ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীতের হিমেল বাতাসে নাকাল হচ্ছে মানুষের জনজীবন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৪৭৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হিমালয়ের পাদদেশের জেলা ঠাকুরগাঁও। গত দুই দিন ধরে হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন।

দিনের বেলায় সূর্য দেখা গেলেও তা যেন মোটেও উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।

পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা উত্তরের সর্বশেষ জেলা ও হিমালয়ের অনেক কাছে হওয়ায় শীতের তীব্রতা এখানে প্রতি বছরই বেশি হয়। অন্যান্য বছর নভেম্বরের শেষে শীতের দাপট শুরু হলেও এ বছর জানুয়ারির শুরুতে শীতের দাপট শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শীতের প্রথম আঘাত এটি।

গত সোমবার থেকেই হিমেল বাতাসে নাকাল হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। গতকাল থেকে বাতাসের আর্দ্রতা ২৪ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র।

প্রচন্ড শীতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু পাখিরও প্রাণ ওষ্ঠাগত। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারদিক । রাতে কুয়াশা ঝরছে বৃষ্টির মতো ।

 

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শীতার্তদের ঠাণ্ডা থেকে বাঁচাতে জেলা প্রশাসন এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার কম্বল পেয়েছে। প্রাপ্ত কম্বল জেলার ৫ উপজেলা ও ৩ পৌর এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ।

অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো কোন ইউনিয়নের গ্রাম পর্যায়ে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়নি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, ‘শীত পালাইলে কি হামাক কম্বল দিবে সরকার।’

এদিকে শীতে বোরোর বীজতলা রক্ষার্থে ইতোমধ্যে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, জেলার শীতার্ত মানুষের শীত নিবারণে ৫০ হাজার পিস কম্বল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত কিছু কম্বল ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জেলার বিত্তবান ব্যক্তিদের শীতার্তদের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের হিমেল বাতাসে নাকাল হচ্ছে মানুষের জনজীবন

আপডেট টাইম : ০৪:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ হিমালয়ের পাদদেশের জেলা ঠাকুরগাঁও। গত দুই দিন ধরে হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের জনজীবন।

দিনের বেলায় সূর্য দেখা গেলেও তা যেন মোটেও উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।

পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা উত্তরের সর্বশেষ জেলা ও হিমালয়ের অনেক কাছে হওয়ায় শীতের তীব্রতা এখানে প্রতি বছরই বেশি হয়। অন্যান্য বছর নভেম্বরের শেষে শীতের দাপট শুরু হলেও এ বছর জানুয়ারির শুরুতে শীতের দাপট শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শীতের প্রথম আঘাত এটি।

গত সোমবার থেকেই হিমেল বাতাসে নাকাল হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। গতকাল থেকে বাতাসের আর্দ্রতা ২৪ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র।

প্রচন্ড শীতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু পাখিরও প্রাণ ওষ্ঠাগত। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারদিক । রাতে কুয়াশা ঝরছে বৃষ্টির মতো ।

 

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শীতার্তদের ঠাণ্ডা থেকে বাঁচাতে জেলা প্রশাসন এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার কম্বল পেয়েছে। প্রাপ্ত কম্বল জেলার ৫ উপজেলা ও ৩ পৌর এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ।

অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনো কোন ইউনিয়নের গ্রাম পর্যায়ে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়নি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, ‘শীত পালাইলে কি হামাক কম্বল দিবে সরকার।’

এদিকে শীতে বোরোর বীজতলা রক্ষার্থে ইতোমধ্যে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগ।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, জেলার শীতার্ত মানুষের শীত নিবারণে ৫০ হাজার পিস কম্বল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত কিছু কম্বল ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জেলার বিত্তবান ব্যক্তিদের শীতার্তদের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।