ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৯ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকারি ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্মান, সংসদকেন্দ্রিক গণতন্ত্র এবং দেশ গঠনে যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টা ২ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তাকে সমর্থন করছি। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলি এবং সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে ও বাস্তবায়ন করতে চাই। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব, সে ক্ষেত্রে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে দুটি দেশ সফর করেছেন, সেগুলো বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠুক। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই সব চুক্তি হওয়া উচিত। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না, আবার নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না।’

দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ; রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি। তৈরি পোশাক শিল্প ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বর্তমানে প্রধান রপ্তানি খাত হলেও রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের ওপরও জোর দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার মতে, এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়বে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সব চুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংসদের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও সরকারের সফলতা কামনা করেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

আপডেট টাইম : ১১:১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকারি ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্মান, সংসদকেন্দ্রিক গণতন্ত্র এবং দেশ গঠনে যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টা ২ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তাকে সমর্থন করছি। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলি এবং সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে ও বাস্তবায়ন করতে চাই। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব, সে ক্ষেত্রে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে দুটি দেশ সফর করেছেন, সেগুলো বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠুক। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই সব চুক্তি হওয়া উচিত। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না, আবার নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না।’

দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ; রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি। তৈরি পোশাক শিল্প ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বর্তমানে প্রধান রপ্তানি খাত হলেও রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের ওপরও জোর দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার মতে, এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়বে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সব চুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংসদের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও সরকারের সফলতা কামনা করেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।