ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

কিশোরীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, দায় স্বীকার মায়ের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ২১ বার

গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে খুলনার শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে নির্জনা নামের এক কিশোরীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন কিশোরীর মা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং মেয়েটির স্বামী তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন। অথচ ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ঘটনার মোড় ঘুরে গেল সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে।

খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফান হোসেন নির্জনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন তাঁর মা সীমা আকতার। আজ শুক্রবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করে।

হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সীমা আকতার আজকের পত্রিকাকে জানান, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ এসে তাঁদের উভয়কে চুপ করতে বলেন।

সীমা আকতারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ে চুপ না থাকায় একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সীমা আকতার আরও জানান, এরপর বাবা ঘরের ভেতরে থাকা ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে মুড়িয়ে লাশটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যান।

সীমা আকতার জানান, গত ২১ এপ্রিল পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা উপজেলার আজগড়া এলাকার একটি ছেলেকে বিয়ে করায় নির্জনার ওপর তাঁরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিয়ের ১৭ দিন পর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। গত বুধবার সকালে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তাকে বুঝিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাঁর অবস্থান জানতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত মেয়েটির মা সকালে স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আগামীকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরবেন পুলিশ কমিশনার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

কিশোরীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, দায় স্বীকার মায়ের

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে খুলনার শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে নির্জনা নামের এক কিশোরীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন কিশোরীর মা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং মেয়েটির স্বামী তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন। অথচ ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ঘটনার মোড় ঘুরে গেল সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে।

খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফান হোসেন নির্জনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন তাঁর মা সীমা আকতার। আজ শুক্রবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করে।

হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সীমা আকতার আজকের পত্রিকাকে জানান, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ এসে তাঁদের উভয়কে চুপ করতে বলেন।

সীমা আকতারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ে চুপ না থাকায় একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সীমা আকতার আরও জানান, এরপর বাবা ঘরের ভেতরে থাকা ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে মুড়িয়ে লাশটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যান।

সীমা আকতার জানান, গত ২১ এপ্রিল পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা উপজেলার আজগড়া এলাকার একটি ছেলেকে বিয়ে করায় নির্জনার ওপর তাঁরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিয়ের ১৭ দিন পর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। গত বুধবার সকালে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তাকে বুঝিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাঁর অবস্থান জানতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত মেয়েটির মা সকালে স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আগামীকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরবেন পুলিশ কমিশনার।