ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মদনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পৌর যুবদলের আনন্দ র‌্যালি বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা

মতিঝিলে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলা চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০১৭
  • ৩৪১ বার

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদের স্বীকৃতির সঙ্গে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন দুই জন মন্ত্রী। আর ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় করা মামলাগুলো স্বাভাবিক নিয়মে চলবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনায় এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামি পার্টি এই আলোচনার আয়োজন করে। এই আলোচনায় অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামও। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, হেফাজতের সঙ্গে নয়।

গত ১১ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ আলেমরা। তাদের একটি বড় অংশ আবার ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতের সঙ্গে জড়িত।

ওই অনুষ্ঠানে কওমি সনদের স্বীকৃতির দাবি ছাড়াও আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে করার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তবে কওমির সবচেয়ে বড় ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে আলেমদের দাবি মেনে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি। পরে এ বিষয়ে দুই জনের মধ্যে কথাও হয়।

ওই বৈঠকের পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয় সরকার হেফাজতের সঙ্গে আপস করেছে কি না।

নারী নীতি বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা হেফাজতে ইসলাম নামে সংগঠন গড়ে তোলেন। তবে তারা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তিন বছর পর। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালে নানা কর্মসূচি পালন করে তারা। ওই বছরের ৫ মে রাজধানী অবরোধ কর্মসূচি দেয় তারা।

সেদিন হেফাজত কর্মীরা রাজধানী অবরোধ শেষে নগরীর কেন্দ্রস্থল শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। সহিংস বিক্ষোভে দিনভর ব্যাপক হাঙ্গামা হয়। হামলা হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, সড়ক বিভাজকের গাছ কেটে আগুন ধরিয়ে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে তাণ্ডব তৈরি করে হেফাজত কর্মীরা। তাদের দাবি পূরণ না হলে শাপলা চত্বর না ছাড়ার ঘোষণাও দেয় তারা। পরে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পিছু হটে হেফাজত কর্মীরা।

ওই অভিযানের পর হাজার হাজার মানুষকে হত্যার গুজব ছড়ানো হয়। কিন্তু পরে কোনো নাম দিতে পারেনি হেফাজতে ইসলামী। বরং জীবিত কয়েকজনের নাম ছড়ানোর বিষয়টি প্রমাণ হয়। তবে হাজার হাজার মানুষ নিহতের প্রচারে সে সময় ভীষণ চাপে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকার এবং দেশের পাঁচ মহানগরে নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরে যায় সরকার সমর্থকরা।

শাপলা চত্বর থেকে উচ্ছেদের পরদিন নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়। এসব ঘটনায় হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। এসব মামলা এখনও চলছে।

হেফাজত নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উঠা দাবি মেনে নিয়ে এসব মামলা তুলে নেয়া হবে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব মামলা প্রত্যাহারের প্রশ্নই উঠে না। তিনি বলেন, ‘হেফাজতের সাথে সরকারের কোন আপস হয়নি। হেফাজতের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে সেগুলে আইন অনুযায়ী চলবে।’

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির ব্যপারে মন্ত্রী বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অনেক আগেই কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ধর্ম সম্পর্কে না জেনে অনেকেই মন্তব্য করেন।’

এর আগে আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কখনো জঙ্গি হতে পারে না। তিনি বলেন, জঙ্গিরা আলেম ওলামাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিরা শুধু মানুষ হত্যা নয়, নিজেদেরকেও উড়িয়ে দিচ্ছে। এরা কারা, এদের আশ্রয়, প্রশ্রয়দাতা কারা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

কামাল বলেন, হলি আর্টিজানসহ কোথাও কিছু ঘটলে একটি গ্রুপ দায় স্বীকার করে। আইএস এসব হামলার দায় স্বীকার করলেও বাংলাদেশের কোথাও এর চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পৌর যুবদলের আনন্দ র‌্যালি

মতিঝিলে হেফাজতের তাণ্ডবের মামলা চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৫:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০১৭

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদের স্বীকৃতির সঙ্গে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন দুই জন মন্ত্রী। আর ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় করা মামলাগুলো স্বাভাবিক নিয়মে চলবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনায় এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামি পার্টি এই আলোচনার আয়োজন করে। এই আলোচনায় অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামও। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, হেফাজতের সঙ্গে নয়।

গত ১১ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ আলেমরা। তাদের একটি বড় অংশ আবার ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতের সঙ্গে জড়িত।

ওই অনুষ্ঠানে কওমি সনদের স্বীকৃতির দাবি ছাড়াও আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে করার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তবে কওমির সবচেয়ে বড় ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে আলেমদের দাবি মেনে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি। পরে এ বিষয়ে দুই জনের মধ্যে কথাও হয়।

ওই বৈঠকের পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয় সরকার হেফাজতের সঙ্গে আপস করেছে কি না।

নারী নীতি বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা হেফাজতে ইসলাম নামে সংগঠন গড়ে তোলেন। তবে তারা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তিন বছর পর। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালে নানা কর্মসূচি পালন করে তারা। ওই বছরের ৫ মে রাজধানী অবরোধ কর্মসূচি দেয় তারা।

সেদিন হেফাজত কর্মীরা রাজধানী অবরোধ শেষে নগরীর কেন্দ্রস্থল শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। সহিংস বিক্ষোভে দিনভর ব্যাপক হাঙ্গামা হয়। হামলা হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, সড়ক বিভাজকের গাছ কেটে আগুন ধরিয়ে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে তাণ্ডব তৈরি করে হেফাজত কর্মীরা। তাদের দাবি পূরণ না হলে শাপলা চত্বর না ছাড়ার ঘোষণাও দেয় তারা। পরে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পিছু হটে হেফাজত কর্মীরা।

ওই অভিযানের পর হাজার হাজার মানুষকে হত্যার গুজব ছড়ানো হয়। কিন্তু পরে কোনো নাম দিতে পারেনি হেফাজতে ইসলামী। বরং জীবিত কয়েকজনের নাম ছড়ানোর বিষয়টি প্রমাণ হয়। তবে হাজার হাজার মানুষ নিহতের প্রচারে সে সময় ভীষণ চাপে পড়ে আওয়ামী লীগ সরকার এবং দেশের পাঁচ মহানগরে নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরে যায় সরকার সমর্থকরা।

শাপলা চত্বর থেকে উচ্ছেদের পরদিন নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়। এসব ঘটনায় হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। এসব মামলা এখনও চলছে।

হেফাজত নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উঠা দাবি মেনে নিয়ে এসব মামলা তুলে নেয়া হবে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব মামলা প্রত্যাহারের প্রশ্নই উঠে না। তিনি বলেন, ‘হেফাজতের সাথে সরকারের কোন আপস হয়নি। হেফাজতের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে সেগুলে আইন অনুযায়ী চলবে।’

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির ব্যপারে মন্ত্রী বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অনেক আগেই কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ধর্ম সম্পর্কে না জেনে অনেকেই মন্তব্য করেন।’

এর আগে আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কখনো জঙ্গি হতে পারে না। তিনি বলেন, জঙ্গিরা আলেম ওলামাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিরা শুধু মানুষ হত্যা নয়, নিজেদেরকেও উড়িয়ে দিচ্ছে। এরা কারা, এদের আশ্রয়, প্রশ্রয়দাতা কারা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

কামাল বলেন, হলি আর্টিজানসহ কোথাও কিছু ঘটলে একটি গ্রুপ দায় স্বীকার করে। আইএস এসব হামলার দায় স্বীকার করলেও বাংলাদেশের কোথাও এর চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।