ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার নারীরা কি গাড়ি চালাতে পারবেন, ইসলাম কী বলে এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত, কর্তার ইচ্ছাই কর্ম হবে: অলি আহমদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য দিল্লি­ অপেক্ষা করছে: দীনেশ ত্রিবেদী চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য নিয়ে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ২ মির্জা ফখরুল আগাগোড়া একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব: অর্থমন্ত্রী নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া কৃষকদের জন্য নতুন তহবিল : ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ

গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে ৫০ শতাংশ কমেছে উৎপাদন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার

তীব্র গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলের প্রায় ২০টি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বেলা ১১টা থেকে দুপুরের খাবারের পর পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিভিন্ন ইউনিটের শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। এতে এসব কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভালুকা পৌর এলাকা ও গ্যাস অফিসের আশপাশের কারখানাগুলোতে কিছুটা গ্যাসের চাপ থাকলেও দূরবর্তী শিল্পকারখানাগুলোতে চাপ একেবারেই নেই। ফলে অধিকাংশ গ্যাসনির্ভর কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এ অঞ্চলের প্রধান শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, আজকে গ্যাসের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকার কারণে কয়েকটি কারখানার এক থেকে দুটি করে ইউনিট লাঞ্চের পরে ছুটি দিয়ে দিয়েছে। যেগুলোতে গ্যাসের কাজ বেশি, এমন আনুমানিক ২০টির মতো কারখানা ছুটি দিয়েছে। আমরা সেগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছি।

তিনি বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে একটু বেশি খারাপ অবস্থা ছিল। বেলা ১১টা থেকে ১২টার দিকে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। পরে লাঞ্চের পর কিছু কারখানার কয়েকটি ইউনিট ছুটি দিয়ে দেয়। আগামীকাল কী হবে, বুঝা যাচ্ছে না।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫ ময়মনসিংহ ইউনিটের আওতায় মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসচালিত। বর্তমানে গ্যাসচালিত কারখানাগুলোর প্রায় প্রতিটিই গ্যাসের তীব্র সংকটে রয়েছে।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকের বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় কম। এতে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শিল্প পুলিশের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো।

গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে মোট ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে। পিডিবির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাত্র সাতটি মেশিন চালু রাখতে পারছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসেও গ্যাস সংকটে ৩০টি মেশিন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

এ ছাড়াও বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি কমেছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।

শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, যে কারখানাগুলোতে গ্যাসচালিত ইউনিট আছে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সেই কারখানাগুলো দুপুরে খাওয়ার পরে ছুটি দিয়ে দেয়। গতকাল আশিক কম্পোজিট ছুটি দিয়ে দিয়েছিল। শেফার্ড গ্রুপ গতকাল ছুটি দিয়েছিল, আজকেও আংশিক ছুটি দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে কোনো কারখানা পুরো ছুটি দেয়নি। কিছু কারখানা পার্ট পার্ট ছুটি দিয়েছে।

তবে সব কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়নি। ভালুকার গজারিখাল এলাকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছুদিন যাবৎ চাহিদার তুলনায় গ্যাস কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে কারখানার উৎপাদনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আজকেও কোনো সমস্যা হয়নি।

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে কখনো কখনো মাত্র ৪০ থেকে ৫০-এ চলে আসে।

তিনি বলেন, সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। যেমন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তেমন করেই ভাগ ভাগ করে সাপ্লাই দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে

গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে ৫০ শতাংশ কমেছে উৎপাদন

আপডেট টাইম : ১১:২৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলের প্রায় ২০টি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বেলা ১১টা থেকে দুপুরের খাবারের পর পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিভিন্ন ইউনিটের শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। এতে এসব কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভালুকা পৌর এলাকা ও গ্যাস অফিসের আশপাশের কারখানাগুলোতে কিছুটা গ্যাসের চাপ থাকলেও দূরবর্তী শিল্পকারখানাগুলোতে চাপ একেবারেই নেই। ফলে অধিকাংশ গ্যাসনির্ভর কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এ অঞ্চলের প্রধান শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, আজকে গ্যাসের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকার কারণে কয়েকটি কারখানার এক থেকে দুটি করে ইউনিট লাঞ্চের পরে ছুটি দিয়ে দিয়েছে। যেগুলোতে গ্যাসের কাজ বেশি, এমন আনুমানিক ২০টির মতো কারখানা ছুটি দিয়েছে। আমরা সেগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছি।

তিনি বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে একটু বেশি খারাপ অবস্থা ছিল। বেলা ১১টা থেকে ১২টার দিকে গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। পরে লাঞ্চের পর কিছু কারখানার কয়েকটি ইউনিট ছুটি দিয়ে দেয়। আগামীকাল কী হবে, বুঝা যাচ্ছে না।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫ ময়মনসিংহ ইউনিটের আওতায় মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি কারখানা গ্যাসচালিত। বর্তমানে গ্যাসচালিত কারখানাগুলোর প্রায় প্রতিটিই গ্যাসের তীব্র সংকটে রয়েছে।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকের বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় কম। এতে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শিল্প পুলিশের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো।

গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে মোট ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে। পিডিবির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাত্র সাতটি মেশিন চালু রাখতে পারছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসেও গ্যাস সংকটে ৩০টি মেশিন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

এ ছাড়াও বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি কমেছে। এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।

শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, যে কারখানাগুলোতে গ্যাসচালিত ইউনিট আছে, গ্যাসের চাপ কম থাকায় সেই কারখানাগুলো দুপুরে খাওয়ার পরে ছুটি দিয়ে দেয়। গতকাল আশিক কম্পোজিট ছুটি দিয়ে দিয়েছিল। শেফার্ড গ্রুপ গতকাল ছুটি দিয়েছিল, আজকেও আংশিক ছুটি দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে কোনো কারখানা পুরো ছুটি দেয়নি। কিছু কারখানা পার্ট পার্ট ছুটি দিয়েছে।

তবে সব কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়নি। ভালুকার গজারিখাল এলাকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছুদিন যাবৎ চাহিদার তুলনায় গ্যাস কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে কারখানার উৎপাদনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আজকেও কোনো সমস্যা হয়নি।

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে কখনো কখনো মাত্র ৪০ থেকে ৫০-এ চলে আসে।

তিনি বলেন, সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। যেমন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তেমন করেই ভাগ ভাগ করে সাপ্লাই দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।