ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

আবারও বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কায় কৃষকের কপালে ভাঁজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:১০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ১২ বার

ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (গেট) খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানির স্তর বাড়তে থাকায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চল এবং পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বাদামখেত, আমন ধানের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। মাছের ঘের ও পুকুর নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে মৎস্যচাষিদের মধ্যে।

তিস্তাপারের কৃষক সোলাইমান গনি বলেন, “তিস্তার পানি বাড়ছে, আমরা আতঙ্কে আছি। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হবে।”

গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আহলাদ হোসেন বলেন, “সকাল থেকেই পানি বাড়ছে। শুনেছি ভারত পানি ছেড়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের আমনের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল ৩টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে তিস্তাপাড়ের মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার মৎস্যচাষি রাইসুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ করে পানি বাড়ছে, তার ওপর বৃষ্টিও হচ্ছে। পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আবার পানি কমলে নদীভাঙন শুরু হবে। কবে তিস্তার স্থায়ী সমাধান হবে, জানি না।”

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তা ও ধরলা নদীতে প্রতি বছরই উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানির স্তর বৃদ্ধি পায়। এতে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। চলমান পানি বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

আবারও বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কায় কৃষকের কপালে ভাঁজ

আপডেট টাইম : ০৯:১০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (গেট) খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানির স্তর বাড়তে থাকায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চল এবং পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বাদামখেত, আমন ধানের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। মাছের ঘের ও পুকুর নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে মৎস্যচাষিদের মধ্যে।

তিস্তাপারের কৃষক সোলাইমান গনি বলেন, “তিস্তার পানি বাড়ছে, আমরা আতঙ্কে আছি। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হবে।”

গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আহলাদ হোসেন বলেন, “সকাল থেকেই পানি বাড়ছে। শুনেছি ভারত পানি ছেড়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে চরাঞ্চলের আমনের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল ৩টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে তিস্তাপাড়ের মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার মৎস্যচাষি রাইসুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ করে পানি বাড়ছে, তার ওপর বৃষ্টিও হচ্ছে। পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আবার পানি কমলে নদীভাঙন শুরু হবে। কবে তিস্তার স্থায়ী সমাধান হবে, জানি না।”

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তা ও ধরলা নদীতে প্রতি বছরই উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানির স্তর বৃদ্ধি পায়। এতে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। চলমান পানি বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।