ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

প্রাইভেটে যাওয়ার পথে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ, আটক ২

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ২০ বার

Oplus_16908288

মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে ঘটনার পর কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও নিহতের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহত কোহিনূর আক্তার মিঠামইন উপজেলার তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি কলেজপাড়া এলাকার মৃত ফজলু মিয়ার মেয়ে।

আটক দুজন হলেন উপজেলা সদরের মহরপুর বেরীবাঁধ এলাকার হৃদয় মিয়া (২০) এবং তার ফুফাতো বোনের স্বামী ইমরান হোসেন (২৫)।

ইমরানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

স্বজনদের ভাষ্য, গত শনিবার বিকেলে কোহিনূর প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। প্রতিদিনের মতো এক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।

পরদিন রোববার রাতে উপজেলার আবদুল হামিদ পল্লী সংলগ্ন নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পোশাক দেখে কোহিনূরের মা ও স্বজনরা মরদেহটি শনাক্ত করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নদীর স্রোতে মরদেহটি ভেসে যায়। ফলে এখনো তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের মা নাহার বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পাশের গ্রামের অটোরিকশাচালক হৃদয় মিয়া তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান বলে তিনি সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকেই হৃদয় বিভিন্নভাবে কোহিনূরকে বিরক্ত ও ফুসলানোর চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহার বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচার তো পরে, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের মরদেহটিও উদ্ধার করতে পারিনি।”

স্থানীয়রা জানান, কোহিনূরের বাবা প্রায় ছয় বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন তার মা। অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল পরিবারের।
প্রতিবেশীদের মতে, কোহিনূর অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। তারা দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, কোহিনূর বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত, মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন নির্মম মৃত্যুতে বিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তিনি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় জেলে আল-আমিন প্রথম নদীতে মরদেহটি দেখতে পান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা আকবর বাদশাহ বাবু ও মহরম আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান মরদেহটির দুই হাত ও দুই পা বাঁধা ছিল। তারা সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করায় মরদেহটি নদীর স্রোতে ভেসে যায়।

এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক দুই সন্দেহভাজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সব দিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

প্রাইভেটে যাওয়ার পথে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ, আটক ২

আপডেট টাইম : ০৩:৪৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে ঘটনার পর কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও নিহতের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহত কোহিনূর আক্তার মিঠামইন উপজেলার তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি কলেজপাড়া এলাকার মৃত ফজলু মিয়ার মেয়ে।

আটক দুজন হলেন উপজেলা সদরের মহরপুর বেরীবাঁধ এলাকার হৃদয় মিয়া (২০) এবং তার ফুফাতো বোনের স্বামী ইমরান হোসেন (২৫)।

ইমরানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

স্বজনদের ভাষ্য, গত শনিবার বিকেলে কোহিনূর প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। প্রতিদিনের মতো এক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।

পরদিন রোববার রাতে উপজেলার আবদুল হামিদ পল্লী সংলগ্ন নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পোশাক দেখে কোহিনূরের মা ও স্বজনরা মরদেহটি শনাক্ত করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নদীর স্রোতে মরদেহটি ভেসে যায়। ফলে এখনো তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের মা নাহার বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পাশের গ্রামের অটোরিকশাচালক হৃদয় মিয়া তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান বলে তিনি সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকেই হৃদয় বিভিন্নভাবে কোহিনূরকে বিরক্ত ও ফুসলানোর চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহার বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচার তো পরে, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের মরদেহটিও উদ্ধার করতে পারিনি।”

স্থানীয়রা জানান, কোহিনূরের বাবা প্রায় ছয় বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন তার মা। অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল পরিবারের।
প্রতিবেশীদের মতে, কোহিনূর অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। তারা দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, কোহিনূর বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত, মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন নির্মম মৃত্যুতে বিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তিনি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় জেলে আল-আমিন প্রথম নদীতে মরদেহটি দেখতে পান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা আকবর বাদশাহ বাবু ও মহরম আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান মরদেহটির দুই হাত ও দুই পা বাঁধা ছিল। তারা সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করায় মরদেহটি নদীর স্রোতে ভেসে যায়।

এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক দুই সন্দেহভাজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সব দিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।