ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অডিট কর্মকর্তা ইশরাত বরখাস্ত দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে পেটাল দিল্লি পুলিশ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ‘ভোট ব্যাংক’, এ কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার হয়েছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই: মান্না ২ মন্ত্রী আসার খবরে বদলে গেল হাসপাতালের পরিবেশ, অবাক রোগীরা বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি, ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে আবারো মেসিকে ফেরাতে চায় আর্জেন্টিনা

তবুও শত্রু তিস্তাকে বন্ধু মনে করেই বেঁচে আছি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮
  • ২৮৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকা। যেখানে মানুষকে প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। সেখানকার ১ নম্বর গোঘাট এলাকায় বসবাস করে ৭৫টি জেলে পরিবার। এক সময় ছিল তাদের সাজানো সংসার, ছিল জমি-জমাসহ বাপ-দাদার স্মৃতি। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা জেলে পল্লীর মানুষগুলো। এখন ঠাঁই নেওয়ার মত জায়গা নেই তাদের। বাঁচার তাগিদে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে অন্যের বাড়িতে আবার কেউবা সরকারি খাস জমিতে। সব মিলিয়ে চরম দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে এখানকার ৭৫টি জেলে পরিবারের অন্তত ৫ শতাধিক মানুষ।

সরেজমিনে, কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় তিস্তার পাড়ে গিয়ে দেখা হয় জেলে পল্লীর ভিটেমাটি হারা পঞ্চাশ বছরের লালমন দাসের সঙ্গে। নদীতে জাল ফেলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজে থেকেই বলতে শুরু করেন জীবনের চরম বাস্তবতার কথা।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার বাড়ি ছিল, জমি ছিল, ছিল সুন্দর একটি সাজানো সংসার। কিন্তু তিস্তার ভাঙনে এখন আর কিছুই নেই। বাঁচার জন্য আশ্রয় নিয়েছি অন্যের জায়গায়। তবুও শত্রু তিস্তাকে বন্ধু মনে করেই বেঁচে আছি। সকালে জাল নিয়ে বের হয়ে সারাদিন নদীতে মাছ ধরি আর সেই মাছ বিক্রি করেই সংসার চ‍ালাই। নদীই আমাদের পেট চালায়, নদী আছে বলেই অন্তত দু’বেলা-দু’মুঠো খেতে পারি। নদী না থাকলে না খেয়ে থাকা লাগত।

পাশের নৌকার রামকৃষ্ণ দাস (৪২) এগিয়ে এসে বলেন, আমার তিন বিঘা জমি ছিল, নদীতে মাছ ধরতাম আর জমিতে ধান-ভুট্টা চাষ করে ভালই চলত। তিস্তার ভয়াল স্রোত জমি-জামা, বাড়ি সবই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এখন সরকারি খাস জমিতে কোনমতো পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। নদীতে মাছ না ধরলে সংসার চলে না, ধার দেনা করে চলতে হয়। এখন নদীতে মাছের সংখ্যাও কম। তাই জালে মাছ ওঠে কম। খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

সূত্রঃ বাংলানিউজ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

তবুও শত্রু তিস্তাকে বন্ধু মনে করেই বেঁচে আছি

আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ মে ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকা। যেখানে মানুষকে প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। সেখানকার ১ নম্বর গোঘাট এলাকায় বসবাস করে ৭৫টি জেলে পরিবার। এক সময় ছিল তাদের সাজানো সংসার, ছিল জমি-জমাসহ বাপ-দাদার স্মৃতি। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা জেলে পল্লীর মানুষগুলো। এখন ঠাঁই নেওয়ার মত জায়গা নেই তাদের। বাঁচার তাগিদে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে অন্যের বাড়িতে আবার কেউবা সরকারি খাস জমিতে। সব মিলিয়ে চরম দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে এখানকার ৭৫টি জেলে পরিবারের অন্তত ৫ শতাধিক মানুষ।

সরেজমিনে, কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় তিস্তার পাড়ে গিয়ে দেখা হয় জেলে পল্লীর ভিটেমাটি হারা পঞ্চাশ বছরের লালমন দাসের সঙ্গে। নদীতে জাল ফেলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজে থেকেই বলতে শুরু করেন জীবনের চরম বাস্তবতার কথা।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার বাড়ি ছিল, জমি ছিল, ছিল সুন্দর একটি সাজানো সংসার। কিন্তু তিস্তার ভাঙনে এখন আর কিছুই নেই। বাঁচার জন্য আশ্রয় নিয়েছি অন্যের জায়গায়। তবুও শত্রু তিস্তাকে বন্ধু মনে করেই বেঁচে আছি। সকালে জাল নিয়ে বের হয়ে সারাদিন নদীতে মাছ ধরি আর সেই মাছ বিক্রি করেই সংসার চ‍ালাই। নদীই আমাদের পেট চালায়, নদী আছে বলেই অন্তত দু’বেলা-দু’মুঠো খেতে পারি। নদী না থাকলে না খেয়ে থাকা লাগত।

পাশের নৌকার রামকৃষ্ণ দাস (৪২) এগিয়ে এসে বলেন, আমার তিন বিঘা জমি ছিল, নদীতে মাছ ধরতাম আর জমিতে ধান-ভুট্টা চাষ করে ভালই চলত। তিস্তার ভয়াল স্রোত জমি-জামা, বাড়ি সবই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এখন সরকারি খাস জমিতে কোনমতো পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। নদীতে মাছ না ধরলে সংসার চলে না, ধার দেনা করে চলতে হয়। এখন নদীতে মাছের সংখ্যাও কম। তাই জালে মাছ ওঠে কম। খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

সূত্রঃ বাংলানিউজ