হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের দেশকে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সাল থেকে অনেক সফলতার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি। এ ধারাবাহিকতায় আরো একটি বছর পার করেছেন তিনি। তবে এ বছর মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়া আসা রোহিঙ্গাতের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছেন সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়:
কয়েক দশক ধরেই প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের মুখে পালিয়ে এসে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ বার বার তাদের ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে এলেও মিয়ানমার তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেও মেনে নিতেও নারাজ। এমন পরিস্থিতির মুখে গেল ২৪ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনাক্যাম্পে হামলার পর সীমান্তে নতুন করে এই রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অশ্রয় নিয়েছে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শেখ হাসিনার পাঁচদফা সুপারিশ করেন। আর ওই সুপারিসগুলো বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ও অলোচিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে জনমত তৈরী হয়।যার ফলশ্রুতিতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চলতি বছরেই চুক্তি করতে বাধ্য হয়।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
২০১৭ সালের সবচেয়ে বড় অর্জন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত হওয়া। এ বছরের ৩০ অক্টাবর প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতর থেকে এ ঘোষনা দেয়া হয় হয়েছিল। এ ঘোষণার পর বাংলাদেশে বয়ে যায় আন্দের বন্যা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা হয়েছিল। ওই সমাবেশ কয়েক লাখ মানুষ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

জঙ্গি দমনে সফলতা:
২০১৭ সালের শুরুর দিক থেকেই দেশে শুরু হয় একের পর এক জঙ্গিবিরোধী অভিযান। ওই অভিযানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযানটি হয় সিলেটের আতিয়া মহলে। সেই অভিযানে সেনাবাহিনীও অংশ নিয়েছিল। এছাড়াও ঢাকা, রাজশাহী, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। বলতে গেলে পুরো বছরজুড়েই কোথাও না কোথাও জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় র্যাব।
এরপর ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান, ১৬ মার্চ একই উপজেলার প্রেমতলা নামক স্থানে আরেক জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু হয়। অভিযানের নাম দেয়া হয় অপারেশন ‘অ্যাসল্ট ১৬’। ওই আস্তানা থেকে ১৮ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়। ১৭ মার্চ শেষ হয় ওই অভিযান। ওই অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়।
২০১৭ সালের ২৫ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহল নামের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলে। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে সোয়াট টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে অভিযান চালায়। এরও পরে ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। ২৮ মার্চ পর্যন্ত চলে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামের ওই অভিযান। অভিযানে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হয়।
২০১৭ সালের ২৯ মার্চ মৌলভীবাজার জেলায় দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। সদর উপজেলার নাসিরপুরের আস্তানায় পরিচালিত অভিযানের নাম দেয়া হয় অপারেশন ‘হিট ব্যাক’। এতে চার শিশু, দুই নারীসহ সাত জন নিহত হয়।
২০১৭ সালের ২৯ মার্চ কুমিল্লা শহরে আরো একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। ৩১ মার্চ ওই আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’। তবে এখানে কোনো জঙ্গির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
২১ এপ্রিল ঝিনাইদহের পোড়াহাটি উপজেলায়, ৭ মে একই জেলার মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর হঠাৎপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান, ১৬ মে ফের ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গায় দুটি জঙ্গি আস্তানা, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার জন্যই হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে অবস্থান নিয়েছিল নিলয়। কিন্তু পুলিশ তা নস্যাৎ করে দেয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডের পাশে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দক্ষিণে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলিতে ২/৩/বি নম্বর বাড়িটিতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান, ৯ অক্টোবর যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার একটি বাড়ি থেকে হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম হোতা মারজানের বোন খাদিজাকে আটক করা হয়। ২৩ অক্টোবর যশোর শহরতলীর পাগলাদহ এলাকার একটি বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশ। ২৮ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর আলাতলীতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সেগুলে দক্ষতার সাথে অভিযান চালিয়েছিল তারা। এতে জঙ্গিবাদ অনেকটা দমন করা সম্ভব হয়েছিল।
দৃশ্যমান পদ্মাসেতু:
দেশের বৃহত্তম স্থাপনা পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান স্থাপনের ঘটনায় উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২ অক্টোবর প্রথম স্প্যান স্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি, আমরা পারি। আমি এখন খুবই আনন্দিত’। তিনি জানিয়েছিলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের মিথ্যা অভিযোগে পদ্মাসেতু নির্মাণে ঋণ দেয়া থেকে বিশ্ব ব্যাংক সরে যায়। পরে নিজ অর্থায়নে পদ্মাসেতুর মতো এমন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। এটা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ, নিজ অর্থায়নে এ ধরনের বড় প্রজেক্ট বাংলাদেশের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। কেননা এর সঙ্গে বাংলাদেশের ইমেজ জড়িত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধন:
২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ৮ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিন তলাবিশিষ্ট চার লেনের এই ফ্লাইওভারটি ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। এর নিচে বিভিন্ন জায়গায় আটটি বড় মোড় ও তিনটি রেলক্রসিং রয়েছে। ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ হাজার ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর প্রতি মিটারে খরচ হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। অবশেষে গত ২৬ অক্টোবর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয় মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডিজিটালি এ ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়াও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সকল বৃত্ত ভেঙে রেকর্ড পরিমাণে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট ও প্রথমবারের মত সেীরবিদ্যুৎ।
দেশের উদীয়মান তথ্য প্রযুক্তি খাত থেকে ২০১৮ সালে এক বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় লক্ষমাত্রা থাকলেও ২০১৭ সালেই তা অর্জনের দারপ্রান্তে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ যা ছিল অবিশ্বাস্য। ২০১৬ সালে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৮০ কোটি ডলার।
এছাড়া যশোরে দেশের প্রথম আইটি পার্ক যা শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক) নামেও পরিচিত যেখানে প্রায় ২০০০০ তরুনের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে তার যাত্রা শুরু হয়। আরও ছিল ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সুচনার প্রথম সফলতা বিশ্বের প্রথম মানবিক রোবটের বাংলাদেশে আগমন যার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুনদের মাঝে অত্যাধুনিক রোবট নির্মানের দ্বার উম্মোচিত হয়।
এমনকি ২০১৭ সালের মার্চ মাসেই প্রথমবারের মত চীনের কাছ থেকে কেনা দুটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। ‘নবযাত্রা’ এবং ‘জয়যাত্রা’ নামের দুটি সাবমেরিন টর্পেডো এবং মাইন দ্বারা সুসজ্জিত, যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে আক্রমণ করতে সক্ষম।বাংলাদেশ নৌবাহিনী আগে দ্বিমাত্রিক ছিল। দুটি ডাইমেনশনে তারা কাজ করতে পারতো।। নৌবাহিনীর ফ্লিটে নতুন দুটি সাবমেরিন যোগ হওয়ার ফলে নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক শক্তি হিসেবে যাত্রা শুরু করলো।
এদিকে রাজনৈতিকভাবেও অনেকটা সফল হয়ছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। তিনি তৃণমুল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নেতাদের নাম ঘোষণা করেছেন।এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেত্বতেই। এতেও সাধারণ মানুষ অনেকটা স্বস্থি পেয়েছিল।
Reporter Name 






















