ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে মিলল রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ২০ বার

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকের টাকা গননা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (২৭) সকালে মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খুলে দানের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ৪৩টি বস্তা ভরা হয়। পরে দিনভর চলে গণনার কাজ। দানসিন্দুকে টাকা ও স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কারের পাশাপাশি মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাও।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর এ মসজিদের দানসিন্দুকের ৩৫ বস্তা টাকা টাকা গণনা করে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

এবার ছয় মাসে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, এবারের গণনা শুরুর আগে পাগলা মসজিদের তহবিলে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা ছিল। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ৪৩টি বস্তায় ভরে এসব টাকা নেওয়া হয় ওই মসজিদের দোতলায়। সেখানে মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন ছাত্র, ১০ জন শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় টাকাগুলো গণনা করেছেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মসজিদের দানের অর্থ মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহ ছাড়াও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা। জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত তিনতলা মসজিদটি প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত।

কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী ১২ জন জমিদারের অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামক এক ব্যক্তি নরসুন্দার তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে ওই স্থানটিতে মসজিদটি নির্মিত হলে তার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে মিলল রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

আপডেট টাইম : ১১:০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকের টাকা গননা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। আজ শনিবার (২৭) সকালে মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক খুলে দানের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ৪৩টি বস্তা ভরা হয়। পরে দিনভর চলে গণনার কাজ। দানসিন্দুকে টাকা ও স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কারের পাশাপাশি মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাও।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর এ মসজিদের দানসিন্দুকের ৩৫ বস্তা টাকা টাকা গণনা করে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

এবার ছয় মাসে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, এবারের গণনা শুরুর আগে পাগলা মসজিদের তহবিলে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা ছিল। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ৪৩টি বস্তায় ভরে এসব টাকা নেওয়া হয় ওই মসজিদের দোতলায়। সেখানে মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন ছাত্র, ১০ জন শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় টাকাগুলো গণনা করেছেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মসজিদের দানের অর্থ মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহ ছাড়াও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা। জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত তিনতলা মসজিদটি প্রায় চার একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত।

কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী ১২ জন জমিদারের অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামক এক ব্যক্তি নরসুন্দার তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে ওই স্থানটিতে মসজিদটি নির্মিত হলে তার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।