ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

নদী থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই: পুলিশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ১১ বার

আশুলিয়া থেকে উদ্ধার হওয়া এক কিশোরের মরদেহ এবং তুরাগ নদীতে গোসল করতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, তুরাগ ও আশুলিয়া থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। আর সাতজনের মরদেহ উদ্ধারে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত তুরাগ নদী নিয়ে অপপ্রচার ও পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এসপি শামীমা পারভীন।

তিনি বলেন, গত ২৬ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানা পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় গরুহাটা ঘাট সংলগ্ন আশুলিয়া নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নিহতের ভাই মো. সালাহউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মরদেহ তার ভাই মো. সুমন (১৭) হিসেবে শনাক্ত করেন।

সুমন গত ২২ জুন দুপুরে ২০-২২ জন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে তুরাগ নদীতে নৌভ্রমণে বের হন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার গরুর হাট ঘাট এলাকায় নৌকা থেকে নামার সময় অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় তিনি স্রোতের সঙ্গে তলিয়ে যান। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২৬ জুন তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আশুলিয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন আরও বলেন, গত ২৪ জুন সাভারের রয়েল সিটি খেয়াঘাট এলাকায় তুরাগ নদীতে গোসল করতে নেমে রনি (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। স্থানীয়রা প্রায় ৩০ মিনিট পর পানির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে শাহআলী থানা পুলিশ ও আমিনবাজার নৌ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায়ও একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুটি ঘটনাই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব ঘটনায় ভিন্ন রং চড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে।

শামীমা পারভীন আরও জানান, অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তারা তৎপর। একই সঙ্গে জনসাধারণকে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচারকারীদের সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা ঢাকা জেলা পুলিশকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।

যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক রয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় খোঁজা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের কাজ অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধের প্রমাণ করে আসাকে আইনে আওতায় আনা। দুজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি।

ঢাকা জেলায় চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তিন মাসে মোট ১৭০টি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সংশ্লিষ্ট।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

নদী থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই: পুলিশ

আপডেট টাইম : ০৯:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

আশুলিয়া থেকে উদ্ধার হওয়া এক কিশোরের মরদেহ এবং তুরাগ নদীতে গোসল করতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, তুরাগ ও আশুলিয়া থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। আর সাতজনের মরদেহ উদ্ধারে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত তুরাগ নদী নিয়ে অপপ্রচার ও পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এসপি শামীমা পারভীন।

তিনি বলেন, গত ২৬ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানা পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় গরুহাটা ঘাট সংলগ্ন আশুলিয়া নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নিহতের ভাই মো. সালাহউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মরদেহ তার ভাই মো. সুমন (১৭) হিসেবে শনাক্ত করেন।

সুমন গত ২২ জুন দুপুরে ২০-২২ জন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে তুরাগ নদীতে নৌভ্রমণে বের হন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার গরুর হাট ঘাট এলাকায় নৌকা থেকে নামার সময় অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় তিনি স্রোতের সঙ্গে তলিয়ে যান। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২৬ জুন তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আশুলিয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন আরও বলেন, গত ২৪ জুন সাভারের রয়েল সিটি খেয়াঘাট এলাকায় তুরাগ নদীতে গোসল করতে নেমে রনি (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। স্থানীয়রা প্রায় ৩০ মিনিট পর পানির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে শাহআলী থানা পুলিশ ও আমিনবাজার নৌ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায়ও একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুটি ঘটনাই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব ঘটনায় ভিন্ন রং চড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে।

শামীমা পারভীন আরও জানান, অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তারা তৎপর। একই সঙ্গে জনসাধারণকে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচারকারীদের সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা ঢাকা জেলা পুলিশকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।

যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক রয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় খোঁজা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের কাজ অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধের প্রমাণ করে আসাকে আইনে আওতায় আনা। দুজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি।

ঢাকা জেলায় চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তিন মাসে মোট ১৭০টি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সংশ্লিষ্ট।