হাওর বার্তা ডেস্কঃ নাটোর জেলার লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-১ সংসদীয় আসন। দুই উপজেলায় মোট ১৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার রয়েছে। এ আসনটি ধরে রাখতে তৎপরতা শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এক সময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তৎপরতা শুরু করেছেন। বিএনপির সবাই নতুন মুখ হলেও তারা নানা কৌশলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে পারিবারিক নেতৃত্বের নানা সমীকরণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচনী তৎপরতাকে জটিল করে তুলেছে।
এ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চলছে তীব্র কোন্দল। অপরদিকে নাটোরে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলের কাণ্ডারী, বার বার নির্বাচিত সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল ইন্তেকাল করায় এবার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সবাই নতুন মুখ। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন এবং ২০১৪ দশম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) নির্বাচন ছাড়া কখনো এই আসনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়নি।
স্বাধীনতার পর ১০টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে প্রথম সংসদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. আলাউদ্দিন বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের দশম সংসদে বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপির আব্দুল মান্নান নির্বাচিত হন এবং সংসদের হুইপ নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমতাজ উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহসিন আলী।
১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ এবং ২০০৮ সালের নবম সংসদে এখানে বিজয়ী হয় জাতীয় পার্টি। আর বাকি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির ফজলুর রহমান পটল। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল এই আসন থেকে টানা ৪ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ইন্তেকাল করায় এবার এই আসনে বিএনপিতে আসছে নতুন মুখ।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসন বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যায়। বিএনপির ফজলুর রহমান পটলকে হারিয়ে তখন বিজয়ী হন মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির এম এ তালহা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ২০০৪ সালে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত সাবেক এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা মমতাজ উদ্দীনের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে, তাকে কাজে লাগাতে চাইছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে দুই জোটেই টানাপড়েনের সৃষ্টি হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, এ আসনে জাতীয় পার্টির জনসমর্থন নেই।
আগামী সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ১০ জন, বিএনপির ৪ জন, জাতীয় পার্টির ৪ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ২ জন, জাসদের ১ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১ জন ও ইসলামী আন্দোলনের ১ জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, আবুল কালামের ভাবী সাবেক স্বতন্ত্র এমপি আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ মমতাজ উদ্দীনের স্ত্রী আওয়ামী লীগের গত আমলের মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি শেফালী মমতাজ, মমতাজ উদ্দীনের ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক শামীম আহম্মেদ সাগর, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ মাজেদ-উর-রহমান চাঁদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম বকুল, বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক সিলভিয়া পারভীন লেনি, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল হক আতিক, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল ও প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) রমজান আলী সরকার।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা মরহুম ফজলুর রহমান পটল পত্নী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরিন ও তার ছেলে ডা. ইয়াছির আরশাদ রাজন, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুনজুরুল ইসলাম বিমল, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তারিকুল ইসলাম টিটু এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহদফতর সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু।
জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক এমপি শিল্পপতি এম এ তালহা, নাটোর জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি আশরাফুল আলম খান ডাবলু, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোহেল রানা ও লালপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যাপক সাহিন ইসলাম।
ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনয়ন চাইছেন উত্তরবঙ্গ আখ চাষী সমিতি সভাপতি অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খলিল ও আনসার আলী দুলাল। জাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য শ্যামল কুমার রায় এখানে মহাজোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন।
জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক মো. তাসনীম আলম। ইসলামী আন্দোলনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবদুল খালেক। এরই মধ্যে দলের মনোনয়ন নিয়ে বর্তমান এমপি আবুল কালাম তার ভাবী শেফালী মমতাজের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। বিরোধী পক্ষকে কোণঠাসা করে দলে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া চাচা আবুল কালামের বিরুদ্ধে শামীম আহম্মেদ সাগরেরও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
শহীদ মমতাজ উদ্দিনের ছেলে শামীম আহম্মেদ বলেন, তার বাবা ও মা সাবেক এমপি। চাচা বর্তমান এমপি হলেও তার চাচার প্রতি মানুষের আস্থা নেই। তিনি তার বাবার জনপ্রিয়তার মর্যাদা রক্ষা করতেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নিজের অবস্থান নড়বড়ে বলেই দলে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তার কারণে লালপুর উপজেলা ও বাগাতিপাড়া উপজেলাসহ গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা হেরেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ মাজেদ-উর-রহমান চাঁদ জানান, স্বাধীনতার পর তিনি প্রায় ৫ বছর দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে কারাভোগও করেছেন তিনি। বাগাতিপাড়ার মানুষ তাকেই এমপি হিসেবে দেখতে চায়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান, আমি বাগাতিপাড়ার সন্তান। বাগাতিপাড়ার মানুষ আমাকেএমপি প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। আর আঞ্চলিকতার টানে তারা বাগাতিপাড়া উপজেলার প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।
কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল হক আতিক জানান, তিনি লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলাকে আধুনিক এবং মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এ জন্য তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন। দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি এ নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল জানান, তিনি এমপি পদে নির্বাচন করার যোগ্য। তাই তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন।
প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) রমজান আলী সরকার এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রার্থী হতে চান। তিনি এর আগেও দলের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তিনি এবারো মনোনয়ন চাইবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক সিলভিয়া পারভীন লেনির মা দলের গোপালপুর পৌর সভাপতি রুখসানা মোর্ত্তজা লিলির সঙ্গে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চাইছেন।
রুখসানা মোর্ত্তজা লিলি জানান, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়েছেন। এবার এমপি পদে দলের প্রার্থী পরিবর্তন হোক, এটিই আমি চাই।
তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, দলের ৯-১০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। অথচ এ আসনে দলের প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মীর মধ্যে ২০ জনও তাদের সঙ্গে নেই। নেতাকর্মী ও জনগণ তার সঙ্গেই রয়েছেন। এ কারণে তিনি আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তার সময়ে কর্মী ও সমর্থকের সংখ্যা বেড়েছে। সব কয়টি ইউনিয়ন পরিষদে দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, দলের নেতা-কর্মী ও জনগণ তার সঙ্গে আছেন তাই এবারো তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন। আর নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমান বলেন, বর্তমান এমপির নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত। তিনি নিজেই তার বিকল্প।
লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী জানান, বর্তমান এমপির বিরোধিতাকারীরা দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত নন। এছাড়া তারা অবৈধ সুবিধা না পেয়ে বর্তমান এমপির বিরোধিতা করছেন। ভোটের সময় আসায় কারণে তারা দলের সুনাম ক্ষুণœ করতে মিথ্যাচারে নেমেছেন।
মরহুম ফজলুর রহমান পটল দুই দফায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় বহু রাস্তাঘাট, অসংখ্য ব্রিজ, কালভার্ট, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লালপুরে স্টেডিয়াম ও বাগাতিপাড়ায় ইনডোর স্টেডিয়াম এবং দুই উপজেলায় ফায়ার স্টেশন স্থাপনসহ হাজারো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। তাই পটল অনুসারীরা মনে করছেন তার অবর্তমানে এখানে তার স্ত্রী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরীনকে মনোনয়ন দেয়া উচিত।
এদিকে এ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিবাদও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুর পর দলীয় কোন্দলের ফলে এখানে ৩টি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। এ তিন গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফজলুর রহমান পটলের স্ত্রী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরিন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহদফতর সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু ও জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বিমল।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়নি বলে ১৫টি ইউনিয়নেই দলের প্রার্থীরা হেরে গেছেন। এতে নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ। এ অবস্থায় দলের মনোনয়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন পটলপত্নী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরিন ও তার ছেলে ডা. ইয়াছির আরশাদ রাজন।
মরহুম ফজলুর রহমান পটল পত্নী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরিন জানান, তিনি তার স্বামীর পাশে থেকে রাজনীতির পাশাপাশি এলাকায় উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ দেখেছেন। জনসেবা করেছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখন স্বামীর অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুনজুরুল ইসলাম বিমল বলেন, ফজলুর রহমান পটল ক্ষমতার জোরে তাকে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন। সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রী তার অবর্তমানে নিজের পরিবারের সদস্যদের নেতৃত্বে আনতে পকেট কমিটির মাধ্যমে লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় দলকে কুক্ষিগত করেছিলেন।
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তারিকুল ইসলাম টিটু বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে তিনি ৩ বার কারাবরণ করেছেন। একবার গুমের শিকার হয়েও বেঁচে গেছেন। আর স্থানীয় বিএনপি পরিবার তাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখছে। তিনি এই স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটাতে চান। এসব কারণে দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে মনে করেন তিনি।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহদফতর সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দলের জন্য কাজ করবেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। সবাই তাকে এমপি হিসেবে দেখতে চাইছেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ৩বার আটক হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই আসনে বিএনপিই জয়ী হবে।
২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাই দুই উপজেলাবাসী ভোট সংখ্যার হিসাব দেখা যায়নি। তাই আবুল কালামে জনপ্রিয়তা কেমন তা জানা যায়নি।
এছাড়া ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জাতীয় পার্টির এম এ তালহা নির্বাচিত হন। যদি মহাজোটকে এ আসন দেয়া হয় তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাদ পড়বেন।
নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে এনিয়ে জনগণের উৎসাহ ও আগ্রহ আরো বেড়ে যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত খবরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ঝড় তুলছে।
সূত্রঃ মানবকণ্ঠ
Reporter Name 






















