ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন প্রধানমন্ত্রী দেশকে তাঁর পিতার মতোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন : ভূমিমন্ত্রী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় মেসি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার জাতীয় পতাকা বিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানালো বাংলাদেশ ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কুশল বিনিময়

ঝিনাইগাতীর খানবাড়ী মসজিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মে ২০১৭
  • ৩৮১ বার

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মুসলিম স্থাপত্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন খানবাড়ী জামে মসজিদ। শেরপুর জেলা সদর থেকে ১২ কিমি উত্তরে ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের ঘাগড়া লস্করপাড়া গ্রামে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের অপূর্ব কারুকার্য সবাইকে মুগ্ধ করে। স্থানীয় প্রবীণ লোকজন ও ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর তার যোদ্ধারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। এদেরই একজন আজিমোল্লাহ খান। তিনি এখানে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। আজিমোল্লাহ খান পালিয়ে এসে এখানে বসবাস করতেন বলে তার আরেকটি নাম ছিল ‘পলায়ন খাঁ’। মসজিদটির সামনে স্থাপিত ফলক অনুযায়ী, এটি ১২২৮ হিজরি সনে প্রতিষ্ঠিত। পরবর্তীতে মসজিদটি পুনঃসংস্কারের সময় নাম ফলকে আজিমোল্লাহ খানের দুই পুত্র আফজাল খান ও গোলাপ খানের নাম লেখা হয়। মসজিদটি নির্মাণশৈলী খুবই মনোরম। এটি প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের অনুপম নিদর্শন। এ মসজিদ বর্গাকারের, যার দৈর্ঘ্য ২৭ ফুট ও প্রস্থ ২৭ ফুট। পূর্বদিকে একটি মাত্র প্রবেশ পথ। ওপরে পুরো ছাদই একটি মাত্র গম্বুজ দ্বারা তৈরি। এ ছাড়া ৪ কোণে চারটিসহ মোট গম্বুজ সংখ্যা ১২টি। গম্বুজগুলো নিপুণভাবে তৈরি। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি ৪ ফুট পাশ, যা চুন ও সুরকি দিয়ে গাঁথা। ভেতরে সুন্দর কারুকার্য করা নকশা। এতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে কিছু কাজ করা হয়েছে। বাইরের চারপাশে দেয়াল রয়েছে। সম্মুখে কিছু জায়গা পাকা করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইনে মসজিদটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে বহুবার পরিদর্শন করা হয়েছে মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। এ মসজিদটি দেখার জন্য বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসছেন। এই ঐতিহাসিক প্রাচীনতম নিদর্শন খানবাড়ী জামে মসজিদটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন

ঝিনাইগাতীর খানবাড়ী মসজিদ

আপডেট টাইম : ১২:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মে ২০১৭

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মুসলিম স্থাপত্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন খানবাড়ী জামে মসজিদ। শেরপুর জেলা সদর থেকে ১২ কিমি উত্তরে ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের ঘাগড়া লস্করপাড়া গ্রামে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের অপূর্ব কারুকার্য সবাইকে মুগ্ধ করে। স্থানীয় প্রবীণ লোকজন ও ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর তার যোদ্ধারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। এদেরই একজন আজিমোল্লাহ খান। তিনি এখানে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। আজিমোল্লাহ খান পালিয়ে এসে এখানে বসবাস করতেন বলে তার আরেকটি নাম ছিল ‘পলায়ন খাঁ’। মসজিদটির সামনে স্থাপিত ফলক অনুযায়ী, এটি ১২২৮ হিজরি সনে প্রতিষ্ঠিত। পরবর্তীতে মসজিদটি পুনঃসংস্কারের সময় নাম ফলকে আজিমোল্লাহ খানের দুই পুত্র আফজাল খান ও গোলাপ খানের নাম লেখা হয়। মসজিদটি নির্মাণশৈলী খুবই মনোরম। এটি প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের অনুপম নিদর্শন। এ মসজিদ বর্গাকারের, যার দৈর্ঘ্য ২৭ ফুট ও প্রস্থ ২৭ ফুট। পূর্বদিকে একটি মাত্র প্রবেশ পথ। ওপরে পুরো ছাদই একটি মাত্র গম্বুজ দ্বারা তৈরি। এ ছাড়া ৪ কোণে চারটিসহ মোট গম্বুজ সংখ্যা ১২টি। গম্বুজগুলো নিপুণভাবে তৈরি। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি ৪ ফুট পাশ, যা চুন ও সুরকি দিয়ে গাঁথা। ভেতরে সুন্দর কারুকার্য করা নকশা। এতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে কিছু কাজ করা হয়েছে। বাইরের চারপাশে দেয়াল রয়েছে। সম্মুখে কিছু জায়গা পাকা করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইনে মসজিদটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে বহুবার পরিদর্শন করা হয়েছে মসজিদটি। বর্তমানে মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। এ মসজিদটি দেখার জন্য বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসছেন। এই ঐতিহাসিক প্রাচীনতম নিদর্শন খানবাড়ী জামে মসজিদটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।