ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অডিট কর্মকর্তা ইশরাত বরখাস্ত দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে পেটাল দিল্লি পুলিশ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ‘ভোট ব্যাংক’, এ কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার হয়েছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই: মান্না ২ মন্ত্রী আসার খবরে বদলে গেল হাসপাতালের পরিবেশ, অবাক রোগীরা বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি, ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে আবারো মেসিকে ফেরাতে চায় আর্জেন্টিনা ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’, আলোচিত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বদলি

হুমকিতে জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্যভাণ্ডার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ৩১৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের পর প্রায় এক যুগ অতিবাহিত হলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমকিতে পড়েছে জাতীয় তথ্যভাণ্ডার। যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংরক্ষণ সার্ভার। বিঘ্নিত হতে পারে এনআইডি সেবা। এসব শঙ্কা প্রকাশ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দ্রুত বরাদ্দ চেয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এক পত্রে ইসিকে জানান, এক্সডাটা মেশিনের কোনো পার্টস বর্তমানে মজুদ নেই। ফলে এক্সডাটা সিস্টেমের কোনো হার্ডওয়ার বিকল হয়ে গেলে দেশব্যাপী এনআইডি সংক্রান্ত সব সার্ভিস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া যে ৮২ প্রতিষ্ঠান এনআইডি যাচাই সেবা গ্রহণ করছে তা প্রদান করা সম্ভব হবে না; স্মার্টকার্ড পার্সোনালাইজেশন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

গত ১৪ জানুয়ারি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ইসিতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে অবস্থিত ইসির ওরাকল এক্সডাটা সিস্টেমে স্টোরেজের স্পেস সম্পূর্ণ ব্যবহৃত হওয়ায় বর্তমানে কোনো নতুন ডাটা সংযোজন করা যাচ্ছে না। এমনকি পুরনো ডাটার কোনোরূপ আপডেট কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অবস্থিত ইসির ওরাকল এক্সডাটা মেশিনেই এনআইডি সিস্টেমের সব কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবহৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অবস্থিত এক্সডাটা মেশিনের ৮ ডাটাবেজ সার্ভারের মধ্যে ৩টিতে ক্রিটিক্যাল ওয়ার্নিং দিচ্ছে। এ ছাড়া ১৪টি স্টোরেজ সার্ভারের ৫৬টি ফ্লাস ড্রাইভের মধ্যে ৯টি ফ্লাস ড্রাইভ বিকল হয়ে গেছে। ফলে ডাটাবেজের পারফরমেন্স উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ১ জানুয়ারি হটাৎ করেই স্টোরেজের সার্ভার স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডাটাবেজের সব ভোটারসংবলিত ডাটা ফাইল করাপ্টেড হয়ে যায়। পরে ১২ ঘণ্টা পর ব্যাকআপ ডাটাবেজ হতে সব ডাটা পুনরুদ্ধার করে আবার মূল সার্ভার চালু করা হয়।

চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, ডিস ও ডিআরএস উভয় অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (এএফআইএস) সাপোর্ট সার্ভিস মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ডিসি এর জন্য কেনা এএফআইএস ১০০ মিলিয়ন ভোটারের জন্য লাইসেন্স নেওয়া আছে। কিন্তু বর্তমানে ডাটবেজের সাইজ ১০৪ মিলিয়নের ওপরে। বর্তমান এএফআইএস শুধু ভোটারের চার আঙুলের ছাপ নিয়ে কাজ করে। ফলে সর্বশেষ সংগ্রহ করা ১০ আঙুলের ছাপ ও আইরিশ ম্যাচিং এই এএফআইএস দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিসি এর সব এএফআইএস সার্ভিস ইতোমধ্যে ইওএস (অ্যান্ড অব সার্ভিস) এ আছে, যে কোনো সময় সার্ভার ডাউন হয়ে যেতে পারে। ফলে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করে দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

এএফআইএস সার্ভার বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবারের হালনাগাদ ভোটারের বায়োমেট্রিক ম্যাচিংয়ের রেজান্ট সঠিকভাবে যথাসময়ে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। ফলে খসড়া তালিকায় বিভিন্ন ভুল পরিলক্ষিত হয়। এ ছাড়া যেহেতু বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী সিম রেজিস্টেশন চলে। তাই এএফআইএস সার্ভার বন্ধ থাকলে টেলিকম অপারেটরদের সিম বিক্রি বন্ধ থাকে। এ সার্ভারগুলো ২০১০ সালে কেনা হয়েছে, বর্তমানে এর ব্যবহার অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানায় এনআইডি উইং। এসব সমস্যা সমাধানে আগামী তিন মাসের জন্য ১৩৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইসি কর্মকর্তা জানান, মাঝেমধ্যেই সার্ভারে কাজ করে না। হ্যাং হয়ে যায়। তাই সেবাগ্রহীতাদের বাধ্য হয়েই ফেরত দিতে হয়। সার্ভারের এমন ঝুঁকির মধ্যে আবার এনআইডি সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে চাকরি নিয়ে বিরাজ করছে অসন্তোষ। তাই ঝুঁকিতে রয়েছে জাতীয় তথ্যভা-ার ও নাগরিকসেবা। বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার। এসব নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে ইসির সার্ভারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

হুমকিতে জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্যভাণ্ডার

আপডেট টাইম : ১০:১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের পর প্রায় এক যুগ অতিবাহিত হলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমকিতে পড়েছে জাতীয় তথ্যভাণ্ডার। যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংরক্ষণ সার্ভার। বিঘ্নিত হতে পারে এনআইডি সেবা। এসব শঙ্কা প্রকাশ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দ্রুত বরাদ্দ চেয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এক পত্রে ইসিকে জানান, এক্সডাটা মেশিনের কোনো পার্টস বর্তমানে মজুদ নেই। ফলে এক্সডাটা সিস্টেমের কোনো হার্ডওয়ার বিকল হয়ে গেলে দেশব্যাপী এনআইডি সংক্রান্ত সব সার্ভিস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া যে ৮২ প্রতিষ্ঠান এনআইডি যাচাই সেবা গ্রহণ করছে তা প্রদান করা সম্ভব হবে না; স্মার্টকার্ড পার্সোনালাইজেশন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

গত ১৪ জানুয়ারি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ইসিতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে অবস্থিত ইসির ওরাকল এক্সডাটা সিস্টেমে স্টোরেজের স্পেস সম্পূর্ণ ব্যবহৃত হওয়ায় বর্তমানে কোনো নতুন ডাটা সংযোজন করা যাচ্ছে না। এমনকি পুরনো ডাটার কোনোরূপ আপডেট কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অবস্থিত ইসির ওরাকল এক্সডাটা মেশিনেই এনআইডি সিস্টেমের সব কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবহৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অবস্থিত এক্সডাটা মেশিনের ৮ ডাটাবেজ সার্ভারের মধ্যে ৩টিতে ক্রিটিক্যাল ওয়ার্নিং দিচ্ছে। এ ছাড়া ১৪টি স্টোরেজ সার্ভারের ৫৬টি ফ্লাস ড্রাইভের মধ্যে ৯টি ফ্লাস ড্রাইভ বিকল হয়ে গেছে। ফলে ডাটাবেজের পারফরমেন্স উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ১ জানুয়ারি হটাৎ করেই স্টোরেজের সার্ভার স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডাটাবেজের সব ভোটারসংবলিত ডাটা ফাইল করাপ্টেড হয়ে যায়। পরে ১২ ঘণ্টা পর ব্যাকআপ ডাটাবেজ হতে সব ডাটা পুনরুদ্ধার করে আবার মূল সার্ভার চালু করা হয়।

চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, ডিস ও ডিআরএস উভয় অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (এএফআইএস) সাপোর্ট সার্ভিস মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ডিসি এর জন্য কেনা এএফআইএস ১০০ মিলিয়ন ভোটারের জন্য লাইসেন্স নেওয়া আছে। কিন্তু বর্তমানে ডাটবেজের সাইজ ১০৪ মিলিয়নের ওপরে। বর্তমান এএফআইএস শুধু ভোটারের চার আঙুলের ছাপ নিয়ে কাজ করে। ফলে সর্বশেষ সংগ্রহ করা ১০ আঙুলের ছাপ ও আইরিশ ম্যাচিং এই এএফআইএস দিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিসি এর সব এএফআইএস সার্ভিস ইতোমধ্যে ইওএস (অ্যান্ড অব সার্ভিস) এ আছে, যে কোনো সময় সার্ভার ডাউন হয়ে যেতে পারে। ফলে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করে দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

এএফআইএস সার্ভার বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবারের হালনাগাদ ভোটারের বায়োমেট্রিক ম্যাচিংয়ের রেজান্ট সঠিকভাবে যথাসময়ে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। ফলে খসড়া তালিকায় বিভিন্ন ভুল পরিলক্ষিত হয়। এ ছাড়া যেহেতু বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী সিম রেজিস্টেশন চলে। তাই এএফআইএস সার্ভার বন্ধ থাকলে টেলিকম অপারেটরদের সিম বিক্রি বন্ধ থাকে। এ সার্ভারগুলো ২০১০ সালে কেনা হয়েছে, বর্তমানে এর ব্যবহার অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানায় এনআইডি উইং। এসব সমস্যা সমাধানে আগামী তিন মাসের জন্য ১৩৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইসি কর্মকর্তা জানান, মাঝেমধ্যেই সার্ভারে কাজ করে না। হ্যাং হয়ে যায়। তাই সেবাগ্রহীতাদের বাধ্য হয়েই ফেরত দিতে হয়। সার্ভারের এমন ঝুঁকির মধ্যে আবার এনআইডি সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে চাকরি নিয়ে বিরাজ করছে অসন্তোষ। তাই ঝুঁকিতে রয়েছে জাতীয় তথ্যভা-ার ও নাগরিকসেবা। বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার। এসব নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে ইসির সার্ভারে।