হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাঘ কাঁপা মাঘ আসতে এখনো ৯ দিন বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। মূলত উত্তর দিক থেকে আসা বাতাসে শীতে কাঁপছে সারা দেশ। আর এই শীতে নাকাল দেশবাসী।
দেশের উত্তরাঞ্চলে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ ধেয়ে আসছে রাজধানী ঢাকাসহ মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে। ঢাকায় কয়েকদিনের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। শৈত্যপ্রবাহের আগেই কনকনে শীতে ইতোমধ্যেই কাঁপতে শুরু করেছে দেশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মাসেই ৩টি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা আছে। জানুয়ারিতে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি (৬ ডিগ্রি-৮ ডিগ্রি সে.), একটি তীব্র (৪ ডিগ্রি-৬ ডিগ্রি সে.) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ, অন্যত্র ২ থেকে ৩টি মৃদু (৮ ডিগ্রি ১০ ডিগ্রি সে.) বা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এমনকি কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত থাকার কথাও বলেছে সংস্থাটি। জানুয়ারিতে ঘন কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, এ মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এবং নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালাকা বা মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি কখনো কখনো দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
জানুয়ারির শুরুতেই উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ, দিনাজপুর, ও সৈয়দপুর অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের অন্যান্য স্থানেও বিস্তার লাভ করতে পারে কয়েকদিনের মধ্যে। আগামী ৫ দিনের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরো হ্রাস পাবে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলিসিয়াস কমে যাবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ফলে অস্থায়ীভাবে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।
তিনি জানান, আগামী রোববার পর্যন্ত দেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
দেশের বিভিন্ন জেলার তাপমাত্রার চিত্র দেখেই কনকনে ঠান্ডার চিত্র বুঝা যায়। বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপামাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায়। সেখানে ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঈশ্বরদী ও বদলগাছীতে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ১০ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে বৃষ্টিপাতও হয়েছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামে ১২ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিনিধি জানান, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদী অববাহিকার ৪ শতাধিক চরের মানুষ শীতের তীব্রতায় দুর্ভোগে পড়েছে। গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া পরিবারগুলো গরম কাপড়ের অভাবে পড়েছে বিপাকে। খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই।
স্বল্প আয়ের মানুষেরা ভিড় করছেন পুরাতন কাপড়ের দোকানে। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শিশুদের নানা রোগব্যাধি নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন হতো দরিদ্র পরিবারের লোকজন।
দিনের বেলায় যৎসামান্য সূর্য দেখা গেলেও তা যেন মোটেও উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।
পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা উত্তরের সর্বশেষ জেলা ও হিমালয়ের অনেক কাছে হওয়ায় শীতের তীব্রতা এখানে প্রতি বছরই বেশি হয়। অন্যান্য বছর নভেম্বরের শেষে শীতের দাপট শুরু হলেও এ বছর জানুয়ারির শুরুতে শীতের দাপট শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শীতের প্রথম আঘাত এটি।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ গত সোমবার থেকেই হিমেল বাতাসে নাকাল হচ্ছে। গত মঙ্গলবার থেকে বাতাসের আর্দ্রতা ২৪ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠা-নামা করছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রচণ্ড শীতে গৃহপালিত পশু-পাখিরও প্রাণ ওষ্ঠাগত। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারদিক। রাতে কুয়াশা ঝরছে বৃষ্টির মত।
যারা বলেন, ঢাকা শহরে শীত পড়ে না তাদের মুখে কালি দিতেই যেন রাজধানী ঢাকাতে শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও গত দু’-তিনদিন ধরে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। ছিন্নমূল মানুষ ও রাতের রাজধানীতে বিভিন্ন কাজে দায়িত্বরতরা প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ করছেন।
অনেককেই দেখা গেছে, আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করে নিতে। অনেকেই আবার গায়ে কম্বল চাপিয়েও বাইরে রয়েছেন। গ্রামের ঠাণ্ডার অনুভূতি এখন রাজধানীতেই টের পাওয়া যাচ্ছে।
Reporter Name 





















