ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে জোবায়েদকে হত্যা, তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের স্কালোনির ধন্যবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ‘মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়’ শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষিতে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে আইফার্মারের সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

টিউশনির টাকা চাওয়ায় শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পাওনা টিউশনির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলশিক্ষিকাকে ঘরে আটকে দা দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়েছে এক ছাত্রীর মা। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম সিঁথি সীমিতা (২৮)। হামলায় তার মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী মা প্রিয়া বেগমকে (২৫) স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি প্রিয়া বেগমের সন্তানকে মাসে দেড় হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাস ধরে পড়াচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি টিউশনির পাওনা টাকা চাইলে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন। সোমবার সকালে পড়ানো শেষ করে চলে আসার সময় প্রিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে দা নিয়ে সিঁথির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

দরজায় জোড়া ছিটকিনি লাগানো থাকায় শিক্ষিকা সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তার সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তার মাথায় ১০টি কোপ লাগে, যেখানে চিকিৎসকদের ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া তার হাতের সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সিঁথির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা বলেন, মাথায় প্রথম কোপ দেওয়ার পর আমি দরজা খোলার চেষ্টা করি, কিন্তু সেদিন দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো ছিল। প্রিয়া কোপানোর সময় আমার গলার ও হাতের দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং বলছিল—‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস কেন? স্বর্ণ দে’।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী শিশু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এটি হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুট করার একটি পরিকল্পিত হামলা। অভিযুক্ত প্রিয়া এলাকায় আগেও এ ধরনের অপরাধ ঘটিয়েছেন। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

টিউশনির টাকা চাওয়ায় শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ১০ কোপ

আপডেট টাইম : ১১:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পাওনা টিউশনির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলশিক্ষিকাকে ঘরে আটকে দা দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়েছে এক ছাত্রীর মা। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নাম সিঁথি সীমিতা (২৮)। হামলায় তার মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারী মা প্রিয়া বেগমকে (২৫) স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি প্রিয়া বেগমের সন্তানকে মাসে দেড় হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাস ধরে পড়াচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি টিউশনির পাওনা টাকা চাইলে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন। সোমবার সকালে পড়ানো শেষ করে চলে আসার সময় প্রিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে দা নিয়ে সিঁথির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

দরজায় জোড়া ছিটকিনি লাগানো থাকায় শিক্ষিকা সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তার সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তার মাথায় ১০টি কোপ লাগে, যেখানে চিকিৎসকদের ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া তার হাতের সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সিঁথির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিঁথি সীমিতা বলেন, মাথায় প্রথম কোপ দেওয়ার পর আমি দরজা খোলার চেষ্টা করি, কিন্তু সেদিন দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো ছিল। প্রিয়া কোপানোর সময় আমার গলার ও হাতের দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং বলছিল—‘আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস কেন? স্বর্ণ দে’।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী শিশু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, এটি হত্যা করে স্বর্ণালংকার লুট করার একটি পরিকল্পিত হামলা। অভিযুক্ত প্রিয়া এলাকায় আগেও এ ধরনের অপরাধ ঘটিয়েছেন। এখন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক এমদাদুল কবির জানান, হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।