ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অডিট কর্মকর্তা ইশরাত বরখাস্ত দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে পেটাল দিল্লি পুলিশ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ‘ভোট ব্যাংক’, এ কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার হয়েছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই: মান্না ২ মন্ত্রী আসার খবরে বদলে গেল হাসপাতালের পরিবেশ, অবাক রোগীরা বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি, ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে আবারো মেসিকে ফেরাতে চায় আর্জেন্টিনা

অর্থায়ন জটিলতায় পিডিবি’র তিন সৌর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮
  • ৪৮৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অর্থায়ন জটিলতায় ঝুলে আছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তিন প্রকল্প। প্রকল্পগুলো থেকে ২০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু,জমি বরাদ্দ পেলেও সংশ্লিষ্টদের কেউই বলতে পারছেন না কবে শুরু হবে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার ধারেকাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

পরিকল্পনায় ২০২১ সালের মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের কথা। এতে করে ২০২১ সালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াট হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট হওয়া উচিত। এখন সেই হিসেবে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ১০ ভাগ অর্থাৎ এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের কথা।

কিন্তু এখন দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে মাত্র ৪৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে কর্ণফুলি জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২৩০ মেগাওয়াট, সোলার হোম সিস্টেম এবং মিনি গ্রিড থেকে ২৬০ মেগাওয়াট এবং সোলারের একটি গ্রিড সংযুক্ত প্রকল্প থেকে তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে। অর্থাৎ পরিকল্পনার প্রায় অর্ধেক বাস্তবায়ন হচ্ছে এখন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন অর্ধেক হলেও ক্রমান্বয়ে এই হার কমতে শুরু করবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন,অন্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন যে হারে বাড়ছে ঠিক একই হারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে না। ফলে ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির বদলে কমতে শুরু করবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই পরিস্থিতিতে পিডিবির প্রকল্প শুরু করতে না পারা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, পিডিবি এবং সরকারের কেউই এখনও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই তিনটি প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা জানায়নি। প্রকল্প তিনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে এখনও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনও পাওয়া যায়নি।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ফেনীর সোনাগাজীতে ১০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৩৪১ একর, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে ৬০ মেগাওয়াটের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ১৮৮ একর এবং রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৫৫ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২৫১ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে পিডিবি।

প্রতি মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুতের জন্য গড়ে ১১ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে ২১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ২ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

পিডিবির নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের পরিচালক নাজমুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তিনটি কেন্দ্রর জন্য জমি বরাদ্দ পেয়েছি। কবে নাগাদ এসব কেন্দ্রের বাস্তবায়ন শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেসব বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি জানান, এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পায়নি এখনও তারা। অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায় না।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, এখন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমে এসেছে। এখন সরকার নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১২ সেন্টের মধ্যে রাখতে চাইছে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে দেশের ভাড়ায়চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দাম কম পড়তো। দেশে এখন তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২১ টাকা দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনা হয়। সেখানে সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৯টা ৬০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।

সূত্রঃ  বাংলা ট্রিবিউন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

অর্থায়ন জটিলতায় পিডিবি’র তিন সৌর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প

আপডেট টাইম : ০৩:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অর্থায়ন জটিলতায় ঝুলে আছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তিন প্রকল্প। প্রকল্পগুলো থেকে ২০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু,জমি বরাদ্দ পেলেও সংশ্লিষ্টদের কেউই বলতে পারছেন না কবে শুরু হবে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার ধারেকাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

পরিকল্পনায় ২০২১ সালের মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের কথা। এতে করে ২০২১ সালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াট হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট হওয়া উচিত। এখন সেই হিসেবে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ১০ ভাগ অর্থাৎ এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের কথা।

কিন্তু এখন দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে মাত্র ৪৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে কর্ণফুলি জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২৩০ মেগাওয়াট, সোলার হোম সিস্টেম এবং মিনি গ্রিড থেকে ২৬০ মেগাওয়াট এবং সোলারের একটি গ্রিড সংযুক্ত প্রকল্প থেকে তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে। অর্থাৎ পরিকল্পনার প্রায় অর্ধেক বাস্তবায়ন হচ্ছে এখন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন অর্ধেক হলেও ক্রমান্বয়ে এই হার কমতে শুরু করবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন,অন্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন যে হারে বাড়ছে ঠিক একই হারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে না। ফলে ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির বদলে কমতে শুরু করবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই পরিস্থিতিতে পিডিবির প্রকল্প শুরু করতে না পারা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, পিডিবি এবং সরকারের কেউই এখনও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই তিনটি প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা জানায়নি। প্রকল্প তিনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে এখনও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনও পাওয়া যায়নি।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ফেনীর সোনাগাজীতে ১০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৩৪১ একর, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে ৬০ মেগাওয়াটের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ১৮৮ একর এবং রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৫৫ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২৫১ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে পিডিবি।

প্রতি মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুতের জন্য গড়ে ১১ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে ২১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ২ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

পিডিবির নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের পরিচালক নাজমুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তিনটি কেন্দ্রর জন্য জমি বরাদ্দ পেয়েছি। কবে নাগাদ এসব কেন্দ্রের বাস্তবায়ন শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেসব বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি জানান, এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পায়নি এখনও তারা। অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায় না।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, এখন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমে এসেছে। এখন সরকার নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১২ সেন্টের মধ্যে রাখতে চাইছে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে দেশের ভাড়ায়চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দাম কম পড়তো। দেশে এখন তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২১ টাকা দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনা হয়। সেখানে সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৯টা ৬০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।

সূত্রঃ  বাংলা ট্রিবিউন