ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামীকাল রংপুরে আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৩৭৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রংপুর মহানগরীর টার্মিনাল বানিয়াপাড়ায় আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামায়াতের আঞ্চলিক ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমায় না যাওয়া রংপুর জেলার ২ লাখেরও বেশী মুসল্লী এতে অংশ নিবেন বলে ধারণা দিয়েছেন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা।

ইজতেমায় বয়ান করতে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, চীন, মরক্কো ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাবলীগের মুরব্বীরা রংপুরের তাবলীগ মারকাজ মসজিদে উপস্থিত হয়েছেন। ইজতেমা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইজতেমাকে নির্বিঘ্নে করতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা ছাড়াও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্বা বলয় তৈরি করেছে আইনশৃংখলাবাহিনী।

তাবলীগ জামায়াতের স্থানীয় সংগঠক শামীমুজ্জামান শামীম জানান, বিশ্ব ইজতেমার নিয়মানুযায়ী যে ৩২ জেলা এবার বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয় নি, তারা নিজ জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমার আয়োজন করবেন। ২০১০ সাল থেকে রংপুরে আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু হয়ে আসছে। এবার রংপুরে চতুর্থবারের মতো ইজতেমা হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারী আগামীকাল থেকে ৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার পর্যন্ত এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

বিগত বছরগুলোতে তিন দফায় রংপুর কালেক্টরেট মাঠে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও বিপুল পরিমান মুসল্লীর উপস্থিতির কারণে এবার নগরীর টার্মিনাল বানিয়াপাড়ায় এলাকার ১০ একর জমির উপর সামিয়ানা সংবলিত প্যান্ডেল টাঙ্গানো সম্পন্ন হয়েছে। রংপুরের ৮ উপজেলার প্রায় দু’লাখ মানুষ এই ইজতেমায় অংশ নেবেন। ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লীদের সেবায় ৩ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়া দূরের মুসল্লীদের পরিবহন রাখার জন্য গ্যারেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মিত প্যান্ডেলের ভেতরে একসাথে ৫০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। মাঠের আশপাশে শতাধিক খাবারের দোকান বসানো হয়েছে। ৯৬০ টি বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইজতেমা মাঠকে আলোকিত রাখতে বিদ্যুতের লাইন ছাড়াও শতাধিক জেনারেটর বসানো হয়েছে। চিকিৎসা সেবার জন্য সার্বক্ষণিক অর্ধ শতাধিক মেডিকেল টিম কাজ করবে মাঠে। তিনি আরও জানান, এই ইজতেমা শেষে এখান থেকে ৭ হাজার মানুষ ৫০০ টি দলে বিভক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মুসল্লীরা যাবেন।

ইজতেমা আয়োজকদের মুরব্বী আহসান হাবীব জানান, ইজতেমায় বয়ান করতে ইতোমধ্যেই সৌদি আরব ও চীন থেকে থেকে ৯ জন করে এবং মরক্কো থেকে ৮ জন সহ রাজধানীর কাকরাইল থেকে বিশিষ্ট আলেমগন এসেছেন। এছাড়া স্থানীয় মুরুব্বিগণও ইজতেমায় বয়ান করবেন। ১ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে ফজরের নামাজের পর বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার কার্যক্রম শুরুকরবে। মাশোয়ারার ভিত্তিতে আলেমগন বয়ান করবেন।

এদিকে ইজতেমা মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতির পরিদর্শন ও খোঁজখবর নিয়েছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি আয়োজকদের কাছ থেকে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া ছাড়াও নিজে কাজ তদারকি করেছেন।

মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, আঞ্চলিক ইজতমোর বড় আয়োজনটির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা। সিটি করপোরেশন থেকে সকল ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইজতেমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে। তিনি সবাইকে সুশৃংখলভাবে ইজতেমার বয়ান শোনার আহবান জানান।

কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল মিয়া জানান, ইজতেমায় নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের নিরাপত্বাবলয় তৈরি করা হয়েছে। ইনার কর্ডন, আউটার গর্ডন ছাড়াও সাদা পোশাকী আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যররা সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। এছাড়াও পুলিশের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে ইজতেমা মাঠে। সেখান থেকে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি আয়োজকদের আমরা সার্বক্ষণিক যোগযোগ থাকবে।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুর রহমান সাইফ জানান, মুসল্লীদের ইজতেমা মাঠে নিরাপদে যাওয়া, সেখানে থাকা এবং ফিরে যাওয়ার জন্য নিচ্ছিদ্র নিরাপত্বা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইজতেমা মাঠের একটি স্কেচ ম্যাপ সংশ্লিষ্ট সবার হাতে পৌছে দেয়া হয়েছে। স্কেচ ম্যাপ অনুসরণ করে মুসল্লীরা নিজ নিজ উপজেলার হালকায় যেতে পারবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামীকাল রংপুরে আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু

আপডেট টাইম : ১২:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রংপুর মহানগরীর টার্মিনাল বানিয়াপাড়ায় আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামায়াতের আঞ্চলিক ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমায় না যাওয়া রংপুর জেলার ২ লাখেরও বেশী মুসল্লী এতে অংশ নিবেন বলে ধারণা দিয়েছেন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা।

ইজতেমায় বয়ান করতে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, চীন, মরক্কো ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাবলীগের মুরব্বীরা রংপুরের তাবলীগ মারকাজ মসজিদে উপস্থিত হয়েছেন। ইজতেমা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইজতেমাকে নির্বিঘ্নে করতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম খোলা ছাড়াও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্বা বলয় তৈরি করেছে আইনশৃংখলাবাহিনী।

তাবলীগ জামায়াতের স্থানীয় সংগঠক শামীমুজ্জামান শামীম জানান, বিশ্ব ইজতেমার নিয়মানুযায়ী যে ৩২ জেলা এবার বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয় নি, তারা নিজ জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমার আয়োজন করবেন। ২০১০ সাল থেকে রংপুরে আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু হয়ে আসছে। এবার রংপুরে চতুর্থবারের মতো ইজতেমা হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারী আগামীকাল থেকে ৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার পর্যন্ত এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

বিগত বছরগুলোতে তিন দফায় রংপুর কালেক্টরেট মাঠে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও বিপুল পরিমান মুসল্লীর উপস্থিতির কারণে এবার নগরীর টার্মিনাল বানিয়াপাড়ায় এলাকার ১০ একর জমির উপর সামিয়ানা সংবলিত প্যান্ডেল টাঙ্গানো সম্পন্ন হয়েছে। রংপুরের ৮ উপজেলার প্রায় দু’লাখ মানুষ এই ইজতেমায় অংশ নেবেন। ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লীদের সেবায় ৩ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়া দূরের মুসল্লীদের পরিবহন রাখার জন্য গ্যারেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মিত প্যান্ডেলের ভেতরে একসাথে ৫০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। মাঠের আশপাশে শতাধিক খাবারের দোকান বসানো হয়েছে। ৯৬০ টি বাথরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইজতেমা মাঠকে আলোকিত রাখতে বিদ্যুতের লাইন ছাড়াও শতাধিক জেনারেটর বসানো হয়েছে। চিকিৎসা সেবার জন্য সার্বক্ষণিক অর্ধ শতাধিক মেডিকেল টিম কাজ করবে মাঠে। তিনি আরও জানান, এই ইজতেমা শেষে এখান থেকে ৭ হাজার মানুষ ৫০০ টি দলে বিভক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মুসল্লীরা যাবেন।

ইজতেমা আয়োজকদের মুরব্বী আহসান হাবীব জানান, ইজতেমায় বয়ান করতে ইতোমধ্যেই সৌদি আরব ও চীন থেকে থেকে ৯ জন করে এবং মরক্কো থেকে ৮ জন সহ রাজধানীর কাকরাইল থেকে বিশিষ্ট আলেমগন এসেছেন। এছাড়া স্থানীয় মুরুব্বিগণও ইজতেমায় বয়ান করবেন। ১ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে ফজরের নামাজের পর বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার কার্যক্রম শুরুকরবে। মাশোয়ারার ভিত্তিতে আলেমগন বয়ান করবেন।

এদিকে ইজতেমা মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতির পরিদর্শন ও খোঁজখবর নিয়েছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি আয়োজকদের কাছ থেকে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া ছাড়াও নিজে কাজ তদারকি করেছেন।

মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, আঞ্চলিক ইজতমোর বড় আয়োজনটির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা। সিটি করপোরেশন থেকে সকল ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইজতেমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে। তিনি সবাইকে সুশৃংখলভাবে ইজতেমার বয়ান শোনার আহবান জানান।

কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল মিয়া জানান, ইজতেমায় নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের নিরাপত্বাবলয় তৈরি করা হয়েছে। ইনার কর্ডন, আউটার গর্ডন ছাড়াও সাদা পোশাকী আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যররা সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। এছাড়াও পুলিশের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে ইজতেমা মাঠে। সেখান থেকে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি আয়োজকদের আমরা সার্বক্ষণিক যোগযোগ থাকবে।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুর রহমান সাইফ জানান, মুসল্লীদের ইজতেমা মাঠে নিরাপদে যাওয়া, সেখানে থাকা এবং ফিরে যাওয়ার জন্য নিচ্ছিদ্র নিরাপত্বা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইজতেমা মাঠের একটি স্কেচ ম্যাপ সংশ্লিষ্ট সবার হাতে পৌছে দেয়া হয়েছে। স্কেচ ম্যাপ অনুসরণ করে মুসল্লীরা নিজ নিজ উপজেলার হালকায় যেতে পারবেন।