ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ভৈরবে উপজেলায় ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সেবার মান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮
  • ৪২৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের দিনের পর দিন অনুপস্থিতি ও রোগীদের প্রতি অবহেলার কারণে পৌর শহরে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের সংখ্যা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারও। ফলে মাত্র ১৩ দশমিক ৭ বর্গকিলোমিটারে ভৈরব শহরে প্রায় ৩৫টির মতো বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠেছে। তবে চিকিৎসা সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি জনগণের চিকিৎসা সেবার মান। এসব প্রতিষ্ঠানে গ্রামের সহজ সরল ও অসহায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসে অসাধু চিকিৎসকের অতিরিক্ত পরীক্ষ-নিরীক্ষার কবলে পড়ে গুণছেন বাড়তি টাকা। এতে অধিক পরিমাণে লাভবান হচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অসাধু মালিকরা। অন্যদিকে প্রতি মাসে কমিশনের নামে হাজার হাজার টাকা দালালী নিয়ে সুবিধা ভোগ করছে গ্রামের কয়েক’শ হাতুরে ডাক্তার ও ধাত্রীসহ এক শ্রেনির দালালরা।

এদিকে, সরকার জনগণের চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসক তৈরিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। যে অর্থ জনগণেরই। অথচ, কতিপয় অর্থ লোভী ডাক্তার ও মালিকদের কারণে প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষজন। ডাক্তারদের বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়লেও, বাড়ছে না চিকিৎসা সেবার মান। নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারি পাস করেই তাদের একমাত্র পেশা হিসেবে জনগণের চিকিৎসা সেবাকে বেছে নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা একেবারেই নগন্য। ফলে অসাধু ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালে চাকরিতে অবহেলা ও প্রাইভেট চেম্বারে স্বাচ্ছন্ধ্যবোধে চিকিৎসাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর অর্থ উপার্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কতিপয় ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা বলে এবং তাদের দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে সরকারি হাসপাতালের রোগীকে রেফার্ড করছেন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে। এভাবে তারা বছরের পর বছর সরকারি হাসপাতালে বহাল তবিয়তে চাকরি রক্ষা করেই অবাধে ২ থেকে ৩টি প্রতিষ্ঠানে নামে বেনামে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবার নামে বাণিজ্য। তারা এতগুলো প্রতিষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় কোনো স্থানেই সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেন না বলেও অভিযোগ রোগীদের।

তারপরেও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পেতে এসে প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও স্বজনরা। আর শহরের এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে রোগী পাঠাতে যোগাসাজশ রয়েছে গ্রামের হাতুরে ডাক্তার ও ধাত্রীসহ এক শ্রেনির দালালদের। এ যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া। তাছাড়া কোনো কোনো দালালরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেন কার কি? রোগ হয়েছে! শুধু তাই নয়, প্রসূতী মায়েদের প্রতি বিশেষ নজর দেন তারা। পরে উন্নত চিকিৎসার নামে কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে শহরের হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে চুক্তি করে রোগী সরবরাহ করে দালালরা। আর বিনিময়ে প্রতিটি সিজারে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কমিশনের নামে দালালী পায় তারা। ফলে মাসে দু’টি মাত্র প্রসূতি মায়ের সিজার অপারেশন করাতে পারলেই দালালরা এক মাস বসে খেতে পারে। এছাড়াও অন্যসব ধরণের টেস্টের মোট বিল থেকেও শতকরা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন পায় তারা। আর কমিশন দিতে গিয়ে নানা অজুহাত ও খাত দেখিয়ে অসহায় রোগী ও স্বজনদের জীম্মি করে বাড়তি টাকা আদায় করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞজনদের দাবী, শহরে যে হারে হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে বা বেড়েছেই চলছে, তাতে- জনগণের চিকিৎসা সেবার মানের দিকটায় অভাব থাকার কথা নয়। অথচ, অসাধু ডাক্তার ও প্রকৃত পক্ষে ডাক্তার নন, এমন মালিক হওয়ার কারণে দিন দিন সেবার মান কমে যাচ্ছে। এর আরও একটি বড় কারণ হলো-প্রশিক্ষিত ও ডিপ্লোমাধারী নার্স না নিয়োগ দিয়ে, বিনা বেতনে অথবা নামমাত্র বেতনে ৮ম শ্রেনি পাস ও অদক্ষ নার্স নিয়োগ। ফলে একদিকে আয়া ও নার্সদের সেবা প্রদানের চেয়ে দূর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা। অন্যদিকে এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর কোনো না কোনোটিতে প্রতি মাসেই ডাক্তাদের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় নবজাতকসহ প্রসূতি মায়ের মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। পরে এসব বিষয় দামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলকে প্রায়ই ম্যানেজ করনে তারা। এছাড়াও এসব ঘটনা এড়াতে কিছু কিছু হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর চতুর ও কৌশলী মালিকরা তাদের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে গুনা কয়েকজনকে সম্পৃক্ত করে রেখেছেন। এরপরও মাঝে মধ্যে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো ভাঙ্চুরের ঘটনা ঘটেছে।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানাগেছে, শহরের এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকের অসাধু ডাক্তার ও মালিকরা গ্রামের সহজ সরল রোগীদের অহেতুক টেস্টের নামে অতিরিক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার দিয়ে বছরের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও শহরে গড়ে ওঠা এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট একটির সাথে আরেকটির বিরাট ফারাক রয়েছে। প্রায়ই এসব রিপোর্ট নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েন। রোগীদের অভিযোগ, আধুনকি যুগে সেকালে বা পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষার কারণে এই বিভ্রান্তিতে পড়েন তারা। আর এই কারণে টেস্টের কথা শুনলেই রোগীদের মনে অশান্তি কাজ করে। অন্যদিকে দিনের পর দিন টেস্ট বাণিজ্য করে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে। সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

এসব প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তাররা যদি যথা সময়ে উপস্থিত না হন এবং সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সেবা না দিয়ে যদি প্রাইভেট চেম্বারে রেফার্ড করেন, তদন্ত সাপেক্ষ অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে প্রশিক্ষিত ডিপ্লোমাধারী নার্সদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তারপরও যে সকল প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগ না দিয়ে অদক্ষ নার্স নিয়োগসহ কোন অনিয়ম থাকলে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক ঐসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

শিক্ষামন্ত্রীর নতুন পিএস বিচারক জি এম ফারহান ইসতিয়াক

ভৈরবে উপজেলায় ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সেবার মান

আপডেট টাইম : ১০:০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের দিনের পর দিন অনুপস্থিতি ও রোগীদের প্রতি অবহেলার কারণে পৌর শহরে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের সংখ্যা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারও। ফলে মাত্র ১৩ দশমিক ৭ বর্গকিলোমিটারে ভৈরব শহরে প্রায় ৩৫টির মতো বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠেছে। তবে চিকিৎসা সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি জনগণের চিকিৎসা সেবার মান। এসব প্রতিষ্ঠানে গ্রামের সহজ সরল ও অসহায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসে অসাধু চিকিৎসকের অতিরিক্ত পরীক্ষ-নিরীক্ষার কবলে পড়ে গুণছেন বাড়তি টাকা। এতে অধিক পরিমাণে লাভবান হচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অসাধু মালিকরা। অন্যদিকে প্রতি মাসে কমিশনের নামে হাজার হাজার টাকা দালালী নিয়ে সুবিধা ভোগ করছে গ্রামের কয়েক’শ হাতুরে ডাক্তার ও ধাত্রীসহ এক শ্রেনির দালালরা।

এদিকে, সরকার জনগণের চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসক তৈরিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। যে অর্থ জনগণেরই। অথচ, কতিপয় অর্থ লোভী ডাক্তার ও মালিকদের কারণে প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষজন। ডাক্তারদের বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়লেও, বাড়ছে না চিকিৎসা সেবার মান। নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারি পাস করেই তাদের একমাত্র পেশা হিসেবে জনগণের চিকিৎসা সেবাকে বেছে নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা একেবারেই নগন্য। ফলে অসাধু ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালে চাকরিতে অবহেলা ও প্রাইভেট চেম্বারে স্বাচ্ছন্ধ্যবোধে চিকিৎসাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর অর্থ উপার্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কতিপয় ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা বলে এবং তাদের দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে সরকারি হাসপাতালের রোগীকে রেফার্ড করছেন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে। এভাবে তারা বছরের পর বছর সরকারি হাসপাতালে বহাল তবিয়তে চাকরি রক্ষা করেই অবাধে ২ থেকে ৩টি প্রতিষ্ঠানে নামে বেনামে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবার নামে বাণিজ্য। তারা এতগুলো প্রতিষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় কোনো স্থানেই সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেন না বলেও অভিযোগ রোগীদের।

তারপরেও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পেতে এসে প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও স্বজনরা। আর শহরের এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে রোগী পাঠাতে যোগাসাজশ রয়েছে গ্রামের হাতুরে ডাক্তার ও ধাত্রীসহ এক শ্রেনির দালালদের। এ যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া। তাছাড়া কোনো কোনো দালালরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেন কার কি? রোগ হয়েছে! শুধু তাই নয়, প্রসূতী মায়েদের প্রতি বিশেষ নজর দেন তারা। পরে উন্নত চিকিৎসার নামে কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে শহরের হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে চুক্তি করে রোগী সরবরাহ করে দালালরা। আর বিনিময়ে প্রতিটি সিজারে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কমিশনের নামে দালালী পায় তারা। ফলে মাসে দু’টি মাত্র প্রসূতি মায়ের সিজার অপারেশন করাতে পারলেই দালালরা এক মাস বসে খেতে পারে। এছাড়াও অন্যসব ধরণের টেস্টের মোট বিল থেকেও শতকরা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন পায় তারা। আর কমিশন দিতে গিয়ে নানা অজুহাত ও খাত দেখিয়ে অসহায় রোগী ও স্বজনদের জীম্মি করে বাড়তি টাকা আদায় করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞজনদের দাবী, শহরে যে হারে হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে বা বেড়েছেই চলছে, তাতে- জনগণের চিকিৎসা সেবার মানের দিকটায় অভাব থাকার কথা নয়। অথচ, অসাধু ডাক্তার ও প্রকৃত পক্ষে ডাক্তার নন, এমন মালিক হওয়ার কারণে দিন দিন সেবার মান কমে যাচ্ছে। এর আরও একটি বড় কারণ হলো-প্রশিক্ষিত ও ডিপ্লোমাধারী নার্স না নিয়োগ দিয়ে, বিনা বেতনে অথবা নামমাত্র বেতনে ৮ম শ্রেনি পাস ও অদক্ষ নার্স নিয়োগ। ফলে একদিকে আয়া ও নার্সদের সেবা প্রদানের চেয়ে দূর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা। অন্যদিকে এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর কোনো না কোনোটিতে প্রতি মাসেই ডাক্তাদের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় নবজাতকসহ প্রসূতি মায়ের মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। পরে এসব বিষয় দামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলকে প্রায়ই ম্যানেজ করনে তারা। এছাড়াও এসব ঘটনা এড়াতে কিছু কিছু হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর চতুর ও কৌশলী মালিকরা তাদের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে গুনা কয়েকজনকে সম্পৃক্ত করে রেখেছেন। এরপরও মাঝে মধ্যে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো ভাঙ্চুরের ঘটনা ঘটেছে।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানাগেছে, শহরের এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকের অসাধু ডাক্তার ও মালিকরা গ্রামের সহজ সরল রোগীদের অহেতুক টেস্টের নামে অতিরিক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার দিয়ে বছরের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও শহরে গড়ে ওঠা এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট একটির সাথে আরেকটির বিরাট ফারাক রয়েছে। প্রায়ই এসব রিপোর্ট নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েন। রোগীদের অভিযোগ, আধুনকি যুগে সেকালে বা পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষার কারণে এই বিভ্রান্তিতে পড়েন তারা। আর এই কারণে টেস্টের কথা শুনলেই রোগীদের মনে অশান্তি কাজ করে। অন্যদিকে দিনের পর দিন টেস্ট বাণিজ্য করে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছে। সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

এসব প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তাররা যদি যথা সময়ে উপস্থিত না হন এবং সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সেবা না দিয়ে যদি প্রাইভেট চেম্বারে রেফার্ড করেন, তদন্ত সাপেক্ষ অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে প্রশিক্ষিত ডিপ্লোমাধারী নার্সদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তারপরও যে সকল প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগ না দিয়ে অদক্ষ নার্স নিয়োগসহ কোন অনিয়ম থাকলে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক ঐসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।