ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করে: রাষ্ট্রপতি ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩৪৫০২ কোটি টাকা স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি : সংস্কৃতি মন্ত্রী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের সৎ মায়ের নির্যাতন, মা’র কবরের পাশে শিশুর কান্না ভাইরাল নতুন সিদ্ধান্ত, ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রায় ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী ৭ দিনের অভিযান আসাদগেট-শ্যামলীতে সব ক্লিনিক পরিদর্শন, অনিয়মে ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আজানের ধ্বনিতে শয়তান বিতাড়িত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:১২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মার্চ ২০১৮
  • ৩৮০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আজান ইসলামে চমৎকার একটি বিধান। আল্লাহ পাকের মহিমান্বিত নাম উচ্চারণ করে এর মাধ্যমে মুসলিম বান্দাদের আল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ বিধান তথা নামাজের কথা স্মরণ করে দেওয়া হয়। আজানের সুমধুর ধ্বনিতে মোমিন বান্দারা নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকেন। এটি ইসলামের একটি অন্যতম প্রতীক।আজানের আভিধানিক অর্থ: জানানো বা ঘোষণা দেওয়া। পরে এটিকে নামাজের ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এজন্য যখন আজান শব্দ ব্যবহার হয়, তখন এর দ্বারা সাধারণভাবে নামাজের ঘোষণাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআনেও আজান শব্দটি ঘোষণার অর্থেই ব্যবহত হয়েছে। যেমন ‘ওয়া আজা-নুম মিনাল্লা-হি ওয়া রাসুলুহী’ তথা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে ঘোষণা।’ (সূরা তওবা : ৩)। বিধৃত আয়াতে আজান শব্দটি ঘোষণা অর্থে ব্যবহত হয়েছে।

পারিভাষিক অর্থ : শরিয়তের পরিভাষায় আজান বলা হয়, বিশেষ শব্দ দ্বারা নির্ধারিত পদ্বতিতে নামাজের সময় প্রবিষ্টের সংবাদ দেওয়া। আজানের প্রমাণ : আজানের বিধান কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে আজানের পূর্ণাঙ্গ শব্দের বিবরণ আল্লাহ পাকের কালামে নেই। এর বিস্তারিত বর্ণনা হাদিস শরিফে বিধৃত হয়েছে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তোমরা নামাজের দিকে আহ্বান কর, তখন তারা এটিকে ঠাট্টা-বিদ্রপ ও খেলাধুলায় পরিণত করে। কারণ তারা নির্বোধ।’ (সূরা মায়েদা : ৫৮)। উপর্যুক্ত আয়াতের বাখ্যায় মুফাসসিররা দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন, এখানে ‘আহ্বান’ দ্বারা আজান উদ্দেশ্য। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিনে যখন নামাজের আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ কর।’ (সূরা জুমা : ৯)।ওই আয়াতে নামাজের জন্য আহ্বানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, শরয়ি পদ্ধতিতে আজান দেওয়া। এছাড়া হাদিস শরিফে বিধৃত হয়েছে, আনাস (রা.) বলেন, ‘যখন নামাজ ফরজ হলো, তখন জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.) কে আজানের নির্দেশ দেন।’ (ফাতহুল বারি)

আজানের সূচনাকাল : আজানের প্রথা কবে থেকে শুরু, এ ব্যাপারে কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়। কিছু মুহাদ্দিস ও ফুকাহায়ে কেরামের মতে, আজানের বিধানের সূচনা ঘটে হিজরতের আগে মক্কায়। উপরে বর্ণিত আনাস (রা.) এর হাদিস দ্বারা এ উক্তির পক্ষে সমর্থন মেলে। কেননা এতে বর্ণিত হয়েছে, যখন নামাজ ফরজ হয়, সে সময় আজানের নির্দেশ আসে। আর এজন্য মক্কায় নামাজ ফরজ হওয়ার ব্যাপারে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। পক্ষান্তরে কিছু ওলামায়ে কেরাম বলেন, হিজরতের পর প্রথম হিজরিতে আজানের হুকুম আসে। আবার অনেকে বলেন, দ্বিতীয় হিজরিতে যে সময় কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশ আসে, ঠিক তখনই আজানের পদ্ধতি চালু হয়। আজানের ইতিহাস : হিজরতের পর ধীরে ধীরে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটে। ফলে সবাইকেই নামাজের সময় একত্রিত করার নতুন একটি পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব ঘটে। এ লক্ষ্যে মসজিদে নববিতে পরামর্শ সভা ডাকা হয়। এতে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেন, নামাজের জন্য লোকদের কাছে সংবাদ পৌঁছার জন্য একটি উপায় উদ্ভাবন করা হোক। ফলে কেউ কেউ প্রস্তাব দিলেন, ইহুদিদের মতো নামাজের সময় ঘণ্টা বাজানো হোক। আবার অনেকে পরামর্শ দিলেন আগুন জালানোর। আবার অনেকের থেকে শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার প্রস্তাব আসে। কিন্তু রাসুল (সা.) এগুলোর কোনো একটিকে গ্রহণ করলেন না।

ফলে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই পরামর্শ সভা মুলতবি হয়ে যায়। এর পর আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) স্বপ্ন দেখলেন। সে স্বপ্নে একজন ব্যক্তি তাকে আজানের শব্দগুলো শিক্ষা দেন। প্রভাতে আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) এটি রাসুল (সা.) কে অবগত করেন। এ সময় ওমর (রা.) বলেন, ইয়া রাসুল্লাহ (সা.), এরূপ স্বপ্ন আমিও দেখেছি। এরপর রাসুল (সা.) ইজতেহাদের ভিত্তিতে এটিকে গ্রহণ করে বললেন, এ ঘটনা সত্য। ফলে বেলাল (রা.) কে এ পদ্ধতিতে আজান দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) স্বপ্নে একজন ব্যক্তিকে একধরনের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অতিবাহিত হতে দেখলেন। এটি প্রত্যক্ষ করে তিনি ব্যক্তিটিকে বললেন, এ বাদ্যযন্ত্র আপনি আমাকে দিয়ে দিন। তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, এটি কী করবেন? তিনি বললেন, নামাজের সময় এগুলো বাজিয়ে মানুষদের একত্রিত করব। তিনি বললেন, আমি কি এর চেয়ে উত্তম পন্থা আপনাকে শিখিয়ে দেব? তিনি বললেন, অবশ্যই। তখন সে আজানের বাক্যগুলো তাকে শিখিয়ে দেন।

এ আজান আল্লাহ পাকের জিকিরের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিকির। এতে তাওহিদ ও রিসালতের সাক্ষ্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে। এর দ্বারা ইসলামের প্রভাব এবং শক্তি প্রকাশ পায়। ইসলামে আজানের গুরুত্ব ও মহত্ত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে আজান ও একামতের মাঝের সময়টুকু অত্যন্ত মূল্যবান। এ সময় দোয়া করলে সাধারণত দোয়া কবুল হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও একামতের মধ্যকার দোয়া (আল্লাহর দরবার থেকে) ফেরত দেওয়া হয় না।’ (তিরমিজি :১/৫১)।এছাড়া আজানে এমন শক্তি নিহিত রয়েছে, এর ধ্বনিতে শয়তান বিতাড়িত হয়ে থাকে। জাবের (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, শয়তান যখন নামাজের আজান শ্রবণ করে, তখন সে পলায়ন করতে থাকে, যে পর্যন্ত না ‘রাওহা’ পৌঁছে।’ অর্থাৎ অনেক দূরে চলে যায়। (মুসলিম : ১/১৬৭)।

শরিয়তে মুয়াজ্জিনদের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। অথচ আমরা অজস্র মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে বেতন স্বল্পের অজুহাতে এ মহান দায়িত্ব নিতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করে থাকি। আবার অনেকেই এ পেশাকে তুচ্ছ করে দেখি। অথচ সাহাবিদের যুগে আজানের সুযোগ গ্রহণের জন্য মানুষের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হতো। প্রত্যেকের কাম্য ছিল, এ বরকতময় পদ যেন আমি পাই। এমনকি অনেক সময় লটারির মাধ্যমে মুয়াজ্জিন নির্ধারণ করা হতো। (তারিখে বোখারি)। এ দায়িত্ব নিতে এত বেশি আগ্রহী হওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, কেয়ামত দিবসে মুয়াজ্জিনরা অধিক সম্মানিত হবেন। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বিধৃত হয়েছে, মুযাবিয়া (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিনে মুয়াজ্জিনরা সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ঘাড়বিশিষ্ট হবেন।’ অর্থাৎ তারা অধিক মর্যাদাশীল হবেন। (মুসলিম : ১/১৬৭)। অপর এক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়তে সাত বছর আজান দেবে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি নির্ধারিত।’ (তিরমিজি : ১/৫১)।

লেখক : মুফতি, দেওপুরা সমনগর আনওয়ারুল উলুম মাদ্রাসা, পোরশা নওগাঁ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর

আজানের ধ্বনিতে শয়তান বিতাড়িত

আপডেট টাইম : ০৩:১২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মার্চ ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আজান ইসলামে চমৎকার একটি বিধান। আল্লাহ পাকের মহিমান্বিত নাম উচ্চারণ করে এর মাধ্যমে মুসলিম বান্দাদের আল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ বিধান তথা নামাজের কথা স্মরণ করে দেওয়া হয়। আজানের সুমধুর ধ্বনিতে মোমিন বান্দারা নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকেন। এটি ইসলামের একটি অন্যতম প্রতীক।আজানের আভিধানিক অর্থ: জানানো বা ঘোষণা দেওয়া। পরে এটিকে নামাজের ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এজন্য যখন আজান শব্দ ব্যবহার হয়, তখন এর দ্বারা সাধারণভাবে নামাজের ঘোষণাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআনেও আজান শব্দটি ঘোষণার অর্থেই ব্যবহত হয়েছে। যেমন ‘ওয়া আজা-নুম মিনাল্লা-হি ওয়া রাসুলুহী’ তথা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে ঘোষণা।’ (সূরা তওবা : ৩)। বিধৃত আয়াতে আজান শব্দটি ঘোষণা অর্থে ব্যবহত হয়েছে।

পারিভাষিক অর্থ : শরিয়তের পরিভাষায় আজান বলা হয়, বিশেষ শব্দ দ্বারা নির্ধারিত পদ্বতিতে নামাজের সময় প্রবিষ্টের সংবাদ দেওয়া। আজানের প্রমাণ : আজানের বিধান কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে আজানের পূর্ণাঙ্গ শব্দের বিবরণ আল্লাহ পাকের কালামে নেই। এর বিস্তারিত বর্ণনা হাদিস শরিফে বিধৃত হয়েছে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তোমরা নামাজের দিকে আহ্বান কর, তখন তারা এটিকে ঠাট্টা-বিদ্রপ ও খেলাধুলায় পরিণত করে। কারণ তারা নির্বোধ।’ (সূরা মায়েদা : ৫৮)। উপর্যুক্ত আয়াতের বাখ্যায় মুফাসসিররা দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন, এখানে ‘আহ্বান’ দ্বারা আজান উদ্দেশ্য। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিনে যখন নামাজের আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ কর।’ (সূরা জুমা : ৯)।ওই আয়াতে নামাজের জন্য আহ্বানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, শরয়ি পদ্ধতিতে আজান দেওয়া। এছাড়া হাদিস শরিফে বিধৃত হয়েছে, আনাস (রা.) বলেন, ‘যখন নামাজ ফরজ হলো, তখন জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.) কে আজানের নির্দেশ দেন।’ (ফাতহুল বারি)

আজানের সূচনাকাল : আজানের প্রথা কবে থেকে শুরু, এ ব্যাপারে কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়। কিছু মুহাদ্দিস ও ফুকাহায়ে কেরামের মতে, আজানের বিধানের সূচনা ঘটে হিজরতের আগে মক্কায়। উপরে বর্ণিত আনাস (রা.) এর হাদিস দ্বারা এ উক্তির পক্ষে সমর্থন মেলে। কেননা এতে বর্ণিত হয়েছে, যখন নামাজ ফরজ হয়, সে সময় আজানের নির্দেশ আসে। আর এজন্য মক্কায় নামাজ ফরজ হওয়ার ব্যাপারে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। পক্ষান্তরে কিছু ওলামায়ে কেরাম বলেন, হিজরতের পর প্রথম হিজরিতে আজানের হুকুম আসে। আবার অনেকে বলেন, দ্বিতীয় হিজরিতে যে সময় কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশ আসে, ঠিক তখনই আজানের পদ্ধতি চালু হয়। আজানের ইতিহাস : হিজরতের পর ধীরে ধীরে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটে। ফলে সবাইকেই নামাজের সময় একত্রিত করার নতুন একটি পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব ঘটে। এ লক্ষ্যে মসজিদে নববিতে পরামর্শ সভা ডাকা হয়। এতে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেন, নামাজের জন্য লোকদের কাছে সংবাদ পৌঁছার জন্য একটি উপায় উদ্ভাবন করা হোক। ফলে কেউ কেউ প্রস্তাব দিলেন, ইহুদিদের মতো নামাজের সময় ঘণ্টা বাজানো হোক। আবার অনেকে পরামর্শ দিলেন আগুন জালানোর। আবার অনেকের থেকে শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার প্রস্তাব আসে। কিন্তু রাসুল (সা.) এগুলোর কোনো একটিকে গ্রহণ করলেন না।

ফলে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই পরামর্শ সভা মুলতবি হয়ে যায়। এর পর আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) স্বপ্ন দেখলেন। সে স্বপ্নে একজন ব্যক্তি তাকে আজানের শব্দগুলো শিক্ষা দেন। প্রভাতে আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) এটি রাসুল (সা.) কে অবগত করেন। এ সময় ওমর (রা.) বলেন, ইয়া রাসুল্লাহ (সা.), এরূপ স্বপ্ন আমিও দেখেছি। এরপর রাসুল (সা.) ইজতেহাদের ভিত্তিতে এটিকে গ্রহণ করে বললেন, এ ঘটনা সত্য। ফলে বেলাল (রা.) কে এ পদ্ধতিতে আজান দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) স্বপ্নে একজন ব্যক্তিকে একধরনের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অতিবাহিত হতে দেখলেন। এটি প্রত্যক্ষ করে তিনি ব্যক্তিটিকে বললেন, এ বাদ্যযন্ত্র আপনি আমাকে দিয়ে দিন। তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, এটি কী করবেন? তিনি বললেন, নামাজের সময় এগুলো বাজিয়ে মানুষদের একত্রিত করব। তিনি বললেন, আমি কি এর চেয়ে উত্তম পন্থা আপনাকে শিখিয়ে দেব? তিনি বললেন, অবশ্যই। তখন সে আজানের বাক্যগুলো তাকে শিখিয়ে দেন।

এ আজান আল্লাহ পাকের জিকিরের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিকির। এতে তাওহিদ ও রিসালতের সাক্ষ্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে। এর দ্বারা ইসলামের প্রভাব এবং শক্তি প্রকাশ পায়। ইসলামে আজানের গুরুত্ব ও মহত্ত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে আজান ও একামতের মাঝের সময়টুকু অত্যন্ত মূল্যবান। এ সময় দোয়া করলে সাধারণত দোয়া কবুল হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও একামতের মধ্যকার দোয়া (আল্লাহর দরবার থেকে) ফেরত দেওয়া হয় না।’ (তিরমিজি :১/৫১)।এছাড়া আজানে এমন শক্তি নিহিত রয়েছে, এর ধ্বনিতে শয়তান বিতাড়িত হয়ে থাকে। জাবের (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, শয়তান যখন নামাজের আজান শ্রবণ করে, তখন সে পলায়ন করতে থাকে, যে পর্যন্ত না ‘রাওহা’ পৌঁছে।’ অর্থাৎ অনেক দূরে চলে যায়। (মুসলিম : ১/১৬৭)।

শরিয়তে মুয়াজ্জিনদের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। অথচ আমরা অজস্র মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে বেতন স্বল্পের অজুহাতে এ মহান দায়িত্ব নিতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করে থাকি। আবার অনেকেই এ পেশাকে তুচ্ছ করে দেখি। অথচ সাহাবিদের যুগে আজানের সুযোগ গ্রহণের জন্য মানুষের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হতো। প্রত্যেকের কাম্য ছিল, এ বরকতময় পদ যেন আমি পাই। এমনকি অনেক সময় লটারির মাধ্যমে মুয়াজ্জিন নির্ধারণ করা হতো। (তারিখে বোখারি)। এ দায়িত্ব নিতে এত বেশি আগ্রহী হওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, কেয়ামত দিবসে মুয়াজ্জিনরা অধিক সম্মানিত হবেন। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বিধৃত হয়েছে, মুযাবিয়া (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিনে মুয়াজ্জিনরা সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ঘাড়বিশিষ্ট হবেন।’ অর্থাৎ তারা অধিক মর্যাদাশীল হবেন। (মুসলিম : ১/১৬৭)। অপর এক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়তে সাত বছর আজান দেবে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি নির্ধারিত।’ (তিরমিজি : ১/৫১)।

লেখক : মুফতি, দেওপুরা সমনগর আনওয়ারুল উলুম মাদ্রাসা, পোরশা নওগাঁ