ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

এই মন্দিরে একরাত কাটালেই গর্ভবতী হয়ে পড়েন নারীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬
  • ৪০১ বার

বৈচিত্রের দেশ ভারত— সে শুধু সংস্কৃতি বা ভাষাগত বৈচিত্র নয়, বিশ্বাস ও আস্থার বৈচিত্রও। বহু ধরনের বিচিত্র বিশ্বাস ভারতে প্রচলিত রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে একেবারে ভিত্তিহীন বলে মনে হতে পারে। সেই রকমই এক বিশ্বাস গড়ে উঠেছে হিমাচল প্রদেশের সিমসা মাতা মন্দিরকে কেন্দ্র করে। বলা হয়, এই মন্দিরে এক রাত্রি কাটালেই নাকি নিঃসন্তান মহিলারা গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

হিমাচল প্রদেশের মন্ডি জেলার অন্তর্গত লাড়াভাদোল তহশিলে সিমসা মাতা মন্দিরের অবস্থান। কিন্তু শুধু হিমাচল নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্য পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই মন্দির প্রসিদ্ধ সন্তানদাত্রী মন্দির হিসেবে। কারণ মানুষের বিশ্বাস, এই মন্দিরে শতরঞ্জি পেতে শুয়ে থাকলে দৈবী কৃপায় সন্তান লাভ করেন নিঃসন্তান মহিলারা।

কী ভাবে কার্যকর হয় এই দৈবী কৃপা? নবরাত্রির সময়ে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে পালিত হয় বিশেষ উৎসব। ওই এলাকায় উৎসবটি পরিচিত সলিন্দরা নামে। স্থানীয়

ভাষায় ‘সলিন্দরা’ শব্দের অর্থ স্বপ্ন পাওয়া। এই উৎসবের সময়েই নিঃসন্তান দম্পতিরা আসেন এই মন্দিরে। পুরুষ নয়, শুধুমাত্র সন্তানাকাঙ্ক্ষী মহিলারা এই মন্দির চত্বরে শতরঞ্জি পেতে শুয়ে থাকেন দিনরাত। বলা হয়, দু’-এক রাত্রি শুয়ে থাকার পরেই মহিলাদের স্বপ্নের মাধ্যমে আশীর্বাদ করেন দেবী সিমসা মাতা। তার কৃপাতেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরে স্বপ্নপ্রাপ্ত মহিলাদের গর্ভসঞ্চার হয়।

অবশ্য এই মন্দিরে শুলেই যে দেবীর আশীর্বাদসূচক স্বপ্নদর্শন সম্ভব হবে, তা নয়। এমনকী স্বপ্ন দেখলেই যে সন্তানলাভ হবে, এমনটাও নয়। বলা হয়, দেবী যে স্বপ্ন দেন, তা হয় প্রতীকী ইঙ্গিতবাহী। সেই প্রতীকের অর্থোদ্ধার করতে পারলেই জানা সম্ভব, কোনও মহিলা সন্তান লাভ করবেন কি না। এমনকী আসন্ন সন্তানটি ছেলে হবে নাকি মেয়ে— তা-ও নাকি জেনে ফেলা সম্ভব।

কী রকম? বলা হয়, কোনও মহিলা যদি স্বপ্নে আম দেখেন, তা হলে তার পুত্রসন্তান হবে। আবার কোনও মহিলা যদি স্বপ্নে দেখেন ঢ্যাঁড়শ, তা হলে তিনি কন্যাসন্তানের জননী হবেন। আর যদি স্বপ্নে কোনও পাথর, ধাতু বা কাঠের টুকরো কিংবা এই সমস্ত উপাদানে তৈরি কোনও জিনিসের দর্শন মেলে, তা হলে সেই মহিলাকে সারা জীবন নিঃসন্তান থাকতে হবে।

এই সমস্ত বিশ্বাসের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যে নেই, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ভক্তেরা অতশত ব্যাখ্যার ধার ধারেন না। তাদের বিশ্বাসই সম্বল। গত নবরাত্রিতে যেমন মন্দির চত্বরে দেখা মিলল পাঞ্জাব থেকে আগত চঞ্চল কুমারীর। তিনি এসেছেন তার সন্তানহীন ননদকে নিয়ে। তিনি বললেন, ‘দু-বছর আগে এই মন্দিরে শুয়েই আমার ছেলে হয়। এ বার তাই নিয়ে এসেছি আমার ননদকে।’

সিমসা মাতা মন্দিরে বিস্ময়ের সামগ্রী আরও রয়েছে। মন্দিরের পাশেই দেখা মেলে একটি বিশালাকার পাথরের। বলা হয়, এই পাথরটিকে দু’হাতে প্রাণপণ ঠেলেএ একচুল নড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু ডান হাতের কড়ে আঙুলের সাহায্যে সামান্য ঠেললেই নাকি হেলে যায় পাথরটি। স্থানীয়রা তাই পাথরটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন। এবেলা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

এই মন্দিরে একরাত কাটালেই গর্ভবতী হয়ে পড়েন নারীরা

আপডেট টাইম : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬

বৈচিত্রের দেশ ভারত— সে শুধু সংস্কৃতি বা ভাষাগত বৈচিত্র নয়, বিশ্বাস ও আস্থার বৈচিত্রও। বহু ধরনের বিচিত্র বিশ্বাস ভারতে প্রচলিত রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে একেবারে ভিত্তিহীন বলে মনে হতে পারে। সেই রকমই এক বিশ্বাস গড়ে উঠেছে হিমাচল প্রদেশের সিমসা মাতা মন্দিরকে কেন্দ্র করে। বলা হয়, এই মন্দিরে এক রাত্রি কাটালেই নাকি নিঃসন্তান মহিলারা গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

হিমাচল প্রদেশের মন্ডি জেলার অন্তর্গত লাড়াভাদোল তহশিলে সিমসা মাতা মন্দিরের অবস্থান। কিন্তু শুধু হিমাচল নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্য পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই মন্দির প্রসিদ্ধ সন্তানদাত্রী মন্দির হিসেবে। কারণ মানুষের বিশ্বাস, এই মন্দিরে শতরঞ্জি পেতে শুয়ে থাকলে দৈবী কৃপায় সন্তান লাভ করেন নিঃসন্তান মহিলারা।

কী ভাবে কার্যকর হয় এই দৈবী কৃপা? নবরাত্রির সময়ে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে পালিত হয় বিশেষ উৎসব। ওই এলাকায় উৎসবটি পরিচিত সলিন্দরা নামে। স্থানীয়

ভাষায় ‘সলিন্দরা’ শব্দের অর্থ স্বপ্ন পাওয়া। এই উৎসবের সময়েই নিঃসন্তান দম্পতিরা আসেন এই মন্দিরে। পুরুষ নয়, শুধুমাত্র সন্তানাকাঙ্ক্ষী মহিলারা এই মন্দির চত্বরে শতরঞ্জি পেতে শুয়ে থাকেন দিনরাত। বলা হয়, দু’-এক রাত্রি শুয়ে থাকার পরেই মহিলাদের স্বপ্নের মাধ্যমে আশীর্বাদ করেন দেবী সিমসা মাতা। তার কৃপাতেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরে স্বপ্নপ্রাপ্ত মহিলাদের গর্ভসঞ্চার হয়।

অবশ্য এই মন্দিরে শুলেই যে দেবীর আশীর্বাদসূচক স্বপ্নদর্শন সম্ভব হবে, তা নয়। এমনকী স্বপ্ন দেখলেই যে সন্তানলাভ হবে, এমনটাও নয়। বলা হয়, দেবী যে স্বপ্ন দেন, তা হয় প্রতীকী ইঙ্গিতবাহী। সেই প্রতীকের অর্থোদ্ধার করতে পারলেই জানা সম্ভব, কোনও মহিলা সন্তান লাভ করবেন কি না। এমনকী আসন্ন সন্তানটি ছেলে হবে নাকি মেয়ে— তা-ও নাকি জেনে ফেলা সম্ভব।

কী রকম? বলা হয়, কোনও মহিলা যদি স্বপ্নে আম দেখেন, তা হলে তার পুত্রসন্তান হবে। আবার কোনও মহিলা যদি স্বপ্নে দেখেন ঢ্যাঁড়শ, তা হলে তিনি কন্যাসন্তানের জননী হবেন। আর যদি স্বপ্নে কোনও পাথর, ধাতু বা কাঠের টুকরো কিংবা এই সমস্ত উপাদানে তৈরি কোনও জিনিসের দর্শন মেলে, তা হলে সেই মহিলাকে সারা জীবন নিঃসন্তান থাকতে হবে।

এই সমস্ত বিশ্বাসের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যে নেই, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ভক্তেরা অতশত ব্যাখ্যার ধার ধারেন না। তাদের বিশ্বাসই সম্বল। গত নবরাত্রিতে যেমন মন্দির চত্বরে দেখা মিলল পাঞ্জাব থেকে আগত চঞ্চল কুমারীর। তিনি এসেছেন তার সন্তানহীন ননদকে নিয়ে। তিনি বললেন, ‘দু-বছর আগে এই মন্দিরে শুয়েই আমার ছেলে হয়। এ বার তাই নিয়ে এসেছি আমার ননদকে।’

সিমসা মাতা মন্দিরে বিস্ময়ের সামগ্রী আরও রয়েছে। মন্দিরের পাশেই দেখা মেলে একটি বিশালাকার পাথরের। বলা হয়, এই পাথরটিকে দু’হাতে প্রাণপণ ঠেলেএ একচুল নড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু ডান হাতের কড়ে আঙুলের সাহায্যে সামান্য ঠেললেই নাকি হেলে যায় পাথরটি। স্থানীয়রা তাই পাথরটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন। এবেলা