ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালামকে কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ “ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন” মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ: রাজনীতি ও শিল্পে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন

এই মন্দিরে একরাত কাটালেই গর্ভবতী হয়ে পড়েন নারীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬
  • ৩৯৬ বার

বৈচিত্রের দেশ ভারত— সে শুধু সংস্কৃতি বা ভাষাগত বৈচিত্র নয়, বিশ্বাস ও আস্থার বৈচিত্রও। বহু ধরনের বিচিত্র বিশ্বাস ভারতে প্রচলিত রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে একেবারে ভিত্তিহীন বলে মনে হতে পারে। সেই রকমই এক বিশ্বাস গড়ে উঠেছে হিমাচল প্রদেশের সিমসা মাতা মন্দিরকে কেন্দ্র করে। বলা হয়, এই মন্দিরে এক রাত্রি কাটালেই নাকি নিঃসন্তান মহিলারা গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

হিমাচল প্রদেশের মন্ডি জেলার অন্তর্গত লাড়াভাদোল তহশিলে সিমসা মাতা মন্দিরের অবস্থান। কিন্তু শুধু হিমাচল নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্য পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই মন্দির প্রসিদ্ধ সন্তানদাত্রী মন্দির হিসেবে। কারণ মানুষের বিশ্বাস, এই মন্দিরে শতরঞ্জি পেতে শুয়ে থাকলে দৈবী কৃপায় সন্তান লাভ করেন নিঃসন্তান মহিলারা।

কী ভাবে কার্যকর হয় এই দৈবী কৃপা? নবরাত্রির সময়ে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে পালিত হয় বিশেষ উৎসব। ওই এলাকায় উৎসবটি পরিচিত সলিন্দরা নামে। স্থানীয়

ভাষায় ‘সলিন্দরা’ শব্দের অর্থ স্বপ্ন পাওয়া। এই উৎসবের সময়েই নিঃসন্তান দম্পতিরা আসেন এই মন্দিরে। পুরুষ নয়, শুধুমাত্র সন্তানাকাঙ্ক্ষী মহিলারা এই মন্দির চত্বরে শতরঞ্জি পেতে শুয়ে থাকেন দিনরাত। বলা হয়, দু’-এক রাত্রি শুয়ে থাকার পরেই মহিলাদের স্বপ্নের মাধ্যমে আশীর্বাদ করেন দেবী সিমসা মাতা। তার কৃপাতেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরে স্বপ্নপ্রাপ্ত মহিলাদের গর্ভসঞ্চার হয়।

অবশ্য এই মন্দিরে শুলেই যে দেবীর আশীর্বাদসূচক স্বপ্নদর্শন সম্ভব হবে, তা নয়। এমনকী স্বপ্ন দেখলেই যে সন্তানলাভ হবে, এমনটাও নয়। বলা হয়, দেবী যে স্বপ্ন দেন, তা হয় প্রতীকী ইঙ্গিতবাহী। সেই প্রতীকের অর্থোদ্ধার করতে পারলেই জানা সম্ভব, কোনও মহিলা সন্তান লাভ করবেন কি না। এমনকী আসন্ন সন্তানটি ছেলে হবে নাকি মেয়ে— তা-ও নাকি জেনে ফেলা সম্ভব।

কী রকম? বলা হয়, কোনও মহিলা যদি স্বপ্নে আম দেখেন, তা হলে তার পুত্রসন্তান হবে। আবার কোনও মহিলা যদি স্বপ্নে দেখেন ঢ্যাঁড়শ, তা হলে তিনি কন্যাসন্তানের জননী হবেন। আর যদি স্বপ্নে কোনও পাথর, ধাতু বা কাঠের টুকরো কিংবা এই সমস্ত উপাদানে তৈরি কোনও জিনিসের দর্শন মেলে, তা হলে সেই মহিলাকে সারা জীবন নিঃসন্তান থাকতে হবে।

এই সমস্ত বিশ্বাসের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যে নেই, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ভক্তেরা অতশত ব্যাখ্যার ধার ধারেন না। তাদের বিশ্বাসই সম্বল। গত নবরাত্রিতে যেমন মন্দির চত্বরে দেখা মিলল পাঞ্জাব থেকে আগত চঞ্চল কুমারীর। তিনি এসেছেন তার সন্তানহীন ননদকে নিয়ে। তিনি বললেন, ‘দু-বছর আগে এই মন্দিরে শুয়েই আমার ছেলে হয়। এ বার তাই নিয়ে এসেছি আমার ননদকে।’

সিমসা মাতা মন্দিরে বিস্ময়ের সামগ্রী আরও রয়েছে। মন্দিরের পাশেই দেখা মেলে একটি বিশালাকার পাথরের। বলা হয়, এই পাথরটিকে দু’হাতে প্রাণপণ ঠেলেএ একচুল নড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু ডান হাতের কড়ে আঙুলের সাহায্যে সামান্য ঠেললেই নাকি হেলে যায় পাথরটি। স্থানীয়রা তাই পাথরটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন। এবেলা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালামকে কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সংবর্ধনা

এই মন্দিরে একরাত কাটালেই গর্ভবতী হয়ে পড়েন নারীরা

আপডেট টাইম : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬

বৈচিত্রের দেশ ভারত— সে শুধু সংস্কৃতি বা ভাষাগত বৈচিত্র নয়, বিশ্বাস ও আস্থার বৈচিত্রও। বহু ধরনের বিচিত্র বিশ্বাস ভারতে প্রচলিত রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে একেবারে ভিত্তিহীন বলে মনে হতে পারে। সেই রকমই এক বিশ্বাস গড়ে উঠেছে হিমাচল প্রদেশের সিমসা মাতা মন্দিরকে কেন্দ্র করে। বলা হয়, এই মন্দিরে এক রাত্রি কাটালেই নাকি নিঃসন্তান মহিলারা গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

হিমাচল প্রদেশের মন্ডি জেলার অন্তর্গত লাড়াভাদোল তহশিলে সিমসা মাতা মন্দিরের অবস্থান। কিন্তু শুধু হিমাচল নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্য পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই মন্দির প্রসিদ্ধ সন্তানদাত্রী মন্দির হিসেবে। কারণ মানুষের বিশ্বাস, এই মন্দিরে শতরঞ্জি পেতে শুয়ে থাকলে দৈবী কৃপায় সন্তান লাভ করেন নিঃসন্তান মহিলারা।

কী ভাবে কার্যকর হয় এই দৈবী কৃপা? নবরাত্রির সময়ে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে পালিত হয় বিশেষ উৎসব। ওই এলাকায় উৎসবটি পরিচিত সলিন্দরা নামে। স্থানীয়

ভাষায় ‘সলিন্দরা’ শব্দের অর্থ স্বপ্ন পাওয়া। এই উৎসবের সময়েই নিঃসন্তান দম্পতিরা আসেন এই মন্দিরে। পুরুষ নয়, শুধুমাত্র সন্তানাকাঙ্ক্ষী মহিলারা এই মন্দির চত্বরে শতরঞ্জি পেতে শুয়ে থাকেন দিনরাত। বলা হয়, দু’-এক রাত্রি শুয়ে থাকার পরেই মহিলাদের স্বপ্নের মাধ্যমে আশীর্বাদ করেন দেবী সিমসা মাতা। তার কৃপাতেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরে স্বপ্নপ্রাপ্ত মহিলাদের গর্ভসঞ্চার হয়।

অবশ্য এই মন্দিরে শুলেই যে দেবীর আশীর্বাদসূচক স্বপ্নদর্শন সম্ভব হবে, তা নয়। এমনকী স্বপ্ন দেখলেই যে সন্তানলাভ হবে, এমনটাও নয়। বলা হয়, দেবী যে স্বপ্ন দেন, তা হয় প্রতীকী ইঙ্গিতবাহী। সেই প্রতীকের অর্থোদ্ধার করতে পারলেই জানা সম্ভব, কোনও মহিলা সন্তান লাভ করবেন কি না। এমনকী আসন্ন সন্তানটি ছেলে হবে নাকি মেয়ে— তা-ও নাকি জেনে ফেলা সম্ভব।

কী রকম? বলা হয়, কোনও মহিলা যদি স্বপ্নে আম দেখেন, তা হলে তার পুত্রসন্তান হবে। আবার কোনও মহিলা যদি স্বপ্নে দেখেন ঢ্যাঁড়শ, তা হলে তিনি কন্যাসন্তানের জননী হবেন। আর যদি স্বপ্নে কোনও পাথর, ধাতু বা কাঠের টুকরো কিংবা এই সমস্ত উপাদানে তৈরি কোনও জিনিসের দর্শন মেলে, তা হলে সেই মহিলাকে সারা জীবন নিঃসন্তান থাকতে হবে।

এই সমস্ত বিশ্বাসের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যে নেই, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ভক্তেরা অতশত ব্যাখ্যার ধার ধারেন না। তাদের বিশ্বাসই সম্বল। গত নবরাত্রিতে যেমন মন্দির চত্বরে দেখা মিলল পাঞ্জাব থেকে আগত চঞ্চল কুমারীর। তিনি এসেছেন তার সন্তানহীন ননদকে নিয়ে। তিনি বললেন, ‘দু-বছর আগে এই মন্দিরে শুয়েই আমার ছেলে হয়। এ বার তাই নিয়ে এসেছি আমার ননদকে।’

সিমসা মাতা মন্দিরে বিস্ময়ের সামগ্রী আরও রয়েছে। মন্দিরের পাশেই দেখা মেলে একটি বিশালাকার পাথরের। বলা হয়, এই পাথরটিকে দু’হাতে প্রাণপণ ঠেলেএ একচুল নড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু ডান হাতের কড়ে আঙুলের সাহায্যে সামান্য ঠেললেই নাকি হেলে যায় পাথরটি। স্থানীয়রা তাই পাথরটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন। এবেলা