ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোরো আবাদের শুকনো মৌসুমে সেচ সংকটে দেখা দিয়েছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মার্চ ২০১৮
  • ৪৫৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঝালকাঠিতে বোরো আবাদের এই শুকনো মৌসুমে সেচ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কৃষকরা সেচের পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না এই সময়ে। তাই ধান রোপণের আগে চারা সবুজ থাকলেও পানির অভাবে এখন তা প্রায়ই শুকিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন খাল ভরাট হয়ে যাবার কারণে খালে পানি না থাকায় এ সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও বিগত ৯ বছরে বিএডিসি সেচ কর্তৃপক্ষ ৯৭ কিলোমিটার খাল খননের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। এদিকে খাল খনন না করায় কৃষকদের অভিযোগ, খাল খননের নামে এ টাকা গেল কোথায় তা খতিয়ে দেখা দরকার।

ঝালকাঠি জেলার অধিকাংশ খাল ভরাট থাকায় বোরো আবাদের এই মৌসুমে পানি না পাওয়ায় সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। খালে পানি না থাকায় মেশিন দিয়েও পানি উঠানো যাচ্ছে না। ঝালকাঠি ও নলছিটির অধিকাংশ এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। পার্শ্ববর্তী ডোবা নালা থেকে হাতে সেচ দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছে কৃষকরা। বিএডিসির আওতায় ১৬ টি সেচ নালার কাজ সমাপ্ত হলেও বিদ্যুতের অভাবে এখন পর্যন্ত চালু করা যায়নি। এছাড়া ব্লকের কিছু পাম্প বসানোর পর অকেজো হয়ে পরে থাকায় সেচের অভাবে বোরো আবাদ করতে পারছে না কৃষকরা।

ঝালকাঠি বিএডিসি সেচ বিভাগ সূত্রে জানাযায়, বিগত ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৭২ টি সেচ নালা নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে চালু আছে ৫৬ টি। বাকি ১৬ টি নালা বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। ৪৬ হাজার মিটার সেচ নালার মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৮ হাজার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঝালকাঠি বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম, জানান, ঝালকাঠির ভরাট খালগুলো সেচ কমিটির মাধ্যমে তালিকা করে খনন করা হবে। এছাড়া ২০ টি স্কিমে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি। পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ পেলে সেগুলো চালু হবে ও কৃষক সেচ সুবিধা পাবে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার বোরো আবাদ বেশি হচ্ছে। লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে চাষাবাদ বেশি হয়েছে ১হাজার ২শ ৩৬ হেক্টর জমিতে। কৃষকদেরকে সেচ ও সুষম সার প্রয়োগের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রায় শতাধিক ভরাট খালের তালিকা প্রতি বছর বিএডিসি সেচ বিভাগে ও এলজিইডিতে প্রদান করা হয়। এগুলো সেচের আওতায় এনে সেচ দেয়া সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বোরো আবাদের শুকনো মৌসুমে সেচ সংকটে দেখা দিয়েছে

আপডেট টাইম : ০৩:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মার্চ ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঝালকাঠিতে বোরো আবাদের এই শুকনো মৌসুমে সেচ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কৃষকরা সেচের পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না এই সময়ে। তাই ধান রোপণের আগে চারা সবুজ থাকলেও পানির অভাবে এখন তা প্রায়ই শুকিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন খাল ভরাট হয়ে যাবার কারণে খালে পানি না থাকায় এ সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও বিগত ৯ বছরে বিএডিসি সেচ কর্তৃপক্ষ ৯৭ কিলোমিটার খাল খননের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। এদিকে খাল খনন না করায় কৃষকদের অভিযোগ, খাল খননের নামে এ টাকা গেল কোথায় তা খতিয়ে দেখা দরকার।

ঝালকাঠি জেলার অধিকাংশ খাল ভরাট থাকায় বোরো আবাদের এই মৌসুমে পানি না পাওয়ায় সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। খালে পানি না থাকায় মেশিন দিয়েও পানি উঠানো যাচ্ছে না। ঝালকাঠি ও নলছিটির অধিকাংশ এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। পার্শ্ববর্তী ডোবা নালা থেকে হাতে সেচ দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছে কৃষকরা। বিএডিসির আওতায় ১৬ টি সেচ নালার কাজ সমাপ্ত হলেও বিদ্যুতের অভাবে এখন পর্যন্ত চালু করা যায়নি। এছাড়া ব্লকের কিছু পাম্প বসানোর পর অকেজো হয়ে পরে থাকায় সেচের অভাবে বোরো আবাদ করতে পারছে না কৃষকরা।

ঝালকাঠি বিএডিসি সেচ বিভাগ সূত্রে জানাযায়, বিগত ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৭২ টি সেচ নালা নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে চালু আছে ৫৬ টি। বাকি ১৬ টি নালা বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। ৪৬ হাজার মিটার সেচ নালার মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৮ হাজার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঝালকাঠি বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম, জানান, ঝালকাঠির ভরাট খালগুলো সেচ কমিটির মাধ্যমে তালিকা করে খনন করা হবে। এছাড়া ২০ টি স্কিমে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি। পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ পেলে সেগুলো চালু হবে ও কৃষক সেচ সুবিধা পাবে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এবার বোরো আবাদ বেশি হচ্ছে। লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে চাষাবাদ বেশি হয়েছে ১হাজার ২শ ৩৬ হেক্টর জমিতে। কৃষকদেরকে সেচ ও সুষম সার প্রয়োগের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রায় শতাধিক ভরাট খালের তালিকা প্রতি বছর বিএডিসি সেচ বিভাগে ও এলজিইডিতে প্রদান করা হয়। এগুলো সেচের আওতায় এনে সেচ দেয়া সম্ভব হবে।