ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করে: রাষ্ট্রপতি ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩৪৫০২ কোটি টাকা স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি : সংস্কৃতি মন্ত্রী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের সৎ মায়ের নির্যাতন, মা’র কবরের পাশে শিশুর কান্না ভাইরাল নতুন সিদ্ধান্ত, ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রায় ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী ৭ দিনের অভিযান আসাদগেট-শ্যামলীতে সব ক্লিনিক পরিদর্শন, অনিয়মে ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আল্লাহ সুন্দর পছন্দ করেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৯৭০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ইসলামে ঈমানের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নামাজ-রোজা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সচ্চরিত্রবান মানুষের একটি প্রধান গুণ হচ্ছে মন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি দেহও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। নোংরা, ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত থাকা ঈমানদারের স্বভাব নয়। মোমিন সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে সবাই ভালোবাসে। আল্লাহ তায়ালাও তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের এবং যারা অতিপবিত্র থাকে, তাদের ভালোবাসেন।’ (সূরা বাকারা : ২২২)।

ইসলামি শরিয়া মানুষের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য অজু, গোসল, তায়াম্মুম ও মিসওয়াকের বিধান প্রবর্তন করেছে। আবু মালিক আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম : ৫৫৬)।

দৈনিক অজু-গোসল-মিসওয়াকের মাধ্যমে অপরিচ্ছন্নতা ও অপবিত্রতা দূরীভূত হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জিত হয়। আমাদের নিত্যজীবনে নানাভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয় জড়িত। যেমন গোসল ফরজ হলে গোসল করা, প্রস্রাব-পায়খানার পর অজু করা, দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করা এবং বাড়ি ও এর সম্মুখভাগ পরিষ্কার করা ইত্যাদি। এসবের মাধ্যমে মানুষের সুন্দর চরিত্র ও সুরুচির বিকাশ ঘটে; লোকমাঝে সে সভ্য ও ভদ্র বলে বিবেচিত হয়।

অনেকে মনে করেন, ইসলামে এলোমেলো দরবেশি বেশই বেশি কাম্য এ ধারণা সঠিক নয়। ইসলাম যে সাদাসিধে জীবন পছন্দ করে, সেটার অর্থ অপরিচ্ছন্নতা বা এলোমেলো বেশ নয়; বরং পোশাকে বাহুল্য ও লৌকিকতামুক্ত হওয়া এবং আড়ম্বরমুক্ত হওয়াই কামনা করে ইসলাম। প্রত্যেকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি পোশাক পরবে, সেটাই ঈপ্সিত। পোশাক প্রসিদ্ধি বা অহংকার প্রকাশের উদ্দেশ্যে না হলে সুন্দর বা দামি হওয়ায়ও সমস্যা নেই। এক ব্যক্তি নবীজি (সা.) এর সামনে বললেন, আমি পছন্দ করি আমার পোশাক সুন্দর হোক এবং আমার জুতা সুন্দর হোক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো হককে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (তিরমিজি : ১৯৯৯)।

আল্লাহ আমাদের অনিন্দ্য সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করে সব সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। আল্লাহ পছন্দ করেন তার বান্দা পরিচ্ছন্ন দেহ-মন নিয়ে পরিপাটি জীবনযাপন করুক। অপরিচ্ছন্ন এলোমেলোভাবে থাকা ইসলামে মোটেও পছন্দনীয় নয়; তা বরং ইসলামে নিন্দনীয়। জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, একদা আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের কাছে এসে এক ব্যক্তির মাথায় আলুথালু চুল দেখে বললেন, ‘এর কি এমন কিছুই নেই, যার দ্বারা মাথার এলোমেলো চুলগুলো আঁচড়ে নেয়?’ আর এক ব্যক্তির পরনে ময়লা কাপড় দেখে বললেন, ‘এর কি এমন কিছুই নেই, যার দ্বারা ময়লা কাপড় পরিষ্কার করে নেয়।’ (আবু দাউদ : ৪০৫৬)।
অজুর অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

প্রতিটি মোমিনের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গেই যেন পবিত্রতা শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। দৈনন্দিন জীবনে প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের আগে ইবাদতের পূর্বশর্ত হিসেবে অজু করতে হয়। এছাড়াও সওয়াবের নিয়তে বিভিন্ন সময় আমরা অজু করি। অজুর মাধ্যমে একদিকে যেমন পবিত্রতা ও অগণিত কল্যাণ লাভ হয়, তেমনি এক অন্যরকম সতেজতা ও নির্মলতা অনুভূত হয়। ওসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত; নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে, তার পূর্বের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ফলে তার মসজিদে যাওয়া ও নামাজ অতিরিক্ত আমল বলে গণ্য হয়।’ (মুসলিম : ৫৬৬)।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানও অজুর উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের এক চমকপ্রদ তথ্য জানিয়েছে। অজুতে দুই হাতের কবজি ভালোভাবে ধৌত করতে হয়। হাতে সাধারণত ময়লা ও জীবাণু থাকে। মুখে পানি দেওয়ার আগে যদি হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে সেই জীবাণু মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। বেশি বেশি কুলি করা স্থ্যাস্থের পক্ষে উপকারী। মানুষ যখন খাবার খায়, তখন দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে। আমরা মুসলিম, আমাদের কাছে রয়েছে চৌদ্দশত বছর পূর্বে মহানবীর শিক্ষা, যার মধ্যে রয়েছে দীন-দুনিয়ার কামিয়াবি।
শরিয়তের আদেশ রয়েছে তোমরা রাগান্বিত হলে অজু করবে; যখন রক্তচাপ বেড়ে যাবে, তখন অজু করবে।

ক্রোধের সময় রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। হৃদরোগের কারণে যখন উচ্চরক্তচাপ বেড়ে যায়, তখন অজু করা হলে রক্তচাপ কমে যায়। খাবার গ্রহণের পর দাঁত ও মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে একদিকে যেমন মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, তেমনি এসব খাদ্যের উচ্ছিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন জীবাণু যা প্রকৃতপক্ষে দাঁত ও মাড়ির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এসবের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে প্রতিদিন কমপক্ষে কয়েকবার মিসওয়াক করা।
মহানবী (সা.) বর্তমানের দন্তবিজ্ঞানের বহু আগেই উম্মতকে মিসওয়াক করার জন্য হাদিসে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের যদি কষ্ট না হতো, তাহলে অবশ্যই তাদের প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করার হুকুম করতাম।’ (বোখারি ও মুসলিম)। এমনকি আজকের মেডিকেল সায়েন্সও প্রমাণ দেখিয়েছে, মিসওয়াক দ্বারা মস্তিষ্কের শক্তি অর্জিত হয় এবং দীর্ঘসময় পর্যন্ত তা স্বাস্থ্যবান থাকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর

আল্লাহ সুন্দর পছন্দ করেন

আপডেট টাইম : ০৩:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ইসলামে ঈমানের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নামাজ-রোজা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সচ্চরিত্রবান মানুষের একটি প্রধান গুণ হচ্ছে মন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি দেহও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। নোংরা, ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত থাকা ঈমানদারের স্বভাব নয়। মোমিন সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে সবাই ভালোবাসে। আল্লাহ তায়ালাও তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের এবং যারা অতিপবিত্র থাকে, তাদের ভালোবাসেন।’ (সূরা বাকারা : ২২২)।

ইসলামি শরিয়া মানুষের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য অজু, গোসল, তায়াম্মুম ও মিসওয়াকের বিধান প্রবর্তন করেছে। আবু মালিক আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম : ৫৫৬)।

দৈনিক অজু-গোসল-মিসওয়াকের মাধ্যমে অপরিচ্ছন্নতা ও অপবিত্রতা দূরীভূত হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জিত হয়। আমাদের নিত্যজীবনে নানাভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয় জড়িত। যেমন গোসল ফরজ হলে গোসল করা, প্রস্রাব-পায়খানার পর অজু করা, দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করা এবং বাড়ি ও এর সম্মুখভাগ পরিষ্কার করা ইত্যাদি। এসবের মাধ্যমে মানুষের সুন্দর চরিত্র ও সুরুচির বিকাশ ঘটে; লোকমাঝে সে সভ্য ও ভদ্র বলে বিবেচিত হয়।

অনেকে মনে করেন, ইসলামে এলোমেলো দরবেশি বেশই বেশি কাম্য এ ধারণা সঠিক নয়। ইসলাম যে সাদাসিধে জীবন পছন্দ করে, সেটার অর্থ অপরিচ্ছন্নতা বা এলোমেলো বেশ নয়; বরং পোশাকে বাহুল্য ও লৌকিকতামুক্ত হওয়া এবং আড়ম্বরমুক্ত হওয়াই কামনা করে ইসলাম। প্রত্যেকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি পোশাক পরবে, সেটাই ঈপ্সিত। পোশাক প্রসিদ্ধি বা অহংকার প্রকাশের উদ্দেশ্যে না হলে সুন্দর বা দামি হওয়ায়ও সমস্যা নেই। এক ব্যক্তি নবীজি (সা.) এর সামনে বললেন, আমি পছন্দ করি আমার পোশাক সুন্দর হোক এবং আমার জুতা সুন্দর হোক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো হককে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (তিরমিজি : ১৯৯৯)।

আল্লাহ আমাদের অনিন্দ্য সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করে সব সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। আল্লাহ পছন্দ করেন তার বান্দা পরিচ্ছন্ন দেহ-মন নিয়ে পরিপাটি জীবনযাপন করুক। অপরিচ্ছন্ন এলোমেলোভাবে থাকা ইসলামে মোটেও পছন্দনীয় নয়; তা বরং ইসলামে নিন্দনীয়। জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, একদা আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের কাছে এসে এক ব্যক্তির মাথায় আলুথালু চুল দেখে বললেন, ‘এর কি এমন কিছুই নেই, যার দ্বারা মাথার এলোমেলো চুলগুলো আঁচড়ে নেয়?’ আর এক ব্যক্তির পরনে ময়লা কাপড় দেখে বললেন, ‘এর কি এমন কিছুই নেই, যার দ্বারা ময়লা কাপড় পরিষ্কার করে নেয়।’ (আবু দাউদ : ৪০৫৬)।
অজুর অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

প্রতিটি মোমিনের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গেই যেন পবিত্রতা শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। দৈনন্দিন জীবনে প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের আগে ইবাদতের পূর্বশর্ত হিসেবে অজু করতে হয়। এছাড়াও সওয়াবের নিয়তে বিভিন্ন সময় আমরা অজু করি। অজুর মাধ্যমে একদিকে যেমন পবিত্রতা ও অগণিত কল্যাণ লাভ হয়, তেমনি এক অন্যরকম সতেজতা ও নির্মলতা অনুভূত হয়। ওসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত; নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে, তার পূর্বের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ফলে তার মসজিদে যাওয়া ও নামাজ অতিরিক্ত আমল বলে গণ্য হয়।’ (মুসলিম : ৫৬৬)।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানও অজুর উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের এক চমকপ্রদ তথ্য জানিয়েছে। অজুতে দুই হাতের কবজি ভালোভাবে ধৌত করতে হয়। হাতে সাধারণত ময়লা ও জীবাণু থাকে। মুখে পানি দেওয়ার আগে যদি হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে সেই জীবাণু মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। বেশি বেশি কুলি করা স্থ্যাস্থের পক্ষে উপকারী। মানুষ যখন খাবার খায়, তখন দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে। আমরা মুসলিম, আমাদের কাছে রয়েছে চৌদ্দশত বছর পূর্বে মহানবীর শিক্ষা, যার মধ্যে রয়েছে দীন-দুনিয়ার কামিয়াবি।
শরিয়তের আদেশ রয়েছে তোমরা রাগান্বিত হলে অজু করবে; যখন রক্তচাপ বেড়ে যাবে, তখন অজু করবে।

ক্রোধের সময় রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। হৃদরোগের কারণে যখন উচ্চরক্তচাপ বেড়ে যায়, তখন অজু করা হলে রক্তচাপ কমে যায়। খাবার গ্রহণের পর দাঁত ও মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে একদিকে যেমন মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, তেমনি এসব খাদ্যের উচ্ছিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন জীবাণু যা প্রকৃতপক্ষে দাঁত ও মাড়ির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এসবের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে প্রতিদিন কমপক্ষে কয়েকবার মিসওয়াক করা।
মহানবী (সা.) বর্তমানের দন্তবিজ্ঞানের বহু আগেই উম্মতকে মিসওয়াক করার জন্য হাদিসে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের যদি কষ্ট না হতো, তাহলে অবশ্যই তাদের প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করার হুকুম করতাম।’ (বোখারি ও মুসলিম)। এমনকি আজকের মেডিকেল সায়েন্সও প্রমাণ দেখিয়েছে, মিসওয়াক দ্বারা মস্তিষ্কের শক্তি অর্জিত হয় এবং দীর্ঘসময় পর্যন্ত তা স্বাস্থ্যবান থাকে।