জায়েয হবে না।

মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন, আমার কাছে এক ব্যক্তি একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছেন। আমি এতে আরোহন করেছি (এর কি হুকুম?)। তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন, তুমি এর পিঠ থেকে (আরোহন করে) যে উপকৃত হয়েছেন, তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা. ১৫০৭১)

তাই এক্ষেত্রে বৈধভাবে লেনদেন করতে চাইলে ঋণ ও বন্ধকি চুক্তি না করে শুরু থেকেই ভাড়া চুক্তি করতে পারেন। অর্থাৎ ফ্লোর দুটি আপনি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ভাড়া নেবেন এবং সমুদয় ভাড়া এককালীন অগ্রিম পরিশোধ করে দেবেন। আর দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ভাড়া নিলে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কিছুটা কমেও চুক্তি করতে পারবেন।

উল্লেখিত চুক্তিতে ফ্লোর দুটির মালিক অগ্রিম যে টাকা গ্রহণ করবে, তা যেহেতু ভাড়া হিসেবে নেবে; তাই ওই টাকা সে নিজের কাজে লাগাতে পারবে। আর আপনিও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় ফ্লোর দুটিতে বসবাস করতে পারবেন কিংবা ফ্লোর দুটিতে উন্নয়নমূলক কোনো কাজ (যেমন- টাইলস ফিটিংস, ডেকোরেশন ইত্যাদি) করে তা অন্যের কাছে অধিক টাকায় ভাড়া দিতে পারবেন।

অবশ্য পরবর্তী সময়ে কখনো ভাড়া চুক্তি বাতিল হলে ভাড়াদাতার জন্য হিসাব করে অবশিষ্ট মাসগুলোর অগ্রিম ভাড়া ভাড়া গ্রহিতাকে ফিরিয়ে দেয়া আবশ্যক হবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ৫/২১২; শরহু মুখতাসারিত তহাবী: ৩/১৪৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ২৩৭৬০; কিতাবুল আছল: ৩/৪৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী: ১১/২৬৮; আলবাহরুর রায়েক: ৭/২০৪; আদ্দুররুল মুখতার: ৬/২৮; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা : ১/১০৯)

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধকী বস্তু থেকে উপকার গ্রহণ কি সুদ

আপডেট টাইম : ০৭:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রশ্ন: আমি একটি বাড়ির দুটি ফ্লোর ৩ বছর মেয়াদে বন্ধক নিয়ে বাড়ির মালিককে ৪০ লাখ টাকা দিতে চাই। বিনিময়ে দুই ফ্লোরের ভাড়া নিয়ে আমি লাভবান হব। মেয়াদ শেষে আমি সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাব। শুনেছি, এভাবে লেনদেন করা জায়েয নেই। আসলেই কি জায়েয নেই? তাহলে এখন আমাদের এ লেনদেনটি সহিহ ও জায়েয করার কোনো পদ্ধতি আছে কি?

উত্তর: প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে লেনদেন করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। কেন না ঋণ দিয়ে বিনিময়ে গ্রহিতা থেকে কোনো ধরনের উপকার গ্রহণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত। বন্ধকের অনুমোদন রয়েছে কেবল ঋণ হিসেবে প্রদত্ত অর্থ বা বস্তু ফিরে পাবার নিশ্চয়তা স্বরূপ। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহিতা থেকে ঋণের বিপরীতে দুটি ফ্লোর বন্ধক নিয়ে তা থেকে উপকৃত হওয়া কোনোক্রমেই জায়েয হবে না।

মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন, আমার কাছে এক ব্যক্তি একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছেন। আমি এতে আরোহন করেছি (এর কি হুকুম?)। তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন, তুমি এর পিঠ থেকে (আরোহন করে) যে উপকৃত হয়েছেন, তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা. ১৫০৭১)

তাই এক্ষেত্রে বৈধভাবে লেনদেন করতে চাইলে ঋণ ও বন্ধকি চুক্তি না করে শুরু থেকেই ভাড়া চুক্তি করতে পারেন। অর্থাৎ ফ্লোর দুটি আপনি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ভাড়া নেবেন এবং সমুদয় ভাড়া এককালীন অগ্রিম পরিশোধ করে দেবেন। আর দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ভাড়া নিলে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কিছুটা কমেও চুক্তি করতে পারবেন।

উল্লেখিত চুক্তিতে ফ্লোর দুটির মালিক অগ্রিম যে টাকা গ্রহণ করবে, তা যেহেতু ভাড়া হিসেবে নেবে; তাই ওই টাকা সে নিজের কাজে লাগাতে পারবে। আর আপনিও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় ফ্লোর দুটিতে বসবাস করতে পারবেন কিংবা ফ্লোর দুটিতে উন্নয়নমূলক কোনো কাজ (যেমন- টাইলস ফিটিংস, ডেকোরেশন ইত্যাদি) করে তা অন্যের কাছে অধিক টাকায় ভাড়া দিতে পারবেন।

অবশ্য পরবর্তী সময়ে কখনো ভাড়া চুক্তি বাতিল হলে ভাড়াদাতার জন্য হিসাব করে অবশিষ্ট মাসগুলোর অগ্রিম ভাড়া ভাড়া গ্রহিতাকে ফিরিয়ে দেয়া আবশ্যক হবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ৫/২১২; শরহু মুখতাসারিত তহাবী: ৩/১৪৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ২৩৭৬০; কিতাবুল আছল: ৩/৪৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী: ১১/২৬৮; আলবাহরুর রায়েক: ৭/২০৪; আদ্দুররুল মুখতার: ৬/২৮; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা : ১/১০৯)