ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নূর হোসেনের সাবেক গার্লফ্রেন্ড নীলা যা বললেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৭
  • ৫৪০ বার

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামি নূর হোসেনের সাবেক গার্লফ্রেন্ড জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা যেন এখন দু-কুল হারাতে বসেছেন। সাবেক স্বামী সায়েম প্রধানের সঙ্গে তালাক হয়ে গেছে। এর মধ্যে শেষ ভরসা ছিল নূর হোসেন। নূর হোসেনের ফাঁসির রায় হয়েছে গতকাল। এ ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অনেকটা চটে যান তিনি। এক সময় নূর হোসেনের প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া নীলা এখন নূর হোসেন সম্পর্কে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল দুপুরে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা বলেন, ওর (নূর হোসেনের) কারণেই আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন। ওরা অপরাধ করার কারণেই ওদের ফাঁসি হয়েছে। এতে আমি আর কী বলব? আমাকে নিয়ে সাংবাদিকরা অনেক কিছু লিখেছেন। আর লিখে কি হবে? আপনারা যা ইচ্ছে লিখেন, আমি এর কোনো প্রতিবাদ করব না। খবর বাংলাদেশ প্রতিদিন’র।

জানা গেছে, নীলা নূর হোসেনের সহযোগিতায় ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিকের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে আলোচনায় আসেন তিনি। নীলাকে ২৭ লাখ টাকা দিয়ে একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন নূর হোসেন। বাড়িতে দিয়েছেন দামি আসবাবপত্র। নূর হোসেনের স্ত্রী পরিচয়ে বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি। কেন্দ্রীয় বেশ ক’জন রাজনীতিক নেতা এবং প্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন নীলা। এ সময় নীলাকে অনেক বেশি মূল্যায়ন করত নূর হোসেন। তাদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল ব্যাপক। কিন্তু যে যা-ই বলত তেমন একটা গায়ে মাখেননি নূর ও নীলা। এক সময় স্বামী সায়েম প্রধানকে ছেড়ে নূর হোসেনের কব্জায় চলে যান নীলা। স্বাভাবিকভাবেই তারা একসঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের বাইরে। কিন্তু এক সময় তাদের সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এ নিয়ে স্বামী সায়েমের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে ২০১৩ সালের ২৫ জুন সায়েমের সঙ্গে নীলার তালাক হয়। সাত খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০১৪ সালের ১৮ মে নীলাকে আটক করে পুলিশ। তবে পরদিনই তাকে ছেড়ে দেয়। ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি থেকে জুয়েল নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় এক আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার সঙ্গে নীলার জড়িত থাকার কথা বলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৬ মে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন নীলা। প্রায় আড়াই মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। সায়েম প্রধান জানান, কারাভোগের সময়ে নীলা তার কাছে আবার ফিরে যাওয়ার আকুতি-মিনতি করলে সন্তানের দিকে তাকিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে নীলাকে জামিনে বের করে আনেন। কিছুদিন তার সঙ্গে ভালোভাবেই নীলার দিন কাটে। ২০১৪ সালে ঈদুল আজহার ছুটিতে নীলা ও সায়েমসহ পরিবারের লোকজনকে কক্সবাজারে অবকাশ কাটাতে দেখা গেছে। ওই সময়ে নীলার সঙ্গে সায়েমের ঘনিষ্ঠ ছবিও ফেসবুকে আপলোড করেন নীলা। কিন্তু কিছুদিন আগে সায়েমের সঙ্গে আবারও নীলার বিরোধ দেখা দেয়। এরই জের ধরে ২০১৫ সালে ২৪ আগস্ট স্বামী সায়েমকে মারধর করে এবং ওই দিনই তাকে তালাক দেন নীলা। তখন থেকেই নীলা একাকী জীবনযাপন করছেন। গত ২২ ডিসেম্বর নাসিক নির্বাচনে নীলা অংশ নিতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের পরে যাওয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি নীলা। তখনো প্রতিক্রিয়ায় নীলা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ

নূর হোসেনের সাবেক গার্লফ্রেন্ড নীলা যা বললেন

আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৭

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামি নূর হোসেনের সাবেক গার্লফ্রেন্ড জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা যেন এখন দু-কুল হারাতে বসেছেন। সাবেক স্বামী সায়েম প্রধানের সঙ্গে তালাক হয়ে গেছে। এর মধ্যে শেষ ভরসা ছিল নূর হোসেন। নূর হোসেনের ফাঁসির রায় হয়েছে গতকাল। এ ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অনেকটা চটে যান তিনি। এক সময় নূর হোসেনের প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া নীলা এখন নূর হোসেন সম্পর্কে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল দুপুরে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা বলেন, ওর (নূর হোসেনের) কারণেই আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন। ওরা অপরাধ করার কারণেই ওদের ফাঁসি হয়েছে। এতে আমি আর কী বলব? আমাকে নিয়ে সাংবাদিকরা অনেক কিছু লিখেছেন। আর লিখে কি হবে? আপনারা যা ইচ্ছে লিখেন, আমি এর কোনো প্রতিবাদ করব না। খবর বাংলাদেশ প্রতিদিন’র।

জানা গেছে, নীলা নূর হোসেনের সহযোগিতায় ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিকের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে আলোচনায় আসেন তিনি। নীলাকে ২৭ লাখ টাকা দিয়ে একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন নূর হোসেন। বাড়িতে দিয়েছেন দামি আসবাবপত্র। নূর হোসেনের স্ত্রী পরিচয়ে বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি। কেন্দ্রীয় বেশ ক’জন রাজনীতিক নেতা এবং প্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন নীলা। এ সময় নীলাকে অনেক বেশি মূল্যায়ন করত নূর হোসেন। তাদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল ব্যাপক। কিন্তু যে যা-ই বলত তেমন একটা গায়ে মাখেননি নূর ও নীলা। এক সময় স্বামী সায়েম প্রধানকে ছেড়ে নূর হোসেনের কব্জায় চলে যান নীলা। স্বাভাবিকভাবেই তারা একসঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের বাইরে। কিন্তু এক সময় তাদের সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এ নিয়ে স্বামী সায়েমের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে ২০১৩ সালের ২৫ জুন সায়েমের সঙ্গে নীলার তালাক হয়। সাত খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০১৪ সালের ১৮ মে নীলাকে আটক করে পুলিশ। তবে পরদিনই তাকে ছেড়ে দেয়। ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি থেকে জুয়েল নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় এক আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার সঙ্গে নীলার জড়িত থাকার কথা বলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৬ মে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন নীলা। প্রায় আড়াই মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। সায়েম প্রধান জানান, কারাভোগের সময়ে নীলা তার কাছে আবার ফিরে যাওয়ার আকুতি-মিনতি করলে সন্তানের দিকে তাকিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে নীলাকে জামিনে বের করে আনেন। কিছুদিন তার সঙ্গে ভালোভাবেই নীলার দিন কাটে। ২০১৪ সালে ঈদুল আজহার ছুটিতে নীলা ও সায়েমসহ পরিবারের লোকজনকে কক্সবাজারে অবকাশ কাটাতে দেখা গেছে। ওই সময়ে নীলার সঙ্গে সায়েমের ঘনিষ্ঠ ছবিও ফেসবুকে আপলোড করেন নীলা। কিন্তু কিছুদিন আগে সায়েমের সঙ্গে আবারও নীলার বিরোধ দেখা দেয়। এরই জের ধরে ২০১৫ সালে ২৪ আগস্ট স্বামী সায়েমকে মারধর করে এবং ওই দিনই তাকে তালাক দেন নীলা। তখন থেকেই নীলা একাকী জীবনযাপন করছেন। গত ২২ ডিসেম্বর নাসিক নির্বাচনে নীলা অংশ নিতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের পরে যাওয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি নীলা। তখনো প্রতিক্রিয়ায় নীলা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।