ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ-১১ আওয়ামী লীগে স্বজনপ্রীতি বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৩৪৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, দীর্ঘ তিন দশক ধরে তিনি জেলা ও উপজেলার রাজনীতি করছেন। ভালুকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত আছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতাও এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, জনমত যাচাই-বাছাই ছাড়া বিএনপি মনোনয়ন দেবে না। প্রতীক পেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নিশ্চিত জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরউদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু বলেন, ২০০৮ সালের প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হলে, তিনি নিশ্চিত বিজয়ী হবেন।

বিএনপি থেকে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরউদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু এবং গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার কাছে সামান্য ভোটে পরাজিত ধানের শীষ প্রার্থী, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের সাবেক মহাসচিব ও ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। স্থানীয়ভাবে বিভক্ত বিএনপির দুটি গ্রুপকে আলাদাভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে পরিচিত ভালুকায় বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি ইতিমধ্যেই নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও এ উপজেলায় দলটির বিভক্তি এত বেশি যে, দলীয় কার্যালয়ও দুটি। কর্মসূচিও পালন হয় আলাদাভাবে। তবে গত উপজেলা নির্বাচনকালীন কার্যক্রম ও ফল থেকে অনেকেই মনে করছেন, বিভক্তির পরও দুটি গ্রুপের মধ্যে বোঝাপড়া শুরু হয়েছে।

এ ছাড়াও নৌকা প্রতীক পাওয়ার লক্ষ্যে এলাকায় গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. আশরাফুল আলম জর্জ। এর আগেও মনোনয়ন চেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দল তাকে মূল্যায়ন করবে। একই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লব বলেন, তিনি আশাবাদী যে দল তার কর্মের মূল্যায়ন করবে।

ময়মনসিংহের সরকারি মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি, জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদের দু’বারের নারী ভাইস চেয়ারম্যান মনিরা সুলতানা মনি জানান, পারিবারিক ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে তিনি শিক্ষাজীবন থেকেই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। দল অবশ্যই আমলনামা বিবেচনা করে মনোনয়ন দেবে বলে মনে করেন তিনি।

পাপুয়া নিউগিনি শাখা আওয়ামী লীগের টানা তিনবারের নির্বাচিত সভাপতি এম এ ওয়াহেদ এমবিএ বলেন, গত ২০ বছর ধরে তিনি এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উন্নয়নসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে জনকল্যাণমূলক কাজ করে আসছেন। সার্বিক বিবেচনায় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই নেতা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর তিনি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। ২৫ বছর ধরে জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহাম্মেদ জানান, সঠিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করলে দল তাকেই মনোনয়ন দেবে। জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু জানান, কাজের মূল্যায়ন করা হলে তিনি অবশ্যই মনোনয়ন পাবেন।

অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম জানান, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করায় তার বাবা ও তৎকালীন ভালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চাচাকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে টানা ১১ দিন নির্যাতন চালায়। ছাত্রজীবন থেকে তিনিও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে ভালুকাবাসীর সেবা করে আসছেন। মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রয়াত পিতা, মুক্তিযোদ্ধা, ১১নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার, আফসার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর আফসার উদ্দিন আহাম্মেদের অবদান তুলে ধরে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু বলেন, জনমতের বিচারে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি অবশ্যই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। পিতার মতো তিনিও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সচেতন রয়েছেন এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত বলে জানান এই নেতা।

তবে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ জানান, তার ভাতিজারা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি নিজে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি, ভবিষ্যতেও দেবেন না। তিনি বলেন, অবহেলিত ভালুকা তার সময় একটি আধুনিক ভালুকায় রূপান্তরিত হয়েছে। মনোনয়ন পেলে আগামীতেও বিজয়ী হবেন বলে তিনি মনে করেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৯৬৯-এর ১১ দফার আন্দোলন থেকে শুরু করে এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি। আওয়ামী যুবলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বর্তমান এমপি অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহকে ভালুকাবাসী চার বার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। গোলাম মোস্তফা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার সময়ে কাঁচা রাস্তা পাকা করার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে উপজেলা পরিষদের একটি বড় ভবন ও এলাকার প্রায় সব বড় রাস্তার উন্নয়ন করা হয়েছে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে এসব বিবেচনায় নিলে প্রার্থিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের সামাজিক-সাংগঠনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক-পারিবারিক ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রার্থী তৃণমূল পর্যায়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন। কেন্দ্রের সঙ্গেও সংযোগ রক্ষা করছেন তারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা কেবিএম আছমত আলীর ছেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাপুয়া নিউগিনি শাখার তিন বারের নির্বাচিত সভাপতি, পাপুয়া নিউগিনির একাধিক শিল্পকারখানার কর্ণধার ও শিল্পোদ্যোক্তা এম এ ওয়াহেদ এমবিএ, সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন, আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু, সাবেক এমপি, ভাষাসংগ্রামী ও স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম অ্যাডভোকেট মোস্তফা এমএ মতিনের কন্যা সরকারি মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ময়মনসিংহ জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদের দু’বার নির্বাচিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান মনিরা সুলতানা মনি, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আশরাফুল হক জর্জ, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব এবং পরমাণু বিজ্ঞানী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা শফিউল আলম খোকা।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সঠিক না হলে আসন ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের একাংশের মতে, এ আসনের চারবারের এমপি, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয়ভাবে নানা কারণে বিতর্কিত হতে থাকেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর এই এমপি বার্ধক্যের কারণে সাংগঠনিকভাবেও অনেকটা নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এ সুযোগে তার ভাতিজারা বেপরোয়া হয়ে ওঠায় সাংসদও ইমেজ সংকটে পড়েছেন।

আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বড় দুই দলে নানামুখী বিভক্তি থাকলেও থেমে নেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা। আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে পরিচিত ভালুকায় বর্তমান এমপির কারণে নৌকার সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। অন্যদিকে, দলীয় কোন্দল থাকলেও ভোটের রাজনীতিতে ভালো অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের কোনো নির্বাচনী প্রার্থীর প্রচারণা এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ-১১ আওয়ামী লীগে স্বজনপ্রীতি বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল

আপডেট টাইম : ১১:১৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, দীর্ঘ তিন দশক ধরে তিনি জেলা ও উপজেলার রাজনীতি করছেন। ভালুকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত আছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতাও এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, জনমত যাচাই-বাছাই ছাড়া বিএনপি মনোনয়ন দেবে না। প্রতীক পেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নিশ্চিত জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরউদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু বলেন, ২০০৮ সালের প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হলে, তিনি নিশ্চিত বিজয়ী হবেন।

বিএনপি থেকে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরউদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু এবং গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার কাছে সামান্য ভোটে পরাজিত ধানের শীষ প্রার্থী, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের সাবেক মহাসচিব ও ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। স্থানীয়ভাবে বিভক্ত বিএনপির দুটি গ্রুপকে আলাদাভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে পরিচিত ভালুকায় বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি ইতিমধ্যেই নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও এ উপজেলায় দলটির বিভক্তি এত বেশি যে, দলীয় কার্যালয়ও দুটি। কর্মসূচিও পালন হয় আলাদাভাবে। তবে গত উপজেলা নির্বাচনকালীন কার্যক্রম ও ফল থেকে অনেকেই মনে করছেন, বিভক্তির পরও দুটি গ্রুপের মধ্যে বোঝাপড়া শুরু হয়েছে।

এ ছাড়াও নৌকা প্রতীক পাওয়ার লক্ষ্যে এলাকায় গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. আশরাফুল আলম জর্জ। এর আগেও মনোনয়ন চেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দল তাকে মূল্যায়ন করবে। একই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লব বলেন, তিনি আশাবাদী যে দল তার কর্মের মূল্যায়ন করবে।

ময়মনসিংহের সরকারি মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি, জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদের দু’বারের নারী ভাইস চেয়ারম্যান মনিরা সুলতানা মনি জানান, পারিবারিক ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে তিনি শিক্ষাজীবন থেকেই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। দল অবশ্যই আমলনামা বিবেচনা করে মনোনয়ন দেবে বলে মনে করেন তিনি।

পাপুয়া নিউগিনি শাখা আওয়ামী লীগের টানা তিনবারের নির্বাচিত সভাপতি এম এ ওয়াহেদ এমবিএ বলেন, গত ২০ বছর ধরে তিনি এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উন্নয়নসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে জনকল্যাণমূলক কাজ করে আসছেন। সার্বিক বিবেচনায় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই নেতা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর তিনি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। ২৫ বছর ধরে জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহাম্মেদ জানান, সঠিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করলে দল তাকেই মনোনয়ন দেবে। জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু জানান, কাজের মূল্যায়ন করা হলে তিনি অবশ্যই মনোনয়ন পাবেন।

অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম জানান, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করায় তার বাবা ও তৎকালীন ভালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চাচাকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে টানা ১১ দিন নির্যাতন চালায়। ছাত্রজীবন থেকে তিনিও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে ভালুকাবাসীর সেবা করে আসছেন। মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রয়াত পিতা, মুক্তিযোদ্ধা, ১১নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার, আফসার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর আফসার উদ্দিন আহাম্মেদের অবদান তুলে ধরে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু বলেন, জনমতের বিচারে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি অবশ্যই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। পিতার মতো তিনিও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সচেতন রয়েছেন এবং দলীয় মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত বলে জানান এই নেতা।

তবে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ জানান, তার ভাতিজারা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি নিজে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি, ভবিষ্যতেও দেবেন না। তিনি বলেন, অবহেলিত ভালুকা তার সময় একটি আধুনিক ভালুকায় রূপান্তরিত হয়েছে। মনোনয়ন পেলে আগামীতেও বিজয়ী হবেন বলে তিনি মনে করেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৯৬৯-এর ১১ দফার আন্দোলন থেকে শুরু করে এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি। আওয়ামী যুবলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বর্তমান এমপি অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহকে ভালুকাবাসী চার বার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। গোলাম মোস্তফা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার সময়ে কাঁচা রাস্তা পাকা করার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে উপজেলা পরিষদের একটি বড় ভবন ও এলাকার প্রায় সব বড় রাস্তার উন্নয়ন করা হয়েছে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে এসব বিবেচনায় নিলে প্রার্থিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের সামাজিক-সাংগঠনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক-পারিবারিক ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রার্থী তৃণমূল পর্যায়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন। কেন্দ্রের সঙ্গেও সংযোগ রক্ষা করছেন তারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা কেবিএম আছমত আলীর ছেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাপুয়া নিউগিনি শাখার তিন বারের নির্বাচিত সভাপতি, পাপুয়া নিউগিনির একাধিক শিল্পকারখানার কর্ণধার ও শিল্পোদ্যোক্তা এম এ ওয়াহেদ এমবিএ, সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন, আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু, সাবেক এমপি, ভাষাসংগ্রামী ও স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম অ্যাডভোকেট মোস্তফা এমএ মতিনের কন্যা সরকারি মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ময়মনসিংহ জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদের দু’বার নির্বাচিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান মনিরা সুলতানা মনি, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আশরাফুল হক জর্জ, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব এবং পরমাণু বিজ্ঞানী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা শফিউল আলম খোকা।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সঠিক না হলে আসন ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের একাংশের মতে, এ আসনের চারবারের এমপি, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্লাহ ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয়ভাবে নানা কারণে বিতর্কিত হতে থাকেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর এই এমপি বার্ধক্যের কারণে সাংগঠনিকভাবেও অনেকটা নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এ সুযোগে তার ভাতিজারা বেপরোয়া হয়ে ওঠায় সাংসদও ইমেজ সংকটে পড়েছেন।

আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বড় দুই দলে নানামুখী বিভক্তি থাকলেও থেমে নেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা। আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে পরিচিত ভালুকায় বর্তমান এমপির কারণে নৌকার সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। অন্যদিকে, দলীয় কোন্দল থাকলেও ভোটের রাজনীতিতে ভালো অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের কোনো নির্বাচনী প্রার্থীর প্রচারণা এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না।