ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ তালবাহানায় আটকে গভর্নিং বডি নির্বাচন, প্রশ্নের মুখে আইডিয়াল কর্তৃপক্ষ অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামোর বেহাল দশা: জুবাইদা রহমান গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হবে পুরস্কারের গাড়ি মাকে উপহার দেবেন তাওহীদ হৃদয় ইসলামী ব্যাংকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণার আহ্বান ফখরুলের পাখির চোখে সীমান্ত পাহারার ছক, কঠোর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দিত পরীমণি

সাটুরিয়ায় যুবকের বাসর ঘরে দুই স্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০১৫
  • ৩৯৭ বার

প্রথমে প্রেম করে গোপনে বিয়ে। এরপর ২৪ ঘণ্টা ব্যবধানে পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় বউ নিয়ে বাড়িতে এসে দেখেন বাসর ঘরে বসে আছে প্রথম স্ত্রী। অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে স্বামী।

তারপর দুই স্ত্রীই স্বামীর অধিকার দাবিতে অবস্থান নেয় বরের বাড়িতে। এভাবে গেল ছয়দিন। ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ইনাম সাফুল্লি গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, শাহিনুর মিয়া নামে এক যুবকের সাথে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দাতপাড়া গ্রামের মৃত: আব্দুল ছালামের কন্যা ছালমার (২৬) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের সম্পর্ক শাহিনের পরিবার মেনে না নিয়ে তার বিয়ে ঠিক করে ৩ অক্টোবর।

অন্যদিকে শাহীন তার প্রেমিকা ছালমাকে গত ২ অক্টোবর কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু বিষয়টি তার পরিবার মেনে না নেয়ায় নির্ধারিত তারিখ ৩ অক্টোবর শনিবার শাহিন তার পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরের রাথুরা গ্রামের আব্দুল আলীমের কন্যা রোনা আক্তারকে (১৮) বিয়ে করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে পাকুটিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আবু বক্করের অফিসে ৪ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয় এ বিয়েতে।

ইতোমধ্যে শাহিনুর বিয়ে করছে এমন খবর জানতে পেরে মাত্র একদিন আগে বিয়ে করা স্ত্রী মির্জাপুরের আব্দুল ছালামের কন্যা ছালমা স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শাহীনের বাড়িতে ওঠে। আর শাহিন নতুন স্ত্রীকে নিয়ে এসে দেখে বাসরঘরে বসে আছে তার প্রথম স্ত্রী ছালমা।

ঘটনা জানাজানি হলে মুহূর্তেই গ্রামের মানুষ জড়ো হয় বিয়ে বাড়িতে। আনন্দ রূপ নেই বিষাদে। অবস্থা বেগতিক দেখে স্বামী শাহীনুর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো সাটুরিয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ দিকে শাহীনুর তার প্রেমিকা ছালমাকেই স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অনড় থাকায়, তার পরিবার প্রথম স্ত্রীকেই মেনে নেয়। তাই দ্বিতীয় স্ত্রী রোনা আক্তারকে দেন-মোহরের চার লাখ টাকা দিয়ে তালাক দিতে গতকাল বুধবার সন্ধায় গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশে পাকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, সাফুল্লির স্থানীয় ইউপি সদস্য আমীর আলী, সাবেক ইউপি সদস্য পাত্তা মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতা মতিউর রহমান দ্বিতীয় স্ত্রীর দেন মোহরের চার লাখ টাকা ফেরত দিয়ে তাকে তালাক দেয়ার রায় দেন।

দ্বিতীয় স্ত্রী রোনার ভগ্নিপতি উজ্জল হোসেন জানান, শাহীন ২ অক্টোবর ছালমাকে বিয়ের কথা গোপন রেখে পরদিন ৩ অক্টোবর আমার শালিকা রোনাকে বিয়ে করে তার নিজ বাড়িতে নেয়। এরপর আমরা জানতে পারি কার আরেক স্ত্রী বাসর ঘরে বসে আছে।

পরে বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে রোনাকে ৪ লাখ টাকা দিয়ে তালাক করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিন লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি এক লাখ টাকা স্থানীয় মাতবর ও আওয়ামীলীগ নেতারা ভাগবাটোয়ারা করেছে।

ইনাম সাফুল্লি গ্রামের পাত্তা মেম্বার ও ইউপি সদস্য আমীর আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর ৪ লাখ টাকা আজ বৃহস্পতিবার সকালে রোনার পরিবারকে দিয়ে দিয়েছে। তবে ১ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারার কথা অস্বীকার করেন তারা।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লুাহ সরকার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: নয়াদিগন্ত

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যাক সদস্যদের মাঝে হাঁসের বাচ্চা ও সবজি বীজ বিতরণ

সাটুরিয়ায় যুবকের বাসর ঘরে দুই স্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০১৫

প্রথমে প্রেম করে গোপনে বিয়ে। এরপর ২৪ ঘণ্টা ব্যবধানে পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে। দ্বিতীয় বউ নিয়ে বাড়িতে এসে দেখেন বাসর ঘরে বসে আছে প্রথম স্ত্রী। অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে স্বামী।

তারপর দুই স্ত্রীই স্বামীর অধিকার দাবিতে অবস্থান নেয় বরের বাড়িতে। এভাবে গেল ছয়দিন। ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ইনাম সাফুল্লি গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, শাহিনুর মিয়া নামে এক যুবকের সাথে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দাতপাড়া গ্রামের মৃত: আব্দুল ছালামের কন্যা ছালমার (২৬) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের সম্পর্ক শাহিনের পরিবার মেনে না নিয়ে তার বিয়ে ঠিক করে ৩ অক্টোবর।

অন্যদিকে শাহীন তার প্রেমিকা ছালমাকে গত ২ অক্টোবর কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু বিষয়টি তার পরিবার মেনে না নেয়ায় নির্ধারিত তারিখ ৩ অক্টোবর শনিবার শাহিন তার পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরের রাথুরা গ্রামের আব্দুল আলীমের কন্যা রোনা আক্তারকে (১৮) বিয়ে করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে পাকুটিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আবু বক্করের অফিসে ৪ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয় এ বিয়েতে।

ইতোমধ্যে শাহিনুর বিয়ে করছে এমন খবর জানতে পেরে মাত্র একদিন আগে বিয়ে করা স্ত্রী মির্জাপুরের আব্দুল ছালামের কন্যা ছালমা স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শাহীনের বাড়িতে ওঠে। আর শাহিন নতুন স্ত্রীকে নিয়ে এসে দেখে বাসরঘরে বসে আছে তার প্রথম স্ত্রী ছালমা।

ঘটনা জানাজানি হলে মুহূর্তেই গ্রামের মানুষ জড়ো হয় বিয়ে বাড়িতে। আনন্দ রূপ নেই বিষাদে। অবস্থা বেগতিক দেখে স্বামী শাহীনুর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো সাটুরিয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ দিকে শাহীনুর তার প্রেমিকা ছালমাকেই স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অনড় থাকায়, তার পরিবার প্রথম স্ত্রীকেই মেনে নেয়। তাই দ্বিতীয় স্ত্রী রোনা আক্তারকে দেন-মোহরের চার লাখ টাকা দিয়ে তালাক দিতে গতকাল বুধবার সন্ধায় গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশে পাকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, সাফুল্লির স্থানীয় ইউপি সদস্য আমীর আলী, সাবেক ইউপি সদস্য পাত্তা মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতা মতিউর রহমান দ্বিতীয় স্ত্রীর দেন মোহরের চার লাখ টাকা ফেরত দিয়ে তাকে তালাক দেয়ার রায় দেন।

দ্বিতীয় স্ত্রী রোনার ভগ্নিপতি উজ্জল হোসেন জানান, শাহীন ২ অক্টোবর ছালমাকে বিয়ের কথা গোপন রেখে পরদিন ৩ অক্টোবর আমার শালিকা রোনাকে বিয়ে করে তার নিজ বাড়িতে নেয়। এরপর আমরা জানতে পারি কার আরেক স্ত্রী বাসর ঘরে বসে আছে।

পরে বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে রোনাকে ৪ লাখ টাকা দিয়ে তালাক করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিন লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি এক লাখ টাকা স্থানীয় মাতবর ও আওয়ামীলীগ নেতারা ভাগবাটোয়ারা করেছে।

ইনাম সাফুল্লি গ্রামের পাত্তা মেম্বার ও ইউপি সদস্য আমীর আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর ৪ লাখ টাকা আজ বৃহস্পতিবার সকালে রোনার পরিবারকে দিয়ে দিয়েছে। তবে ১ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারার কথা অস্বীকার করেন তারা।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লুাহ সরকার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: নয়াদিগন্ত