ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতিকে মনোনয়নের দেয়ার সিদ্ধান্তপত্র হস্তান্তর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ৩৬৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয় মেয়াদে আবদুল হামিদকে দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। আগের রাতে ক্ষমতাসীন দলের এই সিদ্ধান্ত বঙ্গভবনে গিয়ে তুলে দিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাত আটটা পাঁচ মিনিটের দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং উপ দপ্তর সম্পাদক বিল্পব বড়ুয়া। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার আওয়ামী লীগ আবদুল হামিদকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যম এবং অন্যান্য মারফতে আগেই জেনেছেন রাষ্ট্রপতি। এবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই তিনি জানলেন তা।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদেরকে জানান, ‘আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনীত হওয়ায় বোর্ডের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান।

প্রেস সচিব জানান, দ্বিতীয় মেয়াদে মনোনয়ন দেওয়ায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানান আবদুল হামিদ।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২৩ এপ্রিলে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি। তবে এই পদে শেষ পর্যন্ত ভোট হবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। কারণ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো আগ্রহ নেই।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। ১৯৯১ সালেই একবার এই পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। কিন্তু এর পরে প্রতিবার রাষ্ট্রপতিরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্ম নেয়া আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ।

১৯৭৩ সালের দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। এরপর ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের  ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ এর  ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসাবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ। আর নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে চলতি বছর আব্দুল হামিদকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতিকে মনোনয়নের দেয়ার সিদ্ধান্তপত্র হস্তান্তর

আপডেট টাইম : ০৯:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয় মেয়াদে আবদুল হামিদকে দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। আগের রাতে ক্ষমতাসীন দলের এই সিদ্ধান্ত বঙ্গভবনে গিয়ে তুলে দিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাত আটটা পাঁচ মিনিটের দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং উপ দপ্তর সম্পাদক বিল্পব বড়ুয়া। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার আওয়ামী লীগ আবদুল হামিদকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যম এবং অন্যান্য মারফতে আগেই জেনেছেন রাষ্ট্রপতি। এবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেই তিনি জানলেন তা।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদেরকে জানান, ‘আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনীত হওয়ায় বোর্ডের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান।

প্রেস সচিব জানান, দ্বিতীয় মেয়াদে মনোনয়ন দেওয়ায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানান আবদুল হামিদ।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২৩ এপ্রিলে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি। তবে এই পদে শেষ পর্যন্ত ভোট হবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। কারণ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো আগ্রহ নেই।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। ১৯৯১ সালেই একবার এই পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। কিন্তু এর পরে প্রতিবার রাষ্ট্রপতিরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্ম নেয়া আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ।

১৯৭৩ সালের দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। এরপর ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের  ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ এর  ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসাবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ। আর নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে চলতি বছর আব্দুল হামিদকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।