ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

নিজের মেয়ের নামেই অনুদানের টাকা নিলেন জামায়াত এমপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ১২ বার

নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের (বাচ্চু) ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের একটি তালিকা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ওই তালিকার দুই জায়গায় সংসদ সদস্যের নিজের মেয়ের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়া তালিকার সিংহভাগ সুবিধাভোগীই তার নিজের ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ির এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই সংসদ সদস্য।

শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি সরকারি চিঠি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। চিঠিটি ছিল সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান মঞ্জুরির পত্র। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ২১ জন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি দেওয়া হলো।

অনুদান পাওয়া ব্যক্তিদের সেই সারিবদ্ধ তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নামের এক তরুণীর নাম। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে লেখা রয়েছে যথাক্রমে ‘মো. বাচ্চু’ ও ‘মো. আতাউর’। দুটি নামের পাশেই টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘ফাইজা’ নামের ওই তরুণী সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজের মেয়ে।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজের ইউনিয়ন হবখালীর বাসিন্দা। অন্যদিকে, লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায়।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নড়াইল জেলা পরিষদে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া তালিকাটিকে সঠিক বলে গণমাধ্যমের কাছে নিজেই নিশ্চিত করেছেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান। তবে সব দোষ নিজের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) ওপর চাপিয়ে তার দাবি, এই তালিকার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

সংসদ সদস্য বলেন, আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না। আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। অফিস থেকে নাকি তাকে বলেছে, একটা তালিকা যেকোনোভাবে কয়েকটা নাম দিয়ে জমা দিয়ে বরাদ্দ নিয়ে যেতে, পরে এমপি সাহেব যেভাবে চাইবেন ওভাবে বিতরণ করতে পারবেন। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় পিএসের কাছে ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, তোমার চেনাজানাদের দিয়ে একটা তালিকা রেডি করে জমা দিয়ে দাও। সেই চেনাজানা জায়গায় সে আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি ধরে ফেলেছে আরকি।

সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, তার মেয়ের নামে টাকা আসার বিষয়টি তিনি জানতেনই না এবং ভাইরাল হওয়ার পর ইউএনও-র কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে। এই তালিকা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে না, আমি ইউএনও সাহেবদের প্রকৃত অভাবীদের নতুন তালিকা আজ দিয়ে দেব।

তবে সংসদ সদস্য নতুন তালিকায় টাকা দেওয়ার কথা বললেও আইনিভাবে সেটি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির।

ইউএনও জানান, এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ অনুমোদিত হয়ে এসেছে, নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তাদেরই টাকা দিতে হবে। এর বাইরে নতুন কোনো তালিকায় টাকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কেউ যদি টাকা নিতে না আসেন, তবে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। তালিকা সংশোধন করতে হলে পুনরায় সচিবালয় থেকেই করিয়ে আনতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

নিজের মেয়ের নামেই অনুদানের টাকা নিলেন জামায়াত এমপি

আপডেট টাইম : ১১:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের (বাচ্চু) ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের একটি তালিকা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ওই তালিকার দুই জায়গায় সংসদ সদস্যের নিজের মেয়ের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়া তালিকার সিংহভাগ সুবিধাভোগীই তার নিজের ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ির এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই সংসদ সদস্য।

শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি সরকারি চিঠি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। চিঠিটি ছিল সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান মঞ্জুরির পত্র। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ২১ জন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি দেওয়া হলো।

অনুদান পাওয়া ব্যক্তিদের সেই সারিবদ্ধ তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নামের এক তরুণীর নাম। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে লেখা রয়েছে যথাক্রমে ‘মো. বাচ্চু’ ও ‘মো. আতাউর’। দুটি নামের পাশেই টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘ফাইজা’ নামের ওই তরুণী সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজের মেয়ে।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজের ইউনিয়ন হবখালীর বাসিন্দা। অন্যদিকে, লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায়।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নড়াইল জেলা পরিষদে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া তালিকাটিকে সঠিক বলে গণমাধ্যমের কাছে নিজেই নিশ্চিত করেছেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান। তবে সব দোষ নিজের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) ওপর চাপিয়ে তার দাবি, এই তালিকার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

সংসদ সদস্য বলেন, আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না। আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। অফিস থেকে নাকি তাকে বলেছে, একটা তালিকা যেকোনোভাবে কয়েকটা নাম দিয়ে জমা দিয়ে বরাদ্দ নিয়ে যেতে, পরে এমপি সাহেব যেভাবে চাইবেন ওভাবে বিতরণ করতে পারবেন। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় পিএসের কাছে ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, তোমার চেনাজানাদের দিয়ে একটা তালিকা রেডি করে জমা দিয়ে দাও। সেই চেনাজানা জায়গায় সে আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি ধরে ফেলেছে আরকি।

সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, তার মেয়ের নামে টাকা আসার বিষয়টি তিনি জানতেনই না এবং ভাইরাল হওয়ার পর ইউএনও-র কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে। এই তালিকা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে না, আমি ইউএনও সাহেবদের প্রকৃত অভাবীদের নতুন তালিকা আজ দিয়ে দেব।

তবে সংসদ সদস্য নতুন তালিকায় টাকা দেওয়ার কথা বললেও আইনিভাবে সেটি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির।

ইউএনও জানান, এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ অনুমোদিত হয়ে এসেছে, নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তাদেরই টাকা দিতে হবে। এর বাইরে নতুন কোনো তালিকায় টাকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কেউ যদি টাকা নিতে না আসেন, তবে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। তালিকা সংশোধন করতে হলে পুনরায় সচিবালয় থেকেই করিয়ে আনতে হবে।