ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

ভারতের টুরিস্ট ভিসা চালু, আবেদন করবেন যেভাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ১৬ বার

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় পর্যটন ভিসা (টুরিস্ট ভিসা) চালু করেছে ভারত। রোববার (২৮ জুন) থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে (আইভ্যাক) এই ভিসা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টুরিস্ট ভিসা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় পর আবারও এই সেবা চালু হওয়ায় ভ্রমণপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ও আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি জানান, পর্যটন ভিসা চালুর পাশাপাশি মেডিকেল ভিসা দ্রুত প্রসেস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে অন্যান্য আইভ্যাক কেন্দ্রেও ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে।

কীভাবে করবেন টুরিস্ট ভিসার আবেদন?
ভারতীয় টুরিস্ট ভিসার আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করতে হয়। প্রথমে ভারতের অফিসিয়াল ভিসা পোর্টালে প্রবেশ করে ‘সাধারণ ভিসা আবেদন’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর দেশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ’ এবং ভিসা টাইপ হিসেবে ‘পর্যটক ভিসা’ বেছে নিতে হবে।

এরপর আবেদনকারীর পাসপোর্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণ পরিকল্পনা ও পাসপোর্টের বিবরণ সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে একটি আবেদন আইডি বা ওয়েব ফাইল নম্বর পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতের সব কাজের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি।

আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত ফরম্যাটে একটি সাম্প্রতিক ছবি আপলোড করে ফর্ম প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করতে হবে।

টুরিস্ট ভিসার জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:
কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদসহ পাসপোর্ট এবং অন্তত ২টি খালি পৃষ্ঠা
পূর্ববর্তী পাসপোর্ট (থাকলে)
সাম্প্রতিক রঙিন ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র

পেশাভিত্তিক নথি :
চাকরিজীবীদের জন্য NOC বা অফিস প্রত্যয়নপত্র
ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স
শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বোনাফাইড সার্টিফিকেট

আর্থিক সক্ষমতার শর্ত
আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ন্যূনতম ১৫০ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট দেখাতে হবে। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপিও গ্রহণযোগ্য।

ফি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি
অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আইভ্যাকের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে হবে। এরপর আলাদা করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের স্লট আগের দিন সন্ধ্যা ৬টায় খোলা হয়। তবে স্লট বুক করতে হলে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হয়।

আইভ্যাকে আবেদন জমা ও বায়োমেট্রিক
নির্ধারিত দিনে আবেদনকারীকে পাসপোর্ট, প্রিন্টেড ফর্ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আইভ্যাক কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে প্রথমে কাগজ যাচাই, এরপর বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, ছবি ও আইরিশ স্ক্যান) সংগ্রহ করা হয়।

সবশেষে একটি রিসিপ্ট দেওয়া হয়, যা পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় প্রয়োজন হবে।

প্রসেসিং সময়
সাধারণত টুরিস্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কমপক্ষে ৩ কার্যদিবস সময় লাগে। তবে কাগজপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

সতর্কতা
আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকে না। তাই ফর্ম পূরণের সময় সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অ্যাপ্লিকেশন আইডি সংরক্ষণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

ভারতের টুরিস্ট ভিসা চালু, আবেদন করবেন যেভাবে

আপডেট টাইম : ১০:৪৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় পর্যটন ভিসা (টুরিস্ট ভিসা) চালু করেছে ভারত। রোববার (২৮ জুন) থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে (আইভ্যাক) এই ভিসা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টুরিস্ট ভিসা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় পর আবারও এই সেবা চালু হওয়ায় ভ্রমণপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ও আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি জানান, পর্যটন ভিসা চালুর পাশাপাশি মেডিকেল ভিসা দ্রুত প্রসেস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে অন্যান্য আইভ্যাক কেন্দ্রেও ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে।

কীভাবে করবেন টুরিস্ট ভিসার আবেদন?
ভারতীয় টুরিস্ট ভিসার আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করতে হয়। প্রথমে ভারতের অফিসিয়াল ভিসা পোর্টালে প্রবেশ করে ‘সাধারণ ভিসা আবেদন’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর দেশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ’ এবং ভিসা টাইপ হিসেবে ‘পর্যটক ভিসা’ বেছে নিতে হবে।

এরপর আবেদনকারীর পাসপোর্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণ পরিকল্পনা ও পাসপোর্টের বিবরণ সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে একটি আবেদন আইডি বা ওয়েব ফাইল নম্বর পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতের সব কাজের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি।

আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত ফরম্যাটে একটি সাম্প্রতিক ছবি আপলোড করে ফর্ম প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করতে হবে।

টুরিস্ট ভিসার জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:
কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদসহ পাসপোর্ট এবং অন্তত ২টি খালি পৃষ্ঠা
পূর্ববর্তী পাসপোর্ট (থাকলে)
সাম্প্রতিক রঙিন ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র

পেশাভিত্তিক নথি :
চাকরিজীবীদের জন্য NOC বা অফিস প্রত্যয়নপত্র
ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স
শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বোনাফাইড সার্টিফিকেট

আর্থিক সক্ষমতার শর্ত
আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ন্যূনতম ১৫০ মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট দেখাতে হবে। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপিও গ্রহণযোগ্য।

ফি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি
অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আইভ্যাকের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে হবে। এরপর আলাদা করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের স্লট আগের দিন সন্ধ্যা ৬টায় খোলা হয়। তবে স্লট বুক করতে হলে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হয়।

আইভ্যাকে আবেদন জমা ও বায়োমেট্রিক
নির্ধারিত দিনে আবেদনকারীকে পাসপোর্ট, প্রিন্টেড ফর্ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আইভ্যাক কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে প্রথমে কাগজ যাচাই, এরপর বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, ছবি ও আইরিশ স্ক্যান) সংগ্রহ করা হয়।

সবশেষে একটি রিসিপ্ট দেওয়া হয়, যা পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় প্রয়োজন হবে।

প্রসেসিং সময়
সাধারণত টুরিস্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কমপক্ষে ৩ কার্যদিবস সময় লাগে। তবে কাগজপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

সতর্কতা
আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকে না। তাই ফর্ম পূরণের সময় সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অ্যাপ্লিকেশন আইডি সংরক্ষণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।